প্রায় অর্ধেক রুশী নাগরিক মনে করে যে, ৪ঠা মার্চের রাষ্ট্রপতি নির্বাচন দেশে সত্ভাবেই হবে ও প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন প্রথম দফাতেই জিতবেন. দেশের নেতৃস্থানীয় সামাজিক মত মূল্যায়ণ কেন্দ্রগুলির থেকে এই ধরনের ফলই জানানো হয়েছে. একের তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা মনে করেন যে, কারচুপি হবেই – কিন্তু তা বিগত লোকসভা নির্বাচনের চেয়ে অনেক কম. আর বিরোধী মিছিল সমাবেশে প্রায় কেউই যোগ দিতে চান না, বলে উত্তর যারা দিয়েছেন, তারা জানিয়েছেন.

রাশিয়ার লোকেরা কি সত্ রাজনীতিতে বিশ্বাস করেন? যে রকম বোঝা গিয়েছে, তাতে বেশীর ভাগ সম্ভাব্য ভোটারই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রচারের প্রতি খুবই শান্ত মনোভাব দেখিয়েছেন. শতকরা ৪৯ ভাগ উত্তরদাতা মনে করেন ভোট ঠিকঠাক হবে, শতকরা ২৮ ভাগ এটা বিশ্বাস করেন না. যদিও বিরোধী পক্ষ চেষ্টা করছে পরিকল্পিত প্রতিবাদ মিছিলে অংশগ্রহণের বিষয়ে মনোযোগ দেওয়ানোর জন্য, তবুও শতকরা ৭৮ ভাগ উত্তরদাতা কোন রকমের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কথা ভাবছেন না. একই সময়ে বেশীর ভাগ রুশ লোকই বিশ্বাস করেন যে, বর্তমানের সরকারের দরকার বিরোধী পক্ষের সঙ্গে দেখা করে আলোচনা করার, যারা দেশের লোকসভায় জায়গা পান নি, তাদের সঙ্গে.

সামাজিক বিজ্ঞানীরা রাশিয়ার লোকেদের কে সম্ভাব্য পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হতে চলেছেন, এই বিষয়ে কথা বলতে উদ্যোগী করেছেন. দুই তৃতীয়াংশ উত্তরদাতা মনে করেছেন যে, প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন প্রথম পর্যায়েই জিতবেন. আর যদি তাও দ্বিতীয় দফার প্রয়োজন হয়, তা হলেও সে ক্ষেত্রে পুতিন – সবচেয়ে পছন্দের প্রার্থী.

প্রার্থীদের রেটিং নিয়ে তথ্য সাধারণতঃ খুবই সঠিক বলে মনে করে রাজনৈতিক কাঠামো গবেষণা কেন্দ্রের ডিরেক্টর সের্গেই মিখিয়েভ বলেছেন:

"নির্দিষ্ট প্রাক্ নির্বাচনী রেটিং সম্বন্ধে যা বলা যেতে পারে, তা হল সমাজ বিশেষজ্ঞরা বেশীর ভাগ সময়েই একেবারে চাঁদমারিতে নির্ভুল নিশানা করে থাকেন. এটা শুধু রাশিয়ার ক্ষেত্রেই নয়, বরং সারা বিশ্বেই, প্রাক্ নির্বাচনী মত গ্রহণ সব জায়গায় ও সব সময়েই হচ্ছে".

আসলে রাশিয়ার সমাজে ভ্লাদিমির পুতিন যে আগামী রাষ্ট্রপতি হচ্ছেন, সেই আশা অনেকটাই.

একই সময়ে বিশ্লেষকেরা বিশ্বাস করেন নির্বাচনকে আইন সঙ্গত ও স্বচ্ছ করার দরকার প্রাথমিক ভাবে প্রার্থীর জন্যই, যিনি নিজের বিজয়ে নিশ্চিত. আর এটাও সত্য যে, বিরোধী পক্ষের বর্তমানে এক ভোটার লীগ মিলেছে – এক জোট, যারা চাইছে ভোট গ্রহণ ও গণনার উপরে সামাজিক নিয়ন্ত্রণের ব্যবস্থা করতে. এই লীগের আয়োজকদের মধ্যে রয়েছেন – বিখ্যাত লেখকেরা, সঙ্গীত শিল্পীরা, সাংবাদিক ও টেলিভিশনের সাংবাদিকেরা. লীগের প্রতিনিধিরা রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী পাঁচ জনের সমর্থকদেরই প্রস্তাব করেছেন নিজেদের পর্যবেক্ষকদের ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে পরিষেবা দেওয়ার. ভোটার লীগে মনে করা হয়েছে যে, এই ভাবে সম্ভব হবে ভোটের ফলে কারচুপি কমানোর. আর সব মিলিয়ে ফলাফল নিয়ে কোন রকমের সন্দেহ থেকে পরবর্তী কালে রেহাই পাওয়া. বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমানের সরকারের প্রস্তাবিত ভোট গ্রহণ কেন্দ্রে ওয়েব ক্যামেরা ও স্বচ্ছ ব্যালট বক্স অনেকটাই কারচুপির সম্ভাবনা কমাবে.