মস্কোর উত্তরের প্রাচীন শহর ইয়ারোস্লাভলের স্কুল পড়ুয়া আন্দ্রেই মোখভ শুধু যন্ত্রপাতি নিয়ে খেলতেই ভালবাসে না, সে আবার নিজেই সেগুলো বানায় ও তাদের জন্য সব বৈদ্যুতিন নিয়ন্ত্রণ ভেবে বার করে. স্কুলে ক্লাসের ফাঁকে ছেলেটি নিজের বন্ধুদের দেখায় সে কি তৈরী করেছে. তার মধ্যে একটার নাম দিয়েছে রোবট "প্রোটন". এটা নানা রকমের সেনসর ও মাইক্রো চিপের এক জটিল সমাহার.

    রোবট "প্রোটন" এমনকি ক্লাসের মেয়েদেরও আগ্রহী করেছে. তারা দেখে, কি করে এই অসাধারন যন্ত্র আঁকা রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করে. এখানে প্রধান কাজ হল, এই রাস্তা যত দ্রুত সম্ভব যাওয়া, কারণ রোবট বানানো হয়েছে গতির পরীক্ষার জন্যই. ১০ সেকেন্ডে ১৩ মিটার পার হয়ে যাচ্ছে এখন এই রোবট.

    আর আন্দ্রেই আরও একটা রোবট বানিয়েছে নাম দিয়েছে "ভ্ঝিক", অবশ্য সেটা এত দ্রুত চলতে পারে না. কিন্তু সেটা আবার নিজেই নানা রকমের বাধা বাইরের সাহায্য ছাড়াই পার হতে পারে. কিশোর প্রোগ্রাম লিখিয়ে ও যন্ত্র বানানোর বিশারদ এখন নিজের দ্বিতীয় আবিষ্কার নিয়ে ব্যস্ত. সে বলেছে যে, "ভ্ঝিক" আরও একটু কম্পিউটারের যন্ত্রপাতি জুড়লেই নিজের মতো রোবটদের টেক্কা দিতে পারবে.

    যে স্কুলে এই জিনিয়াস ছেলেটি পড়ে, সেখানে প্রত্যেক দিনই তার সাফল্য দেখানো হয়ে থাকে. ক্লাসের পরে আন্দ্রেই বিভিন্ন ক্লাসের ছেলে মেয়েদের জন্য রোবটদের প্রতিযোগিতার আয়োজন করে. স্কুলের শিক্ষকেরাও এই ছেলেটির কাজ আগ্রহের সঙ্গেই দেখে থাকেন. সারা স্কুলের সে গর্ব, কারণ তার সম্বন্ধে এখনই খবরের কাগজে লেখা হচ্ছে, তার ওপরে টেলিভিশনেও দেখিয়েছে, তার সাক্ষাত্কার নেওয়া হয়েছে.

    ছেলেটির বাবা মা তার সব কাজেই উত্সাহ দেন. যন্ত্র বানানো ও প্রোগ্রাম লেখার বিষয়ে তার আগ্রহ তৈরী করে দিয়েছিল বাবা. সব শুরু হয়েছিল তারা যবে থেকে একসাথে এরোপ্লেন মডেল বানানোর কাজ করতে শুরু করেছিল. একসাথে খান কুড়ি – তিরিশ বিমান মডেল বানানোর পরে এর জায়গায় বানানো শুরু হয়েছে ইলেকট্রনিক যন্ত্র, আর এক বছর আগে আন্দ্রেই নিজে রোবটের জন্য প্রোগ্রাম লেখা শুরু করেছিল.

    এখন রাশিয়াতে যারা নিজেরা বিমান বানান, তাদের মধ্যে পাইলট বিহীণ বিমান বানানোর বিষয়ে আগ্রহ খুবই বেড়েছে. মোখভ পরিবারের বাবা ও ছেলে তৈরী হচ্ছে নিজেদের পাইলট বিহীণ এরোপ্লেন বানানোর জন্য. শুধু তাদের ক্ষেত্রে এটা হবে রোবট, অর্থাত্ স্বয়ংক্রিয়. এর জন্য প্রয়োজনীয় যন্ত্রাংশ তারা বায়না করেছে, আর ইলেকট্রনিক অংশ এই জিনিয়াস ছেলেটি নিজেই বানাবে. কে জানে, হয়ত, খুব তাড়াতাড়িই ইয়ারোস্লাভলের আকাশে দেখতে পাওয়া যাবে প্রথম উড়ন্ত রোবট.