রাশিয়ার ক্রাসনোইয়ারস্ক রাজ্যের থেকে ভারতের গোয়াতে বেড়াতে যাওয়া ট্যুরিস্ট ও শখের শিকারি আনাতোলি ভালেঙ্কো নিজেই তার শখের জন্য খুবই বিপদে পড়েছেন – এবারে তার নিজের গুলির শিকার তিনি নিজেই হয়েছেন. রাশিয়ার ভদ্রলোক গোয়া বিমান বন্দরে ফেরার সময়ে ১৩ই জানুয়ারী বিমানে ওঠার সময়ে ধরা পড়েছেন ব্যাগের ভিতরে ১২ ক্যালিবারের গুলি সমেত, যেটা তিনি আগে ব্যাগ থেকে বার করে রাখতে ভুলে গিয়েছিলেন. আনাতোলি ভালেঙ্কো এবারে বিমানের ভিতরে বিস্ফোরক নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার জন্য গ্রেপ্তার হয়ে গোয়া রাজ্যের ভাস্কো শহরের জেলে বন্দী রয়েছেন.

    ১৭ই জানুয়ারী যদিও আদালত তার উকিলের প্রার্থনা অনুযায়ী জামিন মঞ্জুর করেছে, তবুও পরিবারের পক্ষ থেকে পাঠানো ৪০০০০ ভারতীয় টাকা (৮০০ ডলার) এখনও কাজে লাগানো যায় নি, কারণ ভারতীয় আইন অনুযায়ী তার জন্য একজন স্থানীয় ব্যক্তির পক্ষ থেকে গ্যারান্টির প্রয়োজন, যিনি আদালতকে প্রয়োজনে বিচারের সময়ে ভালেঙ্কো হাজির থাকবেন এই ভরসা যোগাতে পারেন. বর্তমানে খোঁজ চলছে এই রকমের লোকের. তাই তিনি এখনও জেলেই রয়েছেন.

    রাশিয়ার নিজাভিসিমায়া গাজেতা বুধবারে জানিয়েছে যে, ভালেঙ্কো বন্দী রয়েছেন এক কামরায় আরও ১৮জন বন্দীর সঙ্গে ও সেখানে জায়গা মোটে ৪০ স্কোয়ার মিটার. তার খাবার জন্য যথেষ্ট হচ্ছে না. ভারতীয়  খাবার খেতে আনাতোলি রাজী নন, তার জন্য খাবার পৌঁছে দিয়ে যাচ্ছেন ট্যুরিস্ট কোম্পানীর কর্মী. সংবাদপত্র ট্যুরিস্টের রাশিয়ার বাড়ীর লোকের কাছ থেকে পাওয়া খবর হিসাবে জানিয়েছে যে, ভারতীয় অ্যাডভোকেট বা রুশ পররাষ্ট্র দপ্তরের লোকেরা, তাদের তরফ থেকে আর্জি স্বত্ত্বেও এখনও আনাতোলির সঙ্গে দেখা করতে পারেন নি একবারও. পুলিশ বা তদন্তের কর্মী কোন রকমের কাজ করে নি. নিজাভিসিমায়া গাজেতার তথ্য অনুযায়ী ভালেঙ্কোর বাড়ীর লোকেরা প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের নামে খোলা চিঠি দিয়ে তাঁকে অনুরোধ করেছে রুশ নাগরিককে জেল থেকে ছাড়িয়ে আনার.

    রেডিও রাশিয়ার সাংবাদিক প্রতিনিধি ভারতের মুম্বাই শহরে কনস্যুল দপ্তরে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা নিতে গিয়েছিল. রুশ কনস্যুল দপ্তরের অ্যাটাশে রোমান ভরোবিয়ভ বলেছেন যে, ধরা পড়ার সময়ে ভালেঙ্কোর কাছে শিকারের গুলি রাখার কোন লাইসেন্স পাওয়া যায় নি. তাঁরা সঙ্গে সঙ্গেই বিদেশী নাগরিকদের রেজিস্ট্রেশন দপ্তরের কর্মীর সাথে যোগাযোগ করেছিলেন, যেখান থেকে জানানো হয়েছে এই ক্ষেত্রে ভারতীয় অনুযায়ী তিন থেকে পাঁচ বছর মেয়াদের কারাবাস দণ্ড দেওয়া হতে পারে. আনাতোলি ভালেঙ্কোর বাড়ীর লোকেদের এই সম্বন্ধে জানানো হয়েছিল. ভারতীয় অ্যাডভোকেট ভিক্রম ভর্মা বলে এক জনের সঙ্গে কনস্যুল দপ্তর থেকে যোগাযোগ করা হয়েছিল, যিনি এর আগেও ভারতীয় আদালতে রুশ নাগরিকদের হয়ে কাজ করেছেন, তিনি সাহায্য করতে রাজী হয়েছেন রুশ পর্যটকের জন্য বিনামূল্যেই কেস লড়তে.

