রাশিয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের চুড়ান্ত প্রচারনা শুরু হয়েছে।রুশিরা ৪ ফেব্রুয়ারি একটি ধারাবাহিক রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করেছেন।রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের ভ্লাদিভাস্তক থেকে সর্বোচ্চ পশ্চিম প্রান্তের অধিকাংশ শহরে ক্ষমতাসীন সরকারের সমর্থক ও বিরোধীদলের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়েছে।তবে,আগামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পুতিনের সমর্থনে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক লোকজন উপস্থিত হন।শীতের এই মৌসুমে বাইরে মাইনাস ১৫ ডিগ্রী সেলসিয়াস তাপমাত্রা সত্বেও পুতিনের সমর্থনে আয়োজিত সমাবেশে ১ লাখ ২০ হাজার মানুষ জড়ো হয়েছেন।‘বিশৃঙ্খলা নয়,পুতিনকে-হ্যাঁ’,‘রাশিয়াকে বিভক্ত হতে দেব না ও ‘দেশে সোভিয়েত ইউনিয়নের ভাগ্যের পুনরাবৃত্তি ঘটবে না’-এ ধরনের লেখা সম্বলিত বিভিন্ন প্লাকার্ড ভ্লাদিমীর পুতিনের সমর্থকদের হাতে দেখা যায়।

‘স্বচ্ছ নির্বাচনের পক্ষে’রাজধানীতে আয়োজিত এবারের এ সমাবেশ পূর্বে অনুষ্ঠিত হওয়া ২টি সমাবেশকেই পিছনে ফেলেছে।অংশগ্রহনকারীদের সংখ্যার দিক দিয়ে তা নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে।বিরোধীদলের সমাবেশ আয়োজকদের মতে,প্রতিবাদ কর্মসূচিতে ১ লাখ ২০ হাজারেরও অধিক সমর্থক উপস্থিত ছিলেন।তবে,পুলিশ জানায়,বিরোধীদলের ৪০ হাজারের মত সমর্থক জড়ো হয়েছেন।সমাবেশে যে সব দাবী জানানো হয় তার মধ্যে ছিল-ডিসেম্বরে পার্লামেন্ট নির্বাচনের ফলাফল বাতিল,কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগ,আগামী মার্চ মাসে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া রাষ্ট্রপতি নির্বাচন সুষ্ঠভাবে আয়োজন নিশ্চত করা ইত্যাদি।সমাবেশে ভ্লাদিমীর পুতিনের পদত্যাগেরও দাবী তোলা হয়।

সামগ্রিক দিক দিয়ে পুরো রাশিয়ায় বিভিন্ন রাজনৈতিক কর্মসূচিতে প্রায় ২ লাখ ৩০ হাজার মানুষ অংশ নিয়েছেন।পুলিশের বিরুদ্ধে কোন প্রকার অসন্তুষ্টির খবর পাওয়া যায় নি।স্বাধীন পর্যবেক্ষকদের মতে,পুলিশ তাদের দায়িত্ব সঠিকভাবে পালন করেছে।

তবে,স্মরণ করিয়ে দিচ্ছি যে,আগামী ৪ মার্চ রুশিরা ৫ জন প্রার্থীর মধ্যে ১ জনকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্বাচন করবেন।প্রার্থীরা হলেন-বর্তমান প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমীর পুতিন,লিবেরাল ডেমোক্রাটিক পার্টির নেতা ভ্লাদিমীর জেরেনোভস্কী,কমিউনিষ্ট পার্টির নেতা গেনাদি জুগানোভ,ন্যায্য রাশিয়া পার্টির নেতা সেরগেই মিরানোভ ও সত্যন্ত্র নেতা মিখাইল প্রখোরভ।

কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশন প্রার্থীদের জন্য গনমাধ্যমে বিনামূল্যে প্রচারনার ব্যবস্থা করেছে।এর মধ্যে রয়েছে ৪টি ফেডারেল টেলিভিশন চ্যানেল ও ৪টি রেডিও স্টেশন।‘রেডিও ভয়েস অব রাশিয়া’ও রয়েছে এর তালিকায়।প্রতিটি প্রার্থীর জন্য প্রচার সময় বরাদ্ধে থাকছে ৯ ঘন্টা এবং এর ৪ ঘন্টা থাকবে বিতর্ক অনুষ্ঠানের জন্য।

