রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন দেশের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রথম পর্যায়েই বিজয়ী হতে পারেন. এই বিষয়ে সামাজিক মত নির্ণয়ের তথ্য থেকে বলা যাচ্ছে. রুশ জনগনের দুই তৃতীয়াংশ মনে করেন যে, এই নির্বাচন হবে একটি পর্যায়ে ও তাতে সবচেয়ে শক্তিশালী প্রার্থীই বিজয়ী হবেন, আপাততঃ দেশের সর্ব্বোচ্চ পর্যায়ের সরকারি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বীরা ভোটার, সাংবাদিক ও পর্যবেক্ষকদের সঙ্গেই সময় কাটাচ্ছেন.

রাশিয়াতে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে আসছে – উত্তেজনা বাড়ছে. দেশের সর্ব্বোচ্চ পদের জন্য লড়াই করতে আসা প্রার্থীরা একে অপরের বিরুদ্ধে কড়া ঘোষণা বিনিময় করছেন, ভোটারদের কাছে দেশের অর্থনৈতিক ভবিষ্যত সম্বন্ধে ধারণা ও রাজনৈতিক সম্ভাবনা সম্বন্ধে নিজেদের দৃষ্টিকোণ পেশ করছেন, আর তারই সঙ্গে ভাবছেন, কতগুলি পর্যায়ের প্রয়োজন হবে, দেশের নেতার নির্বাচনে. প্রসঙ্গতঃ ঐক্যবদ্ধ রাশিয়া দল থেকে প্রস্তাবিত প্রার্থী ভ্লাদিমির পুতিন মনে করেন যে, যদি রাষ্ট্রপতি নির্বাচন দুটি পর্যায়ে হয়, তাহলেও ভয়ঙ্কর কিছু হবে না. তিনি এই ধরনের ঘটনা পরিবর্তনের জন্য তৈরী. সবই নির্ভর করবে রাশিয়ার জনগনের ইচ্ছার উপরে, এই মন্তব্য প্রকাশ করে তিনি বলেছেন:

"আমি লোকের সমর্থন না পেলে কাজ করতে চাই না ও তা করবও না. কোন মানে হয় না. তখন অন্য লোকেদের উচিত্ ভাল করার চেষ্টা করা. এটার মানে হল যে, আমাদের দেশের নাগরিকেরা রাশিয়ার ভাগ্য অন্য ব্যক্তির হাতে সমর্পণ করছেন. আর তখ প্রয়োজন হবে সেই সমস্ত লোককে শুধু সাহায্য করার, যাতে তারা দেশের সামনে উপস্থিত সেই সমস্ত সমস্যার সমাধান করতে পারেন. আর আমিও সেই রকম হলে, তা করতে রাজী. আর আমি এই ধরনের ইচ্ছা প্রকাশের প্রতি হিংসায় জ্বলে থাকবো না".

লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক দলের প্রার্থী ভ্লাদিমির ঝিরিনোভস্কি বরং উল্টো, তিনি বিশ্বাস করেন যে, প্রথম পর্যায়েই ভোটের পরে রাষ্ট্র নেতার নাম জানা যাবে. তা স্বত্ত্বেও অভিজ্ঞ রাজনীতিবিদ তৈরী আছেন শেষ অবধি লড়াই করার জন্য ও তিনি দেশে রাজনৈতিক আবহাওয়া বদল নিয়ে বাস্তব পরিস্থিতি সম্বন্ধে অতিরঞ্জন করে বলেছেন:

"আমাদের দেশের লোকেরা জেগে উঠেছেন. প্রশাসনের প্রয়োজন পড়বে জনতার সঙ্গে সমঝোতা করার. রাজনৈতিক শীত এবারে চলে যেতে বসেছে. বরফে ফাটল ধরেছে – বরফ ভেঙে চলা জাহাজ চলে গিয়েছে. চলুন সম্পূর্ণ বানে ভাসা গণতন্ত্র তৈরী করি".

ন্যায়বাদী রাশিয়া দলের নেতা ও দেশের রাষ্ট্রপতি পদের প্রার্থী সের্গেই মিরোনভ মনে করেন যে, ভোট পর্বে দ্বিতীয় দফা এড়ানো সম্ভব নয়. কিন্তু সেখানে লড়াই করবেন বর্তমানের প্রধানমন্ত্রী ও কমিউনিস্ট দলের প্রার্থী গেন্নাদি জ্যুগানোভ. একই সময়ে কমিউনিস্ট পার্টির নেতা সাংবাদিকদের সাথে সাক্ষাত্কারের সময়ে নিজের অর্থনৈতিক সমস্যা নিয়ে দৃষ্টিভঙ্গী ও তার সমাধানের পথ নিয়ে আলোচনা করেছেন. গেন্নাদি জ্যুগানোভ মনে করেন যে, দেশের প্রাকৃতিক সম্পদকে জাতীয় করণের প্রয়োজন হয়েছে ও তিনি ঘোষণা করেছেন যে, আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে খুবই খুঁটিয়ে নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন রয়েছে, তিনি বলেছেন:

"আমরা নির্বাচনের সময়ে সবচেয়ে বেশী করে নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে সাহায্য করবো. আমরা এই ব্যাপারে খুবই আগ্রহী. এখন রাশিয়ার দ্যুমায় তিনটি আইনের খসড়া আনা হয়েছে আর যদি তা রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আগে গৃহীত হয়, তবে ভোট চুরি করা খুবই কঠিন হবে".

শত কোটিপতি ও ব্যক্তিগত ভাবে নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করা মিখাইল প্রোখোরভ ভরসা দিয়েছেন যে, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে তাঁর অসাফল্য স্বত্ত্বেও তিনি রাজনৈতিক পেশা থেকে বিরত হবেন না, তিনি আবার বলেছেন:

"আমি নতুন দলের সৃষ্টি করবো, রাষ্ট্রপতি নির্বাচন – খুবই ভাল মঞ্চ নিজের সমর্থকদের এক করার জন্য, নিজের ধারণা গুলিকে বাজিয়ে নেওয়ার জন্য. আমার জন্য এটা দীর্ঘ দিনের প্রকল্প. আর রাজনীতিতে খুবই গুরুত্ব দিয়ে বহু কালের জন্যই প্রবেশ করেছি".

এখানে বলা উচিত্ হবে যে, রাশিয়ার রাজনৈতিক গগনে শুধু রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে জয়ীর জায়গাই হবে না. ভ্লাদিমির পুতিন এই সম্ভাবনাকেও বাদ দেন নি যে, তিনি রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে বিজয়ী হলে রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দীদের বেশ কিছু পদে কাজ করার জন্য প্রস্তাব করবেন.