এই বছরের মার্চ মাস থেকে ইরান দেশের প্রতিরক্ষা খাতে প্রায় আড়াই গুণ বেশী খরচ বাড়িয়ে দিচ্ছে.এই বিষয়ে ঘোষণা করেছেন ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের রাষ্ট্রপতি মাহমুদ আহমাদিনিজাদ.তারই মধ্যে বিশেষজ্ঞরা যেমন মনে করেছেন যে,পশ্চিমের দেশ গুলি ও ইজরায়েলের দিক থেকে সম্মিলিত ভাবে ইরানের উপরে সামরিক হামলা খুবই সম্ভাব্য হয়ে পড়েছে.

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও তাদের জোটের দেশ গুলি পারস্য উপসাগর এলাকায় সামরিক বাহিনী ও প্রযুক্তি জড়ো করা চালিয়ে যাচ্ছে.আমেরিকা কাতারে স্ট্র্যাটেজিক বোমারু বিমানের বাহিনী রেখেছে.সামরিক বাহিনীর লোকেরা ওমানের মাসিরা উপদ্বীপে জমা হচ্ছে,যেখানে মার্কিন বিমান বাহিনীর সামরিক ঘাঁটি রয়েছে.মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইজরায়েলের দশ হাজারেরও বেসী সৈন্য ইজরায়েলে এই দেশের রকেট প্রতিরোধ ব্যবস্থা পরীক্ষা করছে.১৫ হাজার অবধি সেনার কয়েকটি ব্রিগেড এখন কুয়েইত দেশে রয়েছে.আমেরিকার ভারত মহাসাগরে ব্রিটেন অধিকৃত দিয়েগো গার্সিয়া দ্বীপের ঘাঁটিতে আনা হয়েছে বহু শত ভারী বোমা,আর পারস্য উপসাগর অঞ্চলে পাহারায় ব্যস্ত দুটি আমেরিকার আঘাত হানার নৌবহর.ফ্রান্স ও গ্রেট ব্রিটেন একই সঙ্গে এলাকায় সামরিক শক্তি পাঠাচ্ছে.

এই কাজের ফলে প্রমাণিত হচ্ছে যে,পশ্চিমের দেশ গুলি ইরানের বিরুদ্ধে শক্তি প্রয়োগ করতে তৈরী, এই কথা মনে করে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের প্রফেসর সের্গেই দ্রুঝিলভস্কি বলেছেন:

"সামরিক বিরোধ হতেই পারে.যদি এর আগে আফগানিস্তান, ইরাক, লিবিয়া না থাকতে, তাহলেও হয়ত সন্দেহ করা যেত.কিন্তু বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র টের পেয়েছে যে, তারা এই অপারেশনের সামরিক বিষয় গুলি মহড়া করে ফেলেছে.সমস্যা শুধু একটাই – ইরানে কোন পঞ্চম বাহিনী নেই,যা বিশ্বের অন্যান্য দেশে থাকতে পারত.যখন মানুষই নেই,যারা আমেরিকার সঙ্গে একসাথে প্রশাসনকে উল্টে দিতে তৈরী,তখন বোমারু বিমান কিছুই দিতে পারে না.শুধু একটা ধারণা রয়েছে – প্রশাসন উল্টে দিতে হবে,যা আমেরিকার গলায় কাঁটা হয়ে ফুটে রয়েছে".

একই সময়ে ইজরায়েলের গোয়েন্দা বিভাগের কর্তৃপক্ষ ঘোষণা করেছেন যে,ইরান ৪টি পরমাণু বোমা বানানোর মতো ইউরেনিয়াম জমা করে ফেলেছে.এই ধরনের তথ্য ছড়ানো দরকার যাতে সামরিক অপারেশনের সম্ভাবনার পরে স্বীকৃতী আদায়ের জন্য, রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির সোতনিকোভ বলেছেন:

"পরিস্থিতি অগ্নিগর্ভ. ইরানের বিরুদ্ধে ইজরায়েল ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে যুদ্ধের সম্ভাবনা খুবই বেশী. কিন্তু এটা শুধু সম্ভাবনা,কারণ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে বর্তমানে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রচারের লড়াইয়ের সবচেয়ে সক্রিয় ভাগ শুরু হতে চলেছে.আর রাষ্ট্রপতি ওবামা আরও একটি বিরোধে নামতে চাইবেন না,যতদিন না ইরাক ও আফগানিস্তানে বিরোধ শেষ হয়.কিন্তু ইরান ইজরায়েলের জন্য মূল বিপদ হয়ে দাঁড়িয়েছে,আর সেখানে এই রকম ধারণাতে পৌঁছতেই পারে যে,শক্তি দিয়ে এই সমস্যার সমাধান করতে হবে.এর ফলে শুধু আরও একটি আঞ্চলিক বিরোধই সৃষ্টি হবে না, এটা আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতার জন্যও বিপদ".

কিন্তু সামরিক বিরোধ এড়ানোর সুযোগ এখনও আছে. যদিও তা বেশী করেই এবারে মরীচিকা মনে হচ্ছে.