৪ঠা ফেব্রুয়ারী রাশিয়ার শহর গুলিতে হওয়া সমাবেশ ও মিছিল – স্বাভাবিক ও এমনকি ইতিবাচক ঘটনা. এটা রাশিয়ার সমাজের ক্রমবর্ধমান সামাজিক সক্রিয়তার প্রমাণ. প্রতিবাদের শনিবারের ফল এই ভাবেই বিশ্লেষকেরা মন্তব্য করেছেন. আর প্রশাসন, সব মিলিয়ে মনে হয়েছে যে, নিজেদের পরবর্তী পরিকল্পনায় এই ব্যাপারকে হিসেবের মধ্যে আনার চেষ্টা করতে চায়.

    গত বিশ বছর ধরে চলে আসা রুশ জনগনের রাজনৈতিক মোহ ও মনোভাব দেশের রাস্তায় ও চত্বরে খোলাখুলি ভাবেই বেরিয়ে এসেছে. এই সংঘর্ষ ছিল খুবই শান্তিপ্রিয় ও সভ্য: সবচেয়ে তীক্ষ্ণ অস্ত্র ছিল খোঁচা দেওয়া মন্তব্য ও বিরোধী পক্ষের স্লোগান.

    সমাবেশে রাশিয়ার প্রায় সব বড় শহরেই যেমন বিরোধী পক্ষের প্রতিনিধিরা, তেমনই বর্তমানের প্রশাসনের স্বপক্ষে থাকা লোকেরাও বেরিয়েছিলেন. সবচেয়ে বেশী লোকের সমাবেশ ও মিছিল, যেমন ধারণা করা হয়েছিল, তেমনই হয়েছে মস্কো শহরে: বালোতনায়া চকে বিরোধী পক্ষের হয়ে জমা হয়েছিল প্রায় ৪০ হাজার অংশগ্রহণকারী, আর পাক্লোন্নায়া গরা চত্বরে আমাদের হারানোর মতো কিছু আছে এই স্লোগানের পিছনে পুতিনের সমর্থকদের সমাবেশে প্রায় ১ লক্ষ ৪০ হাজার লোক জড় হয়েছিলেন. এটা পুলিসের পক্ষ থেকে দেওয়া সরকারি তথ্য, যা বিরোধী পক্ষের লোকেরা অস্বীকার করেছে: তাদের তথ্য অনুযায়ী বালোতনায়া চত্বরে এসেছিলেন ২ লক্ষ মানুষ আর পাক্লোন্নায়া গরা চত্বরে সরকার জোর করে লোকেদের ধরে এনেছিল.

    প্রধান সব দাবী, যা বিরোধী পক্ষের সমাবেশে করা হয়েছে – ডিসেম্বর মাসের লোকসভা নির্বাচনের ফল অস্বীকার করা, কেন্দ্রীয় নির্বাচনী পরিষদের প্রধান চুরভের পদত্যাগ, রাজনৈতিক ব্যবস্থার সংশোধন, সময়ের আগেই সত্ ও স্বচ্ছ ভাবে লোকসভা ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করা. সত্ নির্বাচনের কথা বলা হয়েছে পাক্লোন্নায়া গরা চত্বরেও, কিন্তু সেখানের ভাষণের যে সুর রয়ে গিয়েছে তা হল এই রকম: দেশকে ভাঙতে দেবো না, রাশিয়ার প্রয়োজন শক্তিশালী রাষ্ট্রপতি.

    সমাবেশ গুলি নিজের দিক থেকে ইতিবাচক ব্যাপার, এটা রাশিয়াতে সামাজিক সক্রিয়তা বৃদ্ধির লক্ষণ, এই রকম বিশ্বাস নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক মূল্যায়ণ ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর ইভগেনি মিনচেঙ্কো বলেছেন:

    "সেই বিরক্তির সময় কেটেছে, যখন মানুষে রাজনীতি থেকে হাত পা নেড়ে পালাতে চাইতেন. আজ লোকেদের সক্রিয় নাগরিক অবস্থান তৈরী হয়েছে, প্রসঙ্গতঃ বিভিন্ন রঙের সব রাজনৈতিক ধারণা নিয়েই – এটা ইতিবাচক সঙ্কেত. দেখাই যাচ্ছে যে, দুই পক্ষেই নেতৃত্বের অভাব রয়েছে. যে সমস্ত লোক বালোতনায়া বা পাক্লোন্নায়া গরা চত্বরে বক্তৃতা দিয়েছেন, তাঁদের মধ্যে কেউই দেশের বেশীর ভাগ লোকের জন্য প্রভাবশালী নন".

