জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের গৃহিত সিরিয়া প্রস্তাবে রাশিয়া ও চীন ভেটো দিয়েছে।গতকাল শনিবার ওই প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হয়।জাতিসংঘে নিযুক্ত রাশিয়ার স্থায়ী প্রতিনিধি ভিতালী চুরকিন বৈঠকে বলেন,এই নথিপত্রে বাস্তবতাকে তেমন গুরুত্ব দেয়া হয় নি এবং সিরিয়ার পক্ষে বৈষম্যমূলক সংকেত প্রদান করা হয়েছে।তার ভাষায়,সিরিয়ার বিরোধী দলকে অবশ্যই জঙ্গি সংগঠনগুলো থেকে দূরে থাকতে হবে।এর আগে রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী সেরগেই ল্যাভরোভ এক বিবৃতিতে জানান,সিরিয়া প্রসঙ্গে পশ্চিমা জোটের সমর্থিত নিরাপত্তা পরিষদের এ প্রস্তাবের সাথে রাশিয়ার মতাদর্শের অমিল রয়েছে।প্রথমত,পশ্চিমাদের ওই প্রস্তাবে সিরিয়ার বিরোধী দলগুলোর চেয়ে বর্তমান সরকারের কার্যক্রম সম্পর্কে বেশী আলোকপাত করা হয়েছে।রাষ্ট্রের কাছে একসারি বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে কিন্তু বিরোধী দলকে কোন শর্তের কথা বলা হয় নি।ল্যাভরোভ আরও বলেন,মস্কো বশির আসাদকে রক্ষা করছে না বরং আন্তর্জাতিক আইনকে মান্য করছে।এদিকে,সিরিয়া প্রস্তাবে নিরাপত্তা পরিষদের পুনরায় ব্যর্থতায় জাতিসংঘের মহাসচিব বান কি মুন অসন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।তিনি বলেন,এ ঘটনায় জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ভাবমূর্তি নষ্ট হবে যখন সিরিয়ার সরকার সে দেশে সহিংসতা বন্ধে সবার কাছ থেকে একই কথা আশা করছে।অন্যদিকে চীন নিরাপত্তা পরিষদের সিরিয়া প্রস্তাবে রাশিয়ার মতই বিবৃতি দিয়েছে।জাতিসংঘে নিযুক্ত চীনা প্রতিনিধি লিই বাওদুন বলেন,রাশিয়া যে সব সংশধনের প্রস্তাব দিয়েছে চীন তাতে সমর্থন জানায় এবং সংগত কারণেই চীন ভোটে দিয়েছে।তবে সিরিয়ার সংকট সমাধানে চীন আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কার্যক্রম আরও জোরদারের আশা করছে।

প্রসঙ্গ,এ নিয়ে দ্বিতীয়বারের মতো নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়া প্রস্তাবের ওপর ভেটো দিল রাশিয়া ও চীন। গত বছরের  অক্টোবর নিরাপত্তা পরিষদে সিরিয়া প্রস্তাবের ওপর প্রথম দফায় দেশ দুটি ভেটো দেয়।মস্কো ও বেইজিং মনে করছে,সিরিয়ার বিরুদ্ধে নিরাপত্তা পরিষদের এ নিষেধাজ্ঞা হবে লিবিয়া পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি।ওই সময় জাতিসংঘের নিষেধাজ্ঞার পরই নিরাপত্তা পরিষদের অনুমতি নিয়ে  ন্যাটোর সৈন্যদের সহযোগিতায় লিবিয়ার বিরোধী দল মুহাম্মর গাদ্দাফির শাসনের অবসান ঘটায় কিন্তু দেশে স্থিতিশীলতা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় তারা ব্যর্থ হয়েছে।