২০১২ সালকে তাতারস্থানে কোরানের বছর বলে ঘোষণা করা হয়েছে- এই ভাবেই এই রাজ্যের অধিবাসীরা রাশিয়াতে প্রথম ছাপা ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের পূত গ্রন্থ কোরানের প্রকাশ উদযাপন করছেন.    ছাপাখানায় প্রথম তৈরী কোরান রাশিয়াতে ২২৫ বছর আগে প্রকাশিত হয়েছিল. তা তৈরী করা হয়েছিল রাশিয়ার সম্রাজ্ঞী দ্বিতীয় ইকাতেরিনার আদেশে তাতারস্থানের মোল্লার আঁকা হরফ থেকে বিশেষ করে তৈরী ছাপার হরফের উপরে ভিত্তি করে ১৭৮৭ সালে. এই হরফই পরবর্তী কালে রাশিয়াতে প্রকাশিত ঐস্লামিক পবিত্র গ্রন্থের সমস্ত পুনঃ প্রকাশের সময়ে ব্যবহারের জন্য মান স্বরূপ বলে মেনে নেওয়া হয়েছিল. বর্তমানে কাজান শহরের ক্রেমলিন বা কেল্লার ভিতরের ইসলাম যাদুঘরে এই দেশে প্রকাশিত নানা ভাষায় ৬০০টিরও বেশী প্রকাশিত কোরানের সংগ্রহ রয়েছে. সংগ্রহে নানা মাপের পুস্তকই রয়েছে. আর গত বছরের শেষে তাতারস্থানে নিয়ে আসা হয়েছে সবচেয়ে বড় কোরান, যা সেই সময়ে বিশ্বে প্রকাশিত হয়েছিল. তা তৈরী করা হয়েছে ইতালির ওস্তাদ কারিগরদের দিয়ে, তৈরী করিয়েছে তাতারস্থানের রাজ্য ইতিহাস ও সংস্কৃতির স্মারণিক রেনেসাঁ তহবিল. এই বইটিকে বুলগার শহরে নিয়ে আসার পরিকল্পনা করা হয়েছে, যেখানে হাজার বছর আগে প্রাচীন বুলগার রাজ্য ছিল.    কোরানের বছর, যা এখন এই রাজ্যে ঘোষিত, তা দেশের লোককে একে অপরকে বুঝতে সাহায্য করবে বলে মনে করেছেন তাতারস্থানের মুফতি ইলদুস হজরত ফাইজভ. তিনি বলেছেন:    "আমরা চাই সমস্ত মুসলমানের মনোযোগ আকর্ষণ করতে, সেই বিষয়ে যে, চরমপন্থী মত বা মৌলবাদী হওয়ার কোন প্রয়োজন নেই, ঐতিহ্য মতবাদের দিকেই তাঁদের দৃষ্টি ফিরিয়ে আনতে চাই. এখন অনেকে অভিযোগ করেন যে, আমরা ধর্ম থেকে দূরে সরে গিয়েছি, কোন একটা মন গড়া পথে চলেছি. আমরা দেখাতে চাই যে, ঐতিহ্য এখানে চলে আসছে আমাদের অবতার মহম্মদের সময় থেকেই ও আমাদের পূর্ব পুরুষেরা, যাঁরা রাশিয়াতে ছিলেন, তাঁরাও সেই ইসলাম ধর্মই পালন করেছেন, যার কথা লেখা রয়েছে পবিত্র কোরানে".    তাতারস্থানের মুসলমানদের ধর্মীয় প্রশাসনের নেতার মতে এই কোরানের বছরে যে সমস্ত অনুষ্ঠান করা হতে চলেছে – সম্মেলন, বৈঠক, বুলগার এলাকার প্রাচীন ঐতিহ্যময় জায়গায় পর্যটন – এই সবই সহায়তা করবে সমস্ত আগ্রহী লোকেদের মুসলমানদের পবিত্র গ্রন্থের সম্বন্ধে বলার, তার ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক যুক্তির মূল্য সম্বন্ধে জানানোর.    খুব শীঘ্রই "তাতারস্থানে কোরানের বছর" নামের সাইট খোলা হতে চলেছে, যেখানে "আমার জীবনে কোরান" নামের সাংবাদিকদের জন্য লেখার প্রতিযোগিতা করা হবে. এই বছরে একই সঙ্গে পরিকল্পনা রয়েছে কাজানে প্রকাশিত কোরানের হরফের ডিজিট্যাল রূপ দেওয়ার, তাতার ভাষায় কোরানের ধ্বনি রূপ দেওয়ার, "কোরান উপহার দিন" নামে এক দানের ব্যবস্থা করার.