0আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার উপ মহাসচিব গেরমান নাকেরত্স ইরানের তিন দিনের সফর সেরে ফিরে এসে সফরকে ভাল বলেছেন. প্রসঙ্গতঃ, কোন রকমের বিশদ বিবরণই উনি দিতে চান নি, শুধু বলেছেন সামনে এখনও অনেক কাজ ও আসন্ন ভবিষ্যতে ইরানে আরও একটি এই সংস্থার প্রতিনিধি দলের সফরের সম্ভাবনা বাদ দেওয়া যায় না. বিষয়টি নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক ভ্লাদিমির সাঝিন.


0    আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থা নাকেরত্স এর কথামতো এই ভাল সফরের বিবরণের বিষয়ে কিপটেমি করছে. ইরানের লোকেরাও নিজেদের তরফ থেকে সংবাদ মাধ্যমকে কোন বিবরণ দিয়ে খুশী করছে না – কিন্তু এর মধ্যেও সফরকে নাম দিয়েছে গঠনমূলক. কিন্তু এই সফর, যা বলা হচ্ছে সেই রকম যদি সফলই হবে, তবে কেন এত কম সাফল্যের উদাহরণ?


0    রাশিয়ার জ্বালানী ও নিরাপত্তা কেন্দ্রের ডিরেক্টর আন্তন খ্লোপকভ এই প্রসঙ্গে বলেছেন:


0"এই বিষয়ে তথ্য সত্যই খুব কম, এর জন্য অনেক ব্যাখ্যা রয়েছে. আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি সংস্থায় খুব ভাল করেই বুঝেছে যে, কত বেশী করে গুরুতর হয়ে পড়েছে ইরানের পারিপার্শ্বিকে সমস্যা আর তা শুধু পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়েই নয়. এই ক্ষেত্রে আমি আসা করবো যে, সংস্থা যথেষ্ট গুরুত্ব দিয়েই বুঝতে পেরেছে যে, যথেষ্ট ভাবে ভেবে চিন্তে ও ভারসাম্য বজায় না রেখে কোন রকমের তথ্য প্রকাশ করলে, তা এই সঙ্কটের উত্তেজনার মাত্রাকে আরও অনেক বাড়িয়ে দিতে পারে. তাই খুব বেশী খবর আশা করে লাভ নেই".


0উল্লেখ করবো যে, ২০১১ সালের নভেম্বর মাসে প্রকাশিত আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিয়ন্ত্রণ সংস্থার রিপোর্টের একজন লেখক ছিলেন গেরমান নাকেরত্স, যেখানে ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনার সম্ভাব্য সামরিক দিক নিয়ে তথ্য দেওয়া হয়েছিল. তার মধ্যে আবার জেনেরাল নাকেরত্স নিজেই ১১ই নভেম্বর আন্তর্জাতিক পারমানবিক সংস্থার প্রধান দপ্তর ভিয়েনা শহরে এই রিপোর্ট নিয়ে রুদ্ধদ্বার পেশ আয়োজন করেছিলেন. সুতরাং নাকেরত্স খুব ভাল করেই ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনার অন্ধকার দিক গুলি সম্বন্ধে ওয়াকিবহাল, আর তাঁকে ইরানের হয়ে অবস্থান নেওয়ার জন্য টলাতে পারে শুধু ইরানের পররাষ্ট্র নীতির সম্পূর্ণ খোলামেলা ভাবের আশ্চর্য জনক পরিবর্তন.


0কিন্তু এটাই বর্তমানে খুব কম হওয়া সম্ভব, ইরানের আভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে যে কঠোর যুদ্ধ হচ্ছে আগামী ২রা মার্চ দেশের পার্লামেন্ট নির্বাচনের আগে, তাতে দুটি রাজনৈতিক শক্তির কেন্দ্র, রাষ্ট্রপতি আহমাদিনিজাদ ও মজলিসের (পার্লামেন্টের) স্পীকার লারিদজানি, একে অপরকে দেশপ্রেমের অভাব নিয়ে বোমা মারামারি করতে গিয়ে ছাড়ছেন না.


0এই ধরনের পরিস্থিতিতে কোন আশ্চর্য হওয়ার মতো ঘটনা ঘটতে পারে না. বিশেষ করে ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে সবচেয়ে বেশী পরিস্থিতি ঘোরালো হওয়ার সময়ে. তাই আন্তন খ্লোপকভ বলছেন:


0"ইরানের পারমানবিক পরিকল্পনা নিয়ে সমস্যা খুবই গভীর ও আসন্ন সপ্তাহ ও মাস গুলিতে কোন রকমের সমাধানের সূত্র পাওয়া প্রায় অসম্ভব. তার ওপরে বর্তমানে ইরানের আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে, দুঃখের বিষয় হলেও, এটা কম সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে কোন গুরুত্বপূর্ণ উন্নতি করবে বলে তো মনে হয় না. আমার মতে, প্রাথমিক কাজ হওয়া উচিত্ – সঙ্কট সামরিক ভাবে যাতে না হয়, তা দেখা".


0সংস্থার পর্যবেক্ষকদের শেষ হওয়া সফর নিয়ে যা বলা যেতে পারে, তা হল দশক ধরে জমা সমস্যা তিন দিনে সমাধান করা সম্ভব নয়. বাস্তবে এটা ছিল এক রকমের যুদ্ধ করে অনুসন্ধান, যা করা দরকার ছিল ছয় পক্ষ ও ইরানের এক সঙ্গে আলোচনা, যা বর্তমানে আয়োজন করা হচ্ছে তার প্রস্তুতি. পক্ষ গুলির দীর্ঘ কালীণ একে অপরের সঙ্গে বিচ্ছেদের পরে এই সফর প্রথম পদক্ষেপ হয়েছে, এই আলোচনার উপলক্ষে. আর এই প্রথম পদক্ষেপ সকলেরই দরকার ছিল. তেহরান আরও একবার নিজেদের পারমানবিক অতিথি বত্সলতা দেখিয়েছে. আর আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি নিরাপত্তা সংস্থা নিজেদের জন্য পরিষ্কার করার চেষ্টা করেছে (একই সঙ্গে ছয় পক্ষের জন্যই) কোন দিকে ও কোন সুরে ইরানের লোকেরা আগামী আলোচনা ও বিতর্ক করতে রাজী.