0দুই বছর আগে বেইজিং ও অসলো শহরের এক কূটনৈতিক দূর্ঘটনা হঠাত্ করেই আর্কটিকের স্ক্যাণ্ডাল হয়ে বেড়ে উঠেছে. নরওয়ে আর্কটিক সভায় চিনের স্থায়ী পর্যবেক্ষক দেশ হয়ে প্রবেশের পথ বন্ধ করবে বলে ঠিক করেছে. এই সম্বন্ধে নরওয়ের পররাষ্ট্র দপ্তরের উত্স উল্লেখ করে স্থানীয় সংবাদপত্র আফটেনপোস্টেন প্রকাশ করেছে.


0অসলো বেজিংয়ের কাছে কঠোর দাবী করেছে. নরওয়ে আর্কটিক সভায় চিনের সম্পূর্ণ ভাবে অংশগ্রহণ রোধ করতে চায়, যতদিন না বেইজিং অসলোর সঙ্গে সরকারি যোগাযোগ সর্ব্বোচ্চ পর্যায়ে পুনর্বহাল করতে রাজী না হবে, ততদিন পর্যন্ত. ২০১০ সালে এই সম্পর্ক জটিল হয়েছে, যখন চিনের নির্বাসিত মানুষ লিউ সিয়াবো নোবেল শান্তি পুরস্কার পেয়েছিলেন. নরওয়ে দেশের নোবেল কমিটির এই সিদ্ধান্ত বেইজিং শহরে প্রবল প্রতিবাদের উদ্ভব করেছিল, যদিও দুই দেশের এর আগে সম্পর্ক ছিল সহযোগী দেশের মতই, এই কথা উল্লেখ করে রুশ নরওয়ে সাইটের সম্পাদক পাভেল প্রোখোরভ বলেছেন:


0"এই পুরস্কার ঘোষণার আগে পর্যন্ত চিন ও নরওয়ে খুবই সক্রিয়ভাবে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক উন্নত করেছিল. অংশতঃ, দুই দেশের মধ্যে মুক্ত বাণিজ্য সংক্রান্ত চুক্তিও স্বাক্ষরিত হতে যাচ্ছিল. তার ফলে দুই দেশের মধ্যে অনতিপূর্ব কম দ্রব্য শুল্ক ঠিক করা হতে যাচ্ছিল. প্রসঙ্গতঃ নরওয়ে এই ক্ষেত্রে ইউরোপীয় দেশ গুলির তুলনায় বিশেষ ছাড় পেতে যাচ্ছিল. কিন্তু এখানে নোবেল পুরস্কার ঘোষণা ও তার সঙ্গেই চিনের পেছিয়ে যাওয়া. বেইজিং বিশ্বাস করে যে, নোবেল কমিটি কোন স্বাধীন সংস্থা নয় আর তারা নরওয়ে দেশের পররাষ্ট্র নীতি অনুযায়ী কাজ করে থাকে".


0উত্তরের হিম সাগর হয়ে সামুদ্রিক পথ- এটা অমর চিনের জন্য সরাসরি লাভ. কিন্তু উত্তর মেরুতে একমাত্র সামুদ্রিক পথই চিনের আগ্রহের বিষয় নয়, যা এখানে চিনের দরকার. বিজ্ঞানীদের মূল্যায়ণ অনুযায়ী, এইখানে রয়েছে বিশ্বের সমস্ত খনিজ তেল ও গ্যাসের ভাণ্ডারের শতকরা ২৫ ভাগ. নিজেদের রসদের ভাণ্ডার অপ্রতুল হওয়ার ফলে চিনের জন্য এই অঞ্চল খুবই গুরুত্বপূর্ণ, এই কথা মনে করে রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষণ ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার খ্রামচিখিন বলেছেন:


0"যদি চিন সেই রকমের গতির সঙ্গে বাড়তে থাকে, যা এখন বাড়ছে, তবে সারা বিশ্বের রসদও তাদের জন্য কম পড়বে. বিশ্বের মানে চিনের এই দ্রুত বেড়ে ওঠা ঠেকানো দুষ্কর হবে. এটা সবচেয়ে বড় সমস্যা আর কেউ জানে না তা নিয়ে কি করা হবে. চিন একেবারেই আর্কটিক দেশ নয়, এখানের জল বা জমি কোনটাতেই চিনের কোন হক নেই".


0স্টকহোমের আন্তর্জাতিক বিশ্ব শান্তি গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞদের তৈরী রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, আর্কটিক এমন জায়গা হতে পারে, যেখানে চিন নিজেদের ভূ রাজনৈতিক লক্ষ্য নিয়ে আসতে পারে. কিন্তু শুধু চিনই কি? অসলো ও বেইজিং দুই শহরের মধ্যে জ্বলে ওঠা স্ক্যাণ্ডাল সাক্ষী হয়েছে যে, আর্কটিক অঞ্চলের নতুন করে বিশ্বের ভাণ্ডার ও নতুন উত্তেজনার কারণ হিসাবে মূল্য ক্রমাগতই বেড়ে যাচ্ছে.