0মাদক পাচার ও এই সমস্যার অবমূল্যায়ণ বিশ্ব অর্থনৈতিক সঙ্কটের একটি কারণ হয়েছে. রাশিয়ার মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণ পরিষেবার প্রধান ভিক্টর ইভানভ এই রকমই মনে করেন. গত সপ্তাহে দাভোস বিশ্ব অর্থনৈতিক সম্মেলনে প্রথমবার মাদক পাচারের প্রশ্ন নিয়ে আলোচনা হয়েছে.


0দাভোস সম্মেলনে মাদক নিয়ন্ত্রণ পুলিশের উদয় এখানের নিয়মিত সদস্য অর্থনীতিবিদ ও ধনিক বর্গের জন্য কম বিস্ময়ের কারণ হয় নি. এই ধরনের প্রতিক্রিয়া রুশ মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণ পরিষেবার প্রধান ভিক্টর ইভানভকে বিশেষ অস্বস্তির মধ্যে ফেলে নি. তাঁর কথামতো, এটা সহজেই ব্যাখ্যার উপযুক্ত: বিশ্বের ধন সম্পত্তির বিষয়ে বিশেষজ্ঞরা সব সময়েই বুঝতে পারেন না, কি করে বিশ্ব অর্থনীতিতে মাদক উত্পাদন ও পাচার প্রভাব ফেলে থাকে.


0বর্তমানে, শুধু রাষ্ট্রসঙ্ঘের সরকারি মূল্যায়ণ অনুযায়ী মাদকের উত্পাদন, পাচার ও বাণিজ্যে পঞ্চাশ হাজার কোটি ডলারের সমান অর্থ আবর্তিত হচ্ছে. এটা শুধুই সরকারি ও খুবই কাছাকাছি ধরনের সংখ্যা. ভিক্টর ইভানভের কথামতো, সেখানে প্রতিফলিত হয়েছে শুধু অপরাধ জগতের আয়, বিশ্ব অর্থনীতিতে এর ফলে ক্ষতি অনেক বেশীই হয়েছে. তিনি এই প্রসঙ্গে বলেছেন:


0"মাদক দেশের নাগরিকদের স্বাস্থ্যের উপরে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করে, সামাজিক নিরাপত্তার প্রশ্নেও তাই. বিশ্ব সঙ্কটের প্রকৃতি নিয়ে বিচার করলে দেখা যাবে যে, বাস্তব অর্থনীতি ফাটকা বিনিয়োগের বুদ্বুদের শিকার হয়েছে, যা নিয়ে অনেক কথা বলা হচ্ছে, আর তা আসলে মাদকের অর্থ".


0ভিক্টর ইভানভ ইউরো অঞ্চলে সঙ্কটকে আফগানিস্তানে মাদক উত্পাদনের বৃদ্ধির সঙ্গে জুড়েছেন. গত ১০ বছরে আফগানিস্তানের হেরোইনের ব্যবহার ইউরোপীয় দেশ গুলিতে বাস্তবে প্রায় ১০ গুণ বেড়েছে, লাতিন আমেরিকার কোকেইনের বাজার দ্বিগুণ. এটা ইউরোর বিরুদ্ধে তৈরী এক আদর্শ মাদক অস্ত্র, বলে নিশ্চিত হয়ে ভিক্টর ইভানভ যোগ করেছেন:


0"আজ, শুধু সরকারি হিসাবে ইউরোপীয় সঙ্ঘের দেশ গুলিতে মাদকের বাজারের মূল্যায়ণ করা হয়েছে দশ হাজার কোটি ইউরোর বেশী. খুচরো ও পাইকারী বিক্রীর কথা হিসাবে আনলে এটা বেড়ে প্রায় বিশ হাজার কোটি ইউরোর মত হয়. যদি এর থেকে অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব হিসাব করা হয়, তবে এর ক্ষতি সব মিলিয়ে ষাট থেকে সত্তর হাজার কোটি ইউরোতে পৌঁছতে পারে. এই পরিমান অর্থই ইউরোপের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে ২০০৯ সালে আর্থিক সঙ্কটের প্রথম ঢেউয়ের ধাক্কার সময়ে অর্থনীতি গুলিকে রক্ষা করার জন্য আলাদা করে দেওয়া হয়েছিল".


0স্পষ্টই দেখা যাচ্ছে যে, বিশ্বের অর্থনৈতিক সমস্যা সমাধানের জন্য একই সময়ে মাদকের উত্পাদন ও পাচার কমাতে হবে. রাশিয়া আফগানিস্তানের মাদক বিপদ থেকে রক্ষা পাওয়ার উপায় একাধিকবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় সঙ্ঘকে প্রস্তাব করেছিল. সেটা ছিল জমিতে আফিমের মত মাদকের চাষ নষ্ট করে দেওয়া ও সেই দেশের অর্থনীতিকে পরিকাঠামো ও কর্ম সংস্থানের ব্যবস্থা করে সাহায্য করা. আর যখন আপাততঃ রাশিয়ার বিদেশের সহকর্মীরা এই প্রস্তাব সম্বন্ধে নানা রকম ভাবনা নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন, মাদক পাচারের পরিমান খালি বেড়েই চলেছে. রাশিয়ার মাদক পাচার নিয়ন্ত্রণ পরিষেবার তথ্য অনুযায়ী এই বছরে আফগানিস্তানে গত বছরের চেয়ে দেড় থেকে দ্বিগুণ বেশী আফিম চাষ থেকে সংগ্রহ করা হতে চলেছে.