চিন ও ভারত দুই দেশের সামরিক নৌবাহিনীর সহযোগিতা নিয়ে সমঝোতা করেছে ভারত মহাসাগরের জলদস্যূদের মোকাবিলা করার জন্য. এই বিষয়ে জানিয়েছে ভারতবর্ষের "ট্রিবিউন" নামের সংবাদপত্র. সেখানে যেমন লেখা হয়েছে, তা অনুযায়ী, এটা কার্যকরী ভাবে সহযোগিতা করার জন্য দুই দেশের সামরিক নৌবাহিনীর মধ্যে প্রথম ঘটনা. এই বিষয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    ভারত ও চিনের মধ্যে সম্পর্ক নানা কারণে খুবই জটিল – তার মধ্যে তিব্বত, সীমান্ত প্রশ্ন, আঞ্চলিক নেতৃত্ব ইত্যাদি বহু প্রশ্নই রয়েছে. তবুও ভারত ও চিনের পারস্পরিক বাণিজ্যের পরিমান দশ হাজার কোটি ডলার ছাড়িয়েছে গত বছরে. বিশ্বের অঙ্গনেও বহু ক্ষেত্রে ভারত ও চিন একত্রে কাজ করছে, রাষ্ট্রসঙ্ঘ ও বেশ অনেকগুলি আঞ্চলিক সংস্থাতেও এক সাথেই কাজ করছে. সাংহাই সহযোগিতা সংস্থাতেও ভারত ও চিনের সহযোগিতা প্রকট হচ্ছে. বহু বাস্তব সমস্যা নিয়েই দুই দেশের দৃষ্টিভঙ্গী কাছাকাছি.

    আন্তর্জাতিক সন্ত্রাস ও জলদস্যূ সমস্যা এই দুটি ক্ষেত্রেই দুই দেশের লক্ষ্য এক, দিল্লী ও বেইজিং এ বিষয়ে একসাথে কাজের সিদ্ধান্ত নিয়েছে. কারণ নিকট প্রাচ্য, ইউরোপ ও আমেরিকা থেকে ও সেখানে দুই দেশের মালপত্রই এই ভারত মহাসাগর এলাকা দিয়ে যাতায়াত করে, এটা বছরে প্রায় ২০ হাজার জাহাজ. আর আডেন উপসাগর, আফ্রিকার শৃঙ্গ ইত্যাদি জায়গায় জলদস্যূরা গত কয়েক বছরে উত্পাতের পরিমান এত বেশী বাড়িয়েছে যে, সারা বিশ্বের নৌ বাহিনীকেই সেখানে পাহারার জন্য পাঠাতে হচ্ছে. এই প্রসঙ্গে ভারত ও চিনের সহযোগিতা নিয়ে সমঝোতা এক ভাল লক্ষণ বলে মনে করে রাশিয়ার প্রাচ্য বিশারদ ইয়াকভ বের্গের বলেছেন:

    "যদি এই দুই দেশ চুক্তি করে সফল ভাবে কাজ করে, তাহলে এই বিপদ কিছু কমবে. ভারত ও চিন প্রয়োজনীয় সরবরাহ রাখে ও তারা দূরের সমুদ্রেও কাজ করার জন্য তৈরী. এখন তারা সাফল্যের সাথেই নিজেদের নৌবাহিনী তৈরী করছে, বিমান বাহিনী ও সামুদ্রিক নৌ বহরও তৈরী করছে, আর আমি মনে করি যে, তারা অনেকটাই এই নতুন বিপদের হুমকি কমিয়ে দিতে পারে. বিশ্ব কিছুটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতেই পারে".

0    এখানে উল্লেখ করার প্রয়োজন যে, ভারত ও চিন জলদস্যূ সমস্যার সমাধানে কিছু কম কাজ করে নি, তাদের সামরিক যুদ্ধ জাহাজ বহু দিন ধরেই পাহারায় রত. গত বছরের মে মাসে  ভারতের নৌবাহিনীর এক সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর জাহাজ আরব সাগরে একটি চিনা মালবাহী জাহাজকে জলদস্যূদের হাত থেকে উদ্ধার করেছিল. বিপদ সঙ্কেত পাঠিয়েছিল আডেন উপসাগরে টহল দেওয়া এক চিনা সামরিক যুদ্ধ জাহাজ, যারা ঘটনা স্থল থেকে অনেক দূরে ছিল. ভারতীয় নৌবাহিনীর যুদ্ধ জাহাজ কাছে থাকায় তারা আধ ঘন্টা পরেই সাহায্য করতে পৌঁছতে পেরেছিল. ফলে চিনা জাহাজ ও তার নাবিকেরা উদ্ধার পেয়েছিল, অক্ষত অবস্থাতেই. যদিও বিগত কিছু সময় পর্যন্ত ভারত ও চিনের জাহাজ তাদের নিজস্ব ধারণা অনুযায়ী স্বাধীন ভাবে কাজ করেও থাকে, তবে এবারে দুই দেশই রসদ বাঁচানো ও সাফল্যের পরিমান বৃদ্ধির জন্য ঠিক করেছে একে অপরের সাহায্য নিয়ে যোগাযোগ রেখেই কাজ করবে, ফলে কাজ হবে দ্রুত ও সফল. এই ক্ষেত্রে যোগাযোগ ও লিংক বজায় রাখার ব্যাপারটা যেমন ঠিক হয়েছে যে, দুই দেশের নৌবাহিনীর প্রতিনিধিদের মধ্যে বৈঠকের সময়ে করা হবে.