তবে ভ্লাদিমীর পুতিন নিজে কোন বিতর্ক অনুষ্ঠানে অংশ নিবেন না।মন্ত্রনালয়ের কাজের ব্যস্ততার কারণেই তিনি এ অনুষ্ঠানের জন্য আলাদা সময়  দিতে পারবেন না।কিন্তু,বিরোধীদলের প্রশ্নের জবাব দিতে পুতিন নিজের পক্ষ থেকে ১ জন প্রতিনিধি পাঠানোর অধিকার রাখেন।সামাজিক চেম্বারের সদস্য খ্যাতিমান আইনজীবি আনাতোলী কুচেরেনকে ওই প্রতিনিধি হিসেবে পাঠানো হবে বলে ইতিমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে।নির্বাচনের স্বচ্ছতা নির্ধারনের জন্য বিভিন্ন দেশ থেকে আসা অন্তত ৭০ জন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ইতিমধ্যে নিজেদের কাজে যোগ দিয়েছেন।কেন্দ্রীয় নির্বাচন কমিশনের দেয়া তথ্য মতে,রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ইউরোপীয় নিরাপত্তা ও সহযোগি সংস্থা(ওএসসিইয়ে) ও স্বাধীন কমনওয়েলথ রাষ্ট্রবর্গের(সিআইএস)৬০০ পর্যবেক্ষক উপস্থিত থাকবেন।

প্রতিটি প্রার্থীই গত সপ্তাহে নিজ নিজ নির্বাচনী ওয়াদা বিষয়ে বেশ তত্পরতার সাথে ভোটারদের কাছে তুলে ধরেন।অন্যদিকে সমাজবিজ্ঞানীরা সাধারণ নাগরিকদের কাছ থেকে মতামত নিয়ে জরিপ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন।ওই জরিপের চুড়ান্ত ফলাফল জানাচ্ছেন সর্বরাশিয়া সামাজিক মতামত গবেষণা কেন্দ্রের সভাপতি বালেরী ফেদরোভ।তিনি বলেন,‘প্রধান যে বিষয়টি উল্লেখ করা যেতে পারে তা হল-ভ্লাদিমীর পুতিনের জনপ্রিয়তা বৃদ্ধি।যেখানে গত ১০ ডিসেম্বর শতকরা ৪২ ভাগ ভোটার পুতিনকে প্রেসিডেন্ট পদে ভোট দিতে রাজি ছিলেন আজ সেই সংখ্যা বেড়ে দাড়িঁয়েছে ৫২ ভাগ।কিন্তু অন্যান্য প্রার্থীদের জনপ্রিয়তার রেটিং বৃদ্ধি পায় নি।শুধুমাত্র মিখাইল প্রখোরভের ভাবমূর্তি কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে।১ মাস পূর্বে তার পক্ষে ভোট দিতে রাজি ছিলেন শতকরা ২ ভাগ ভোটার এবং বর্তমানে তা বৃদ্ধি পেয়ে ৪ ভাগে উন্নীত হয়েছে’।

ভোটের পূর্বে এ ধরনের জরিপ বিশ্বের বিভিন্ন দেশেই করা হয়ে থাকে।তবে ওই জরিপের কত ভাগ বাস্তবে রুপ পায় তাই এখন দেখার বিষয়।যদি জনপ্রিয়তার রেটিং নিয়ে কথা বলা হয়,তাহলে সম্প্রাতিক এই জরিপের ফলাফল যথেষ্ট ইতিবাচক।এমনটি বলছিলেন রাজনৈতিক পরিস্থিতি পরিবেশ কেন্দ্রের পরিচালক সেরগেই মিখেয়েভ।তিনি বলেন,‘মানসিক অবস্থা পরিমাপ করা খুবই কঠিন,এক্ষেত্রে আমি সমাজবিজ্ঞানীদের জরিপকে কমই বিশ্বাষ করতে চাই।আসন্ন নির্বাচনের প্রার্থীদের জনপ্রিয়তার জরিপের বিষয়ে যদি আমরা কথা বলি তাহলে বলতে হবে,সমাজবিজ্ঞানীরা সচারচার একটা ফলাফলে এসে সমাপ্তি টানেন।এটি শুধু রাশিয়ার ক্ষেত্রেই নয়’।

মনে হচ্ছে,বিরোধীদলের সাথে ক্ষমতাসীনদলের আলোচনা অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।তবে,একই সাথে সমাজে থমথম পরিস্থিতি বিরাজ করছে।বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন,নির্বাচনের পর দেশের পরিস্থিতি কেমন তবে তা অনেকটাই নির্ভর করছে স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠানের ওপর।