    বিশ্লেষকেরা উল্লেখ করেছেন যে, বিরোধী পক্ষের সমাবেশ ডিসেম্বর মাসের বিরোধী সমাবেশের পুনরাবৃত্তি হয়েছে. জিগির সেই সবই রয়েছে, যদিও গত দুই মাস ধরে বিরোধী পক্ষ সক্রিয়ভাবে আলোচনা করেছে. যা বিরোধী পক্ষের প্রধান দাবী- সত্ ও স্বচ্ছ নির্বাচন করতে দেওয়ার, - তার জন্য প্রশাসন এখনই বড় পদক্ষেপ নিয়েছে. তার ওপরে রেটিং বিচার করলে, প্রশাসনের ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীর জন্যই বেশী করে প্রয়োজন নির্বাচন প্রক্রিয়াতে সর্বাধিক স্বচ্ছতা, বলে মনে করেছেন বিশেষজ্ঞরা. মনে করিয়ে দিই যে, সমস্ত রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থীদের প্রাক্ নির্বাচনী দপ্তর বিরোধী পক্ষের তৈরী ভোটার লীগের প্রস্তাব মেনে নিয়েছে – ভোট গ্রহণ কেন্দ্র গুলিতে সবচেয়ে বেশী সংখ্যক পর্যবেক্ষক দেওয়ার. প্রসঙ্গতঃ, ফলপ্রসূ রাজনীতি তহবিলের জেনেরাল ডিরেক্টর কিরিল তানায়েভ যেমন মনে করেছেন যে, এই সমাবেশ গুলিতে সেই সক্রিয় লোকেরাই তৈরী হয়েছেন, যারা ৪ঠা মার্চের নির্বাচনের সময়ে এই পর্যবেক্ষক দলের মূল অংশ হবেন. আর ভবিষ্যতে, রাজনীতিবিদ যেমন মনে করেছেন, হয়তো, তারাই নতুন রাজনৈতিক দলগুলির মূল কাঠামো তৈরী করবেন.

    রাষ্ট্রপতি পদের জন্য প্রার্থীদের সম্বন্ধে যা বলা যায়, তা হল শুধু মিখাইল প্রোখোরভকে বালোতনায়া চত্বরে হাজির হতে দেখা গিয়েছিল. ব্যবসায়ী নিজে কোন ভাষণ দিতে চান নি, কিন্তু মিছিলে হেঁটেছেন. ভ্লাদিমির ঝিরিনোভস্কি একই সময়ে পুশকিন স্কোয়ারে নিজের সমাবেশ করেছেন, অগ্নিবর্ষী বক্তৃতা দিয়ে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক দলের নেতা প্রায় হাজার খানেক দলের সমর্থকদের মনোযোগ আকর্ষণ করেছেন. "ন্যায়বাদী রাশিয়া" দলের নেতা সের্গেই মিরোনভ ও রাশিয়ার কমিউনিস্ট পার্টির নেতা গেন্নাদি জ্যুগানোভ সমাবেশে যোগ দিতে অস্বীকার করেছেন. প্রথম জন ব্যাখ্যা করেছেন যে বিরোধী পক্ষের মধ্যে ঐক্য নেই আর দ্বিতীয় জন মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, ডিসেম্বর মাসের মিছিলের আয়োজকেরা তাঁরে ভাষণ দিতে দেন নি. প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন এই দিনে তাঁর বাতিল অযোগ্য কাজ থাকায় চেলিয়াবিনস্ক রাজ্যে ছিলেন. তা স্বত্ত্বেও ৪ঠা ফেব্রুয়ারীর সমাবেশ প্রাক্ নির্বাচনী প্রচারের অংশ হয়েছে বলে মনে করে জাতীয় স্ট্র্যাটেজি ইনস্টিটিউটের সভাপতি মিখাইল রেমিজোভ বলেছেন:

    "বিরোধী পক্ষের জোটের সমাবেশ বাস্তবে আসন্ন নির্বাচন নিয়েই হয়েছিল. এক রকম ভাবে এটা ছিল একজন প্রার্থীর বিরুদ্ধে জনমত তৈরী করা – সুতরাং অন্যান্য প্রার্থীদের পক্ষে করা. বিরোধীদের ভোটে হাজির করা. এটা আগে হওয়া সমস্ত রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রাক্ নির্বাচনী প্রচার যে বিষয়ে আমরা অভ্যস্ত ছিলাম, তার চেয়ে এখনকার প্রচার কে আলাদা করে দিয়েছে, তাই রাজনৈতিক প্রক্রিয়াকে আরও উত্তেজক করেছে".

    সে যাই হোক না কেন, সমাবেশ গুলি আরও একবার দেখিয়ে দিয়েছে: রাশিয়ার রাজনৈতিক ব্যবস্থায় সংশোধন – বাস্তব প্রয়োজনীয় বিষয়. ক্রেমলিনে এটা বোঝে, এই বিষয়ে অনেকদিন ধরেই বলা হয়েছে ও বেশ কিছু পদক্ষেপও নেওয়া হয়েছে. আর রাজনীতি বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, এই বিতর্ক ও সমাবেশ, যেগুলিতে আসলে সত্যের জন্ম হচ্ছে, তা রাজনৈতিক সংশোধনকেই এগিয়ে নিয়ে আসছে.