যারা ব্রহ্মাণ্ড জয়ের স্বপ্ন দেখেছে, তাদের প্রত্যেকেরই একটা চাঁদে উড়ে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে মহাকাশচারী হিসাবে. রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় মহাকাশ সংস্থা "রসকসমস" ও গাগারীনের নামাঙ্কিত মহাকাশচারী প্রশিক্ষণ কেন্দ্র নতুন মহাকাশচারীর দল নেওয়ার জন্য এক সকলের জন্য উন্মুক্ত বাছাইয়ের ঘোষণা করেছে. এই দল তৈরী করা হবে এক সুনির্দিষ্ট কাজের জন্যই – চাঁদে যাওয়ার জন্য.

    প্রতিযোগিতা শুরু হয়েছে ১লা ফেব্রুয়ারী থেকে ও তা শেষ হবে ১৫ই মার্চ. এই সময়ের মধ্যে সকলেই যারা হয় ইঞ্জিনিয়ারিং বা ডাক্তারী পড়েছে, নিজেদের আবেদন পত্র রসকসমসের সাইটে রাখতে পারবে. এই দুটি বিষয়ে পড়াশোনা করা লোকেদেরই খালি ডাকা হচ্ছে এখন. এটাই প্রধান শর্ত. যত খুশী লোক এই বাছাই পর্বে নাম লেখাতে পারেন, তবে বেছে নেওয়া হবে মাত্র পাঁচ জনকে. রাশিয়ার মহাকাশ শিল্প ক্ষেত্রে এই ধরনের প্রতিযোগিতা প্রথমবার করা হচ্ছে, আর তা সত্যিকারের সুযোগ দিচ্ছে বহু লোককেই, যারা মহাকাশে যাওয়ার স্বপ্ন দেখে থাকেন. এই কথা উল্লেখ করে রসকসমস সংস্থার মুখপাত্র আলেক্সেই কুজনেত্সভ বলেছেন:

    "যদি আগে মহাকাশচারী হওয়ার দলে শুধু সামরিক বাহিনীর লোকেদেরই ডাকা হয়ে থাকত, আর এই ক্ষেত্রে বেশী সুবিধা ছিল সামরিক পাইলটদের ও মহাকাশ শিল্প সংলগ্ন কয়েকটি কোম্পানীর লোকেদেরই, তবে এবারে ঠিক করা হয়েছে বাছাইয়ের বৃত্তের পরিধি প্রসারের, যারা মহাকাশে যেতে চান ও যাদের ভাল স্বাস্থ্য ও বুদ্ধি যথেষ্ট তাদের জন্যও".

    কিন্তু মহাকাশে যাওয়ার স্বপ্ন, তীক্ষ্ণ বুদ্ধি – এটাই শেষ শর্ত নয়, যা প্রতিযোগীদের মধ্যে বিচার করা হবে, এখানে প্রয়োজন হবে প্রযুক্তির জ্ঞান, যোগাযোগের ক্ষমতা ইত্যাদি, এই কথা যোগ করে মহাকাশচারী প্রশিক্ষণ কেন্দ্রের মুখপাত্রী আন্না তোকারেভা বলেছেন:

    "বাছাই করা লোকের পাইলট চালিত মহাকাশ ভ্রমণের বিষয়ে ভিত্তি মূলক জ্ঞান থাকার দরকার রয়েছে, তার মহাকাশ প্রযুক্তি শেখার মতো ক্ষমতা থাকা চাই, কম্পিউটারের জ্ঞান, রুশী ও ইংরাজী ভাষা জানা থাকা চাই, তার ওপরে স্বাস্থ্য ভাল হওয়া চাই. তাদের মহাকাশ ভ্রমণের জন্য তৈরী হতে হবে, যা হবে ২ বছর ধরে, তারপরে পরীক্ষা দিতে হবে, যার ফলাফল থেকে তাদের মহাকাশচারী দলে নেওয়ার জন্য পরামর্শ দেওয়া হবে".

চাঁদে যাওয়া হঠাত্ করেই ঠিক হয় নি. সেখানে আগেও সাফল্যের সঙ্গে যাওয়ার চেষ্টা করা হয়েছিল, কিন্তু তা ছিল শুধু শুরু. রাশিয়া পরিকল্পনা করেছে পৃথিবীর উপগ্রহকে অনুসন্ধান করে জয় করতে. সেখানে টেলিস্কোপ বসানো হবে, পরিকল্পনা রয়েছে সেখানে থাকার যোগ্য ঘাঁটি বানানোর, এই প্রসঙ্গে "মহাকাশ বিজ্ঞানের খবর" জার্নালের সম্পাদক ইগর লিসভ বলেছেন:

"আমাদের চাঁদের ঘাঁটি তৈরী করতে হবে, সেখানে স্থায়ী মহাকাশচারীদের রাখতে হবে, ব্যবহার খনিজের খোঁজ করতে হবে. চাঁদ থেকে অনেক সুবিধা জনক ভাবেই রকেট পাঠানো সম্ভব হবে. এটা যথেষ্ট যুক্তি সঙ্গত ক্ষেত্রই হতে পারে".

চাঁদ জয়ের পরিকল্পনা কোন এক মুহূর্তের বিষয় নয়. নতুন দলের প্রস্তুতি চলবে কয়েক বছর ধরেই. আর প্রথম পাইলট চালিত মহাকাশ যান পাঠানোর কথা ২০২০ সালের মাঝামাঝি.