তামিলনাডু রাজ্যে, যেখানে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র কুদানকুলাম তৈরী হয়েছে, সেখানে প্রেরিত ভারতের বিশেষ সরকারি কমিশন, কাজ শেষ করেছে. এই কমিশন পারমানবিক রিয়্যাক্টরগুলি ব্যবহারের নিরাপত্তা সমর্থন করেছে, যা রাশিয়ার সাহায্যেই তৈরী হয়েছে. কিছু বিশদ বিবরণ সমেত এই প্রসঙ্গে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

এই কমিশন খুবই নির্দিষ্ট করে কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রে ব্যবহৃত রিয়্যাক্টরগুলি যে নিরাপদ, সেই বিষয়ে ঘোষণা করেছে ও সেই গুলি ফুকুসিমা পরবর্তী নিরাপত্তা মানের সঙ্গে সম্পূর্ণ সম্মত বলে জানিয়েছে. শেষ রিপোর্টে এই কমিশনের মুখপাত্র মুত্থ্যুনায়গম বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন যে, পারমানবিক শক্তির বিরুদ্ধে জনগনের আন্দোলন দল, যারা তামিলনাডু রাজ্যে বিরোধ ও প্রতিবাদ আয়োজন করেছে, এখন মানুষের কাছে এই রিপোর্টের তথ্য উপস্থিত করতে পারে, যাতে তাঁদের ভয় দূর হয়. "যদি কোন বাড়তি ব্যাখ্যার প্রয়োজন পড়ে, তবে আমরা বিশেষজ্ঞ পাঠাতেও পারি" – তিনি সুনির্দিষ্ট ভাবেই বলেছেন.

জাপানে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র ফুকুসিমা – ১ বিস্ফোরণের পরে কুদানকুলাম প্রকল্প নিয়ে বিক্ষোভ শুরু হয়েছিল. এর আগে তামিলনাডু রাজ্যের জনগন রাজ্যে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্র তৈরী হওয়াকে খুবই জোরালো সমর্থন করেছিলেন, যা বিদ্যুত শক্তির ঘাটতি কমাতে সক্ষম হত.

এখানে বলা ঠিক হবে না যে, রাশিয়াতে কুদানকুলাম পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের চালু হওয়া নিয়ে দেরী খুব সন্তোষের কারণ হয়েছিল. কিন্তু উপস্থিত পরিস্থিতি বোঝার চেষ্টা করা হয়েছে. জ্বালানী শক্তি ও নিরাপত্তা সংক্রান্ত মস্কোর কেন্দ্রের ডিরেক্টর আন্তন খ্লোপকভ বর্তমানের পরিস্থিতি নিয়ে এই মন্তব্য করেছেন:

"আমার মতে কেন্দ্র চালু করা পেছিয়ে দেওয়া সম্বন্ধে এক রাজা সলোমনের মতো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, নতুন চুক্তি স্বাক্ষর সম্বন্ধেও. এর ফলে ভারতের প্রশাসনের ও পারমানবিক শক্তি কমিশনের পক্ষে সামাজিক সংস্থা গুলির সঙ্গে পারমানবিক বিদ্যুত কেন্দ্রের নিরাপত্তা নিয়ে খুঁটিয়ে আরও প্রসারিত পরামর্শের সম্ভাবনা দিয়েছিল. অন্য দিকে প্রযুক্তিগত বিশেষজ্ঞরা এই কেন্দ্র চালু করার জন্য আরও ভাল করে তৈরী হতে পেরেছিলেন. সুতরাং দীর্ঘস্থায়ী ভাবে এটা ভারতের পারমানবিক শক্তি সংক্রান্ত পরিকল্পনাতে মনে তো হয় না কোনও প্রভাব ফেলতে পারবে".

আন্তন খ্লোপকভ ঠিক বলেছিলেন. আজ সকলের কাছেই পরিস্কার যে, পারমানবিক শক্তি কেন্দ্র কুদানকুলাম ও জাপানের ফুকুসিমা কোনও ভাবেই তুলনার যোগ্য নয়. তারা একে অপরের সঙ্গে এতটাই তফাত যেন যুবতী তন্বী ও অশীতিপর বৃদ্ধা. বয়সের ব্যবধান ৪০ বছরের বেশী, আর নিরাপত্তা ও প্রযুক্তির ব্যবধান – তুলনার পক্ষে অসম্ভব.

রাশিয়ার রিয়্যাক্টরে যে ঠাণ্ডা করার জল পরমাণু শক্তির সংস্পর্শে আসে না ও সেই জলকেও জলের উদ্ভিদ ও প্রাণীর থেকে আলাদা রাখার যে ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে, তা নিয়ে আগেও বলা হয়েছে, সুতরাং তামিলনাডু রাজ্যের জেলেরা খুশীতে থাকতে পারেন, তাদের মাছ কোথাও পালাবে না.

প্রযুক্তিগত ভাবে কুদানকুলাম নিয়ে কোনও প্রশ্ন নেই – এটা ভারতের সরকারি কমিশনই সিদ্ধান্ত করেছে. সম্ভবতঃ, এবারে বাকী শুধু সামাজিক ও রাজনৈতিক খোঁচা দূর করার. কিন্তু কুদানকুলাম এই ক্ষেত্রে কেন আসবে?