ইরান ভারতকে তাদের কাছ থেকে কেনা খনিজ তেলের জন্য শতকরা ৪৫ ভাগের দাম ভারতীয় টাকায় দিতে স্বীকৃতী দিয়েছে. এই ভাবে ইরান ও ভারত মার্কিন ও ইউরোপীয় সঙ্ঘের গৃহীত ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা পার হতে পেরেছে, যা উপরোক্ত জোট ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা সম্পর্কে সন্দেহের বশবর্তী হয়ে নিয়েছে. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    ওয়াশিংটনের ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞার জন্য শুধু ইরানই নয়, সেই সমস্ত দেশও কষ্ট পাচ্ছে, যারা ইরান থেকে খনিজ তেল কেনে. এটা শুধু ভারতই নয় ও চিন, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া, তুরস্কও রয়েছে. ভারত প্রতি বছরে ইরান থেকে ১৩ বিলিয়ন ডলার মূল্যের তেল কেনে, যা দেশের সামগ্রিক আমদানীর শতকরা ১২ শতাংশ. ভারতের জন্য সৌদি আরবের পরে ইরান দ্বিতীয় রপ্তানী কারক দেশ. ইরানের থেকে তেল কেনা বন্ধ হলে ভারতের অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়নের গতি ব্যাহত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে, এই কথা উল্লেখ করে প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মী ফেলিক্স ইউরলভ বলেছেন:

"ভারতের জন্য ইরানের থেকে খনিজ তেল বন্ধ করা খুবই কঠিন অর্থনৈতিক পরিনামের কারণ হতে পারে. তাই তারা যে কোন ভাবে এই খনিজ তেলের আমদানী চালু রাখতে চাইছে, পশ্চিমের সঙ্গে কোন বড় মাপের বিরোধ না করেই. আমি মনে করি যে, এর পরেও ভারত ইরানের খনিজ তেল কিনতে চাইবে".

ইরানের ইচ্ছে নয়, ভারতীয় মুদ্রায় এই তেল বিক্রয়ের, কারণ বিগত সময়ে এই মুদ্রার দাম কমেছে. ইরান জানুয়ারী মাসে জাপানের ইয়েন মুদ্রার বিনিময়ে তেল বিক্রয়ের কথা তুলেছিল. তা স্বত্ত্বেও তারা ছাড় দেওয়ার পথেই চলেছে. এই দাম দেওয়া হবে ভারতের সবচেয়ে পুরনো সংযুক্ত বাণিজ্যিক ব্যাঙ্ক ইউকো ব্যাঙ্কের মাধ্যমে, যাদের প্রধান দপ্তর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের রাজধানী কলকাতাতে রয়েছে. এই ব্যাঙ্ক হঠাত্ করেই বেছে নেওয়া হয় নি- ভারতের বাইরে এই ব্যাঙ্ক শুধু রয়েছে হংকং, চিন ও সিঙ্গাপুরে, আর তাই পশ্চিমের দেশ গুলি এই ব্যাঙ্কের বিরুদ্ধে কোনও নিষেধাজ্ঞা বা তাদের অ্যাকাউন্ট অ্যারেস্ট করতে পারবে না. এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দিল্লী ও তেহরানের মধ্যে আলোচনার পরে, যা চলেছিল তিন মাসের বেশী সময়. ভারতের খনিজ তেল ও গ্যাস মন্ত্রী জয়পাল রেড্ডী খনিজ তেলের জন্য দাম দেওয়ার বিষয়ে অংশতঃ ভারতীয় টাকায় দেওয়া সম্ভব হয়েছে, এই প্রসঙ্গে উল্লেখ করেছেন যে, "ইরান এই বিষয়ে সহমত হয়ে খুবই সহমর্মীতা দেখিয়েছে. ভারতের নেতৃত্ব মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় সঙ্ঘের একতরফা নিষেধাজ্ঞা বাধ্য নয়".

চিনও ওয়াশিংটনের ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা মানতে তৈরী নয়. তারা ইরানের খনিজ তেলের পরিবর্তে অংশতঃ চিনে তৈরী জিনিস ও প্রযুক্তি এবং অর্থনৈতিক বিষয়ে সহযোগিতা দিয়ে করতে চেয়েছে. চিনের জাতীয় সবার প্রধান ভেন জিয়াবাও মনোযোগ আকর্ষণ করে বলেছেন যে, ইরান বিগত সময়ে ছয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করার বিষয়ে সহমত প্রকাশ করেছে ও মনে করেছে এটা প্রয়োজনীয়. জাপানও এখন এই নিষেধাজ্ঞা থেকে খুশী হতে পারে নি. তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আবেদন করেছে খনিজ তেল সংক্রান্ত কিছু নিষেধাজ্ঞা সংক্রান্ত বিষয় থেকে তাদের আপাততঃ রেহাই দিতে. এই অবস্থা থেকে বের হওয়ার পথ খুঁজছে আরও কিছু ইরান থেকে তেল আমদানী করা দেশ, যারা ইরানের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞায় যোগ দিতে তাড়া করছে না. এই সবই বলে দিচ্ছে যে, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে ইরানের বিরুদ্ধে নেওয়া নিষেধাজ্ঞার ক্ষমতা কমে আসছে ও তা ওয়াশিংটনের আশানুরূপ ফল দেবে না.