"ফোবোস গ্রুন্ত" মহাকাশযানের অসাফল্যের পরে রাশিয়া আন্তর্গ্রহ অনুসন্ধানের পরিসরকে ছোট করে ফেলবে না. শুধু চন্দ্র, শুক্র ও অন্যান্য মহাকাশ পাড়ীর সময়কেই সরিয়ে দেওয়া হবে. রাশিয়ার বিজ্ঞানীদের মতামত অনুযায়ী এই অসফল প্রকল্প আবার করা উচিত্ হবে, আর এই বিষয়ে তাঁদের সহায়তা করতে তৈরী হয়েছেন ইউরোপের সহযোগীরা.

    রাশিয়ার নিজের জন্য এক সংক্ষিপ্ত পরিসরের বৈজ্ঞানিক তল দখল করে রেখেছে, সেই ১৯৮৮ সালে মঙ্গলের উপগ্রহ ফোবোসের দিকে নিজেদের প্রথম মহাকাশ যান পাঠিয়ে, যা অন্যান্য দেশের মনোযোগের বাইরেই রয়ে গিয়েছিল. সেই যাত্রা অর্ধের সফল হয়েছিল: একটি যান হারিয়ে গিয়েছিল, কিন্তু অন্যটি মঙ্গল গ্রহের কাছে চার মাস ধরে কাজ করেছিল, খুবই ভাল ফল দিয়েছিল ও শুধু ফোবোসের কাছে পৌঁছনোর সময়ে হারিয়ে গিয়েছিল. "ফোবোস- গ্রুন্ত" মিশন অবশ্য এই উপগ্রহের থেকে পদার্থ সংগ্রহ করে পৃথিবীতে ফিরিয়ে আনার বিষয়ে অনেক বেশী প্রত্যাশার ছিল. এই কাজ করা সম্ভব হয় নি, আর এটা নতুন মিশনের কারণ হয়েছে, বলে মনে করে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর মহাকাশ গবেষণা ইনস্টিটিউটের অ্যাকাডেমিক লেভ জিলিওনী বলেছেন:

    "মহাকাশ গবেষণার ইতিহাসে অনেক দূর্ঘটনা ঘটেছে. আমেরিকার, ইউরোপের যান নিয়ে, প্রথম দিকে সোভিয়েত পরিকল্পনার ক্ষেত্রেও. ১৯৯৬ সালে ইউরোপীয় প্রকল্প ক্লাস্টারের চারটি উপগ্রহ প্রশান্ত মহাসাগরে ভেঙে পড়েছিল. কিন্তু এই সংস্থার পক্ষে সব সময়েই তাদের ব্যর্থ কাজের পুনরাবৃত্তি করা একটা চারিত্রিক দৃঢ়তার উদাহরণ ছিল. পুনরাবৃত্তি করা হয়েছিল মঙ্গলের মেরুতে অবতরণের প্রকল্প, কিছু দিন আগের ফেনিক্স প্রকল্প তারই পুনরাবৃত্তি ছিল. রুশ রকেট ব্যবহার করে চার বছর পরে ক্লাস্টারের পুনরাবৃত্তি করা হয়েছিল".

    ফোবোসের জন্য নতুন মিশনের পক্ষে ভাল হবে ২০১৮ সাল – মঙ্গলের সঙ্গে আরও একটি প্রতিদ্বন্দ্বীতার বছর. পরে আর করা যাবে না. এই গ্রহের দুটি উপগ্রহ ফোবোস ও ডেইমোস লক্ষ্য করে উপগ্রহ পাঠানোর কথা এর মধ্যেই ভাবছেন বিদেশী সহকর্মীরা. আগামী বছর গুলিতে রুশ বিজ্ঞানীদের প্রাথমিক পরিকল্পনায় থাকছে চন্দ্র অভিযান. লেভ জিলিওনী এই প্রসঙ্গে আরও বলেছেন:

    "চাঁদ আমরা যে রকম ভেবে ছিলাম, তার থেকে একেবারেই আলাদা রকমের, - একেবারেই বিরক্তি রকমের শুকনো নয়. তার মেরু অঞ্চলে চাপা রয়েছে জলের বরফ. সেই গুলির গবেষণার জন্যই আমাদের পরিকল্পনা. এটা রাশিয়ার কৃত্রিম উপগ্রহকে চাঁদের উত্তর ও দক্ষিণ মেরুতে নামানো. আর দুটি চাঁদের কক্ষপথে থাকা উপগ্রহ – একটি ভারতীয় ও অন্যটি রুশ. ভবিষ্যতে এটা চাঁদকে সম্পূর্ণ ভাবে জানার পথে একটি ধরণ হবে. এই প্রকল্প গুলির পরিকল্পনা রয়েছে ২০১৪- ২০১৫ সালে. ফোবোস গ্রুন্ত প্রকল্পের অসফল হওয়াতে যে সমস্ত সমস্যা এখন সামনে এসেছে, তাতে চন্দ্র অভিযানের বহু বিষয়েই এখন নতুন করে কাজ করতে হবে, কারণ সেগুলিও ফোবোসের মতো করে আগে তৈরী হয়েছিল. সুতরাং সময় প্রায় এক বছর পেছিয়ে যাবে".

    রাশিয়া শুক্র গ্রহ গবেষণা থেকেও হঠে যাবে না. শুক্র – ডি নামের আগ্রহ জনক প্রকল্প বর্তমানে বিশের দশকের দিকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে. এখন খুবই জটিল সমস্যার সমাধান করতে হবে: এই মহাকাশ যান শুক্র পৃষ্ঠের প্রায় পাঁচশো ডিগ্রী উষ্ণতার মধ্যে কয়েক মিনিট. ঘন্টা নয়, কয়েক দিন যাতে টিকে থাকতে পারে, তার ব্যবস্থা করা হচ্ছে. বৃহস্পতির উপগ্রহ হানিমেড অভিযানের কথাও হচ্ছে. ইউরোপীয়রা সেখানে কক্ষপথের উপগ্রহ পাঠাবে, যা রাশিয়ার উপগ্রহের জন্য উপযুক্ত জায়গা খুঁজে বার করবে. এই উপগ্রহে বরফ রয়েছে, যেখানে কোন রকমের জীবনের অস্তিত্ব থাকতেই পারে.

    কিন্তু এখনই, যতক্ষণ না নিজেদের কোন যান পাঠানো হচ্ছে, গবেষণা থেমে নেই. রাশিয়া অন্যান্য সংস্থার কৃত্রিম উপগ্রহের মধ্যে নিজেদের যন্ত্রপাতি বসাচ্ছে. ইউরোপীয় উপগ্রহের মধ্য যন্ত্র রয়েছে, যা শুক্র গ্রহের কাছে কাজ করবে. দুটি অভিযান তৈরী হচ্ছে বুধের উদ্দেশ্য – জাপানী ও ইউরোপীয়. দুটিতেই রাশিয়ার যন্ত্র থাকছে.

0    আজ, বিজ্ঞানীদের মতে, রাশিয়ার প্রয়োজন মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট লক্ষ্যের বিষয়ে পরম্পরা রেখে পরিকল্পনার. তখন বৈজ্ঞানিক প্রকল্প গুলি, যা আগে করা হয়েছে হঠাত্ করেই, তা একটা নির্দিষ্ট ধারায় বহমান হবে. এই দলিল একসাথে রাশিয়ার বিজ্ঞান একাডেমী ও রসকসমস সংস্থা তৈরী করছে. বাস্তবে এটা ২০২৫ সাল পর্যন্ত বৈজ্ঞানিক ক্ষেত্রে সংশোধিত রাষ্ট্রীয় মহাকাশ গবেষণা পরিকল্পনা. দেড় মাস বাদে এই প্রকল্পের কাজ শেষ হতে চলেছে.