বুধবারে ভারতের সবচেয়ে ঘন জন বসতি পূর্ণ রাজ্য উত্তর প্রদেশে বিধানসভা নির্বাচন হতে চলেছে, যা সাতটি অধ্যায়ে মার্চ মাস পর্যন্ত চলবে. সমস্ত রাজনৈতিক বিশ্লেষকের নজর এই দিকে নিবদ্ধ, কারণ সকলেই চেষ্টা করবে বুঝতে যে, এই রাজ্যের নির্বাচনের ফলাফল কিভাবে ২০১৪ সালের দেশে লোকসভা নির্বাচনে প্রভাব ফেলবে.

    এই রাজ্যের জনসংখ্যা – ২০ কোটিরও বেশী মানুষ. যদি এটি হঠাত্ই কোন স্বাধীন রাষ্ট্রে পরিনত হয়, তবে জনসংখ্যার দিক থেকে এটি বিশ্বে পঞ্চম দেশে পরিনত হবে. এখানে বাড়িয়ে বলা হবে না, যদি বলা হয় যে, এই রাজ্য ভারতবর্ষের একটি ক্ষুদ্র রূপ, যেখানে যেন আয়নায় (আর অনেক সময়ই তা বাঁকা) দেশের সমস্ত বিরোধীতা ও সমস্যা প্রতিফলিত হয়ে থাকে, এই কথা উল্লেখ করে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি বলেছেন:

    "এই রাজ্য ভারতের গড় জাতীয় আয়ের সূচকে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে. আবার সেই একই সময়ে দেশের একটি পেছিয়ে পড়া ও নৈরাশ্যের এলাকা হয়ে রয়েছে. এখানে দারিদ্রের স্তর – ভারতের একটি সবচেয়ে বেশী মাত্রা.

    এই রাজ্য, যেখানে ভারতের সমস্ত ধর্মের বিশ্ব পরিচিত পবিত্র স্থান গুলি রয়েছে, আবার যেখানে একই সময়ে দেশের বড় এক অংশ জনতা রয়েছে অত্যাচারিত ও অধিকার বিহীণ জাতপাতের প্রশ্নে নির্যাতিত ধর্মীয় গোষ্ঠীতে.

    রাজনৈতিক ভাবে এই রাজ্য নেহরু – গান্ধী পরিবারের পৈতৃক সম্পত্তি বলা যেতে পারে. এই রাজ্যের কেন্দ্র থেকেই লোকসভা নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে পরিবারের লোকেরা এসেছেন. আবার একই সময়ে ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস বেশ কয়েক দশক ধরেই এখানে ভোটে সংখ্যা গরিষ্ঠ হতে পারে নি. আর ২০০৭ সালের বিধানসভা নির্বাচনে শুধু চতুর্থ স্থানেই ছিল".

    এই রাজ্যের সমস্ত পরস্পর বিরোধী বিষয় ঘনীভূত ভাবে রাজ্যে মুখ্য মন্ত্রী ও বহু জন সমাজবাদী দলের নেতৃ মায়াবতী হিসাবে প্রকাশ পেয়েছে. ২০০৯ সালে তাঁর জনপ্রিয়তা এতই বেশী ছিল যে, তাঁকে সারা দেশ জুড়ে নির্বাচনের সময়ে ভাবা হয়েছিল সম্ভাব্য প্রধানমন্ত্রী হিসাবে. কিন্তু ভারতীয় জাতীয় কংগ্রেস যা ভাবা হয়েছিল, তার চেয়ে ফল করেছিল অনেক ভাল, আর তাঁর পক্ষে রাজ্যের স্তর থেকে আর জাতীয় স্তরে উত্তরণ সম্ভব হয় নি.

    এই প্রসঙ্গে ভলখোনস্কি মনে করেছেন যে, মায়াবতী একেবারেই আঞ্চলিক নেত্রী নন, তিনি দলিত ও অচ্ছ্যুতদের প্রতিনিধিত্ব করছেন, তাই তাঁর তাত্পর্য দেশের কাছে ছিল. কিন্তু সা্ম্প্রতিক কালে দুর্নীতির অভিযোগে তাঁর জনপ্রিয়তাও কমছে ও রাজ্য জুড়ে বিভিন্ন জায়গায় তাঁর মূর্তি স্থাপন জুড়েও প্রচুর বিক্ষোভ হয়েছে.

    মনে করা হয়েছে আগামী ২০১৪ সালে দেশে নতুন লোকসভা নির্বাচনের পরে যে, মন্ত্রীসভা গড়া হবে, তার নেতৃত্বে রাহুল গান্ধী আসতে পারেন, তিনি এই উত্তর প্রদেশ নির্বাচনে প্রচুর শক্তি ও সময় ব্যয় করেছেন. এখন দেখার বিষয় হল যে, ফলাফলে তাঁর পরিশ্রম ও জনপ্রিয়তা কতখানি প্রতিফলিত হয়. যদি এখানে ব্যর্থ হন, তবে হয়ত রাহুল গান্ধীকে নিজের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার সময় পেছিয়ে দিতে হবে.

আপাততঃ প্রাক্ নির্বাচনী জনমত কোন একটি দলকেও সংখ্যাগরিষ্ঠতা দিচ্ছে না, তাই সকলকেই অপেক্ষা করে থাকতে হবে নির্বাচনের ফলাফল বের হওয়া পর্যন্ত.