রুশ প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রার্থী ভ্লাদিমির পুতিনের প্রকাশিত চারটি পরিকল্পনা মূলক প্রবন্ধ নিয়ে আলোচনা, বিরোধী পক্ষের সঙ্গে বিতর্ক – এই গুলি ও অন্যান্য বিষয় ছিল মস্কো শহরে মন্ত্রীসভার প্রধান ও দেশের রাজনীতি বিশেষজ্ঞদের মধ্যে আলোচনায় মনোযোগের কেন্দ্রে.

ভ্লাদিমির পুতিনের ২৫ জন রুশ রাজনীতি বিশেষজ্ঞের সঙ্গে আলোচনা হয়েছিল প্রায় চার ঘন্টা ধরে. খুবই উত্তপ্ত বিতর্ক হয়েছে গণ বিরোধ সমাবেশ নিয়ে. আমি সংখ্যা গরিষ্ঠ ব্যবস্থার পুনঃ প্রচলনের প্রয়োজন নিয়ে কথা বলেছি, বলে উল্লেখ করে রাজনীতি বিশেষজ্ঞ আন্দ্রোনিক মিগ্রানিয়ান বলেছেন:

"শুধু দলগত তালিকা অনুযায়ী নির্বাচন দেশের লোকসভাকে একেবারেই বিবর্ণ করে ফেলে, আর সংখ্যা গরিষ্ঠ ব্যবস্থায় নির্বাচন ও নির্বাচনের লড়াই কেন্দ্র গুলিতে স্থানীয় নাগরিক সমাজকে জন সমক্ষে সংগ্রামের জন্য সক্রিয় করতে সাহায্য করে. লোকসভায় উজ্জ্বল ও আগ্রহোদ্দীপক মানুষেরা এসে পড়বেন. তাদের থেকেই প্রশাসনের কাজকর্মের উপযুক্ত লোক খুঁজে পাওয়া সম্ভব হবে".

৪ঠা মার্চের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়েও কথা হয়েছে. দ্বিতীয় দফায় নির্বাচনের সম্ভাবনা ভ্লাদিমির পুতিন দেখছেন না, বলে ঘোষণা করেছেন ফলপ্রসূ রাজনীতি তহবিলের সভাপতি গ্লোব পাভলোভস্কি. পুতিন নিজের বিজয়ে বিশ্বাসী ও তিনি জানেন যে, তাঁর পরিকল্পনাই সবচেয়ে শক্তিশালী.

আলোচনার সময়ে প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্য সমালোচনাও বাদ পড়ে নি. উপস্থিত রাজনীতিবিদেরা তাঁর রুশী সংবাদপত্রে প্রকাশিত পরিকল্পনা মূলক প্রবন্ধ গুলি নিয়ে আলোচনা করেছেন. তিনি অনুরোধ করেছিলেন এগুলি পড়ে কি মনে হয়েছে. তা বলার. আমি আমার সহকর্মীরা এটা করেছি, এই কথা বলেছেন মার্কিন প্রতিরক্ষা তথ্য কেন্দ্রের রুশ ও এশিয়া বিভাগের ডিরেক্টর নিকোলাই জ্লোবিন:

"আমি যেমন, সেই গুলির কয়েকটি সম্বন্ধে সমালোচনা করে বলেছি. প্রাথমিক ভাবে অর্থনীতি নিয়ে ও শেষটিকে নিয়ে – গণতান্ত্রিক সমাজ গঠন নিয়ে. রাশিয়ার রাজনৈতিক সংশোধন নিয়ে কি করে কথা বলা যেতে পারে, যদি দেশের লোকসভা নিয়ে সেখানে একটিও কথা না থাকে".

বিরোধী পক্ষের শেষ সমাবেশ নিয়ে এই আলোচনাতে অনেক সময় দেওয়া হয়েছে. একদল বলেছে যে, বিরোধী সমাবেশে মস্কোতে বেরিয়েছিলেন মধ্যবিত্ত শ্রেণী, অন্যরা – যে সেখানে জড়ো হয়েছিলেন সমাজের খুব অল্প অংশই, ভীড় ছিল বহু রকমের মানুষেরই. ভ্লাদিমির পুতিন নিজে শুধু একটাই চেয়েছেন: যাতে, সমাবেশে যোগ দেওয়া মানুষেরা স্পষ্ট করে ঠিক করতে পারেন যে, তাঁরা প্রশাসনের কাছ থেকে কি আসলে চাইছেন, এই রকমই মনে করেছেন গ্লেব পাভলোভস্কি.

বিরোধী পক্ষের বক্তৃতা ঘিরে আলোচনা, আইন গুলিকে আবার করে দেখা নিয়ে প্রস্তাব, পরিকল্পনা গুলিকে নিয়ে সমালোচনা – এই সবই বলে দিচ্ছে যে, সরকার জনগনের সঙ্গে একসাথে বর্তমানের সমস্যা সমাধানের বিষয়ে আগ্রহী. এটাই ছিল এই বৈঠকের প্রধান উদ্দেশ্য বলে মনে করে রাজনীতিবিদ আন্দ্রোনিক মিগ্রানিয়ান বলেছেন:

"ভ্লাদিমির পুতিনের খুবই সঠিক বোধ রয়েছে যে, তাঁর নিজের স্রেফ ক্ষমতায় থাকার জন্যই ক্ষমতার প্রয়োজন নেই, তার দরকার সেই সব উদ্দেশ্য সাধনের জন্যই, যা তিনি নিজের সামনে রেখেছেন. তাঁর সামনে কাজ রয়েছে, আর তিনি তা করতেও চান. আর এর মানে হল সমাজের সঙ্গে উল্টো যোগাযোগ করা হবে, আর সমাজের থেকে পাওয়া ধাক্কা প্রশাসন মেনে নেবে. সরকার খুবই জোর দিয়ে দেশকে আধুনিক করবে".

আন্দ্রোনিক মিগ্রানিয়ান আরও বলেছেন যে, নতুন সব লোক ও ধারণা আসবে, কিন্তু মুখ্য হল – ভ্লাদিমির পুতিনের সেই বোধ রয়েছে যে, প্রশাসন খোলামেলা হওয়া দরকার ও নিজের ভুল সংশোধনের প্রয়োজন রয়েছে.