    "গোয়া রাজ্যের রাজ্যপাল ও মুখ্যমন্ত্রীকে কনস্যুল দপ্তর থেকে এই ব্যাপারে চিঠি পাঠানো হয়েছে. রাজ্যপালের দপ্তর থেকে পাঠানো প্রত্যুত্তরে বলা হয়েছে রাজ্যপাল নিজেই এই বিষয়টি দেখছেন ও সেই রকমের তথ্য গোয়া রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তরেও পাঠানো হয়েছে".

    ২৭শে জানুয়ারী ভাস্কো শহরের আদালত যে, আবার ভালেঙ্কোর জামিন মঞ্জুর করেছে, এই খবরও রুশ কনস্যুল দপ্তরের কর্মী দিয়েছেন, এর পরে প্রয়োজনীয় অর্থও দেওয়া হয়েছে উকিলের মাধ্যমে, আর বর্তমানে এক ভারতীয় নাগরিককে খোঁজার জন্যই রুশ দপ্তর সর্ব শক্তি প্রয়োগ করেছে, যে জামিন হতে রাজী হবে. সেই রকমের লোক পাওয়া গেলেই আনাতোলিকে ছেড়ে দেওয়া হবে.

    রোমান ভরোবিয়ভ যেমন জানিয়েছেন যে, আনাতোলি জেলে যাওয়ার পরে তার কাছে ভিক্রম ভর্মা ও তার দপ্তরের কর্মীরা একাধিকবার গিয়েছেন ও তার সঙ্গে রুশ কনস্যুল দপ্তরের কর্মী ও জেলের প্রশাসনেরও দেখা হয়েছে. রুশ কূটনৈতিক কর্মী ভালেঙ্কোর জন্য রুশ ভাষার বইও দিয়ে এসেছেন. জল ও খাবার জেল কর্তৃপক্ষ নিতে অস্বীকার করেছে আইনত বাধা রয়েছে বলে. জানানো হয়েছে যে, ভালেঙ্কোর স্বাস্থ্য আপাততঃ ভালই রয়েছে, জেলের কর্মীরাও তার সঙ্গে কোন রকমের দুর্ব্যবহার করেছে বলে জানা যায়নি. জেল কর্তৃপক্ষের সঙ্গে দেখা হওয়ার সময়ে রুশ কূটনীতিবিদ বিশেষ করে অনুরোধ করেছেন ভালেঙ্কোর জন্য থাকার জায়গার দিকে নজর দিতে ও সম্ভাব্য ক্ষেত্রে তাকে তার পরিবার ও দূতাবাসের কর্মীদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ করে দিতে.

    জামিন দেওয়ার লোক খোঁজা হচ্ছে, আর তার উপরেই নির্ভর করছে, কবে ভালেঙ্কো মুক্ত হবেন. গত বছরে একই রকমের ঘটনায় এক মার্কিন  নাগরিক ও ২ জন ইজরায়েল ও সুইডেনের মহিলা গ্রেপ্তার হয়েছিলেন ভারতে. সব ক্ষেত্রেই ভারতের নিরাপত্তা রক্ষী পরিষেবা খুবই খুঁটিয়ে তদন্ত করে দেখেছে. যা ট্যুরিস্টদের জন্য ফালতু ব্যাপার, তা নিরাপত্তা রক্ষী দের জন্য বিস্ফোরক ও অস্ত্র. তাই ভারত বা অন্য কোথাও যাওয়ার আগে পর্যটকদের উচিত্ খুবই মন দিয়ে পর্যটকদের জন্য বিশেষ করে তৈরী নির্দেশ নামা পড়ে দেখা.