0আগামী সপ্তাহে রাষ্ট্রপতি কারজাই তালিবদের সঙ্গে দেখা করতে চেয়েছেন. কিন্তু তা কাতারের রাজধানী দোহাতে নয়, যেখানে তালিবেরা এখনই মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনায় রত, বরং তা হবে সৌদি আরবের রাজধানী এর রিয়াদে. বর্তমানের আফগানিস্তান সম্বন্ধে রুশ বিশেষজ্ঞদের দৃষ্টিকোণ থেকে এখানে কি চক্রান্ত লুকিয়ে থাকতে পারে? বিষয় নিয়ে বিশদ হয়েছেন রেডিও রাশিয়ার সমীক্ষক পিওতর গনচারোভ.


0    বাইরে থেকে দেখলে মনে হয় যে, রাষ্ট্রপতি কারজাই ঠিক করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে দেখিয়ে দেবেন, কে আফগান সমস্যার নেতৃত্বে রয়েছে. অন্ততঃ- কার তা হওয়া উচিত্. আর একই সঙ্গে, হতে পারে যে, কাতার রাষ্ট্রকে তাদের উপযুক্ত জায়গায় বসিয়ে দিতে. যারা, মনে করিয়ে দিই যে, শুধু কাবুলকে নিজেদের দেশে তালিবদের প্রতিনিধি দপ্তর খোলার বিষয়ে কাবুলের মত নেওয়ার প্রয়োজন তো বোধ করেই নি, এমনকি হামিদ কারজাইকে এই বিষয়ে জানানোর প্রয়োজনও বোধ করে নি. এই কথা সত্যি যে, একটা অবাক হওয়ার মতো ছবি দেখতে পাওয়া গিয়েছে. দোহাতে কাতারের সরকারের পক্ষ থেকে সানন্দে প্রস্তাব করা মঞ্চে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তালিবদের সঙ্গে আফগানিস্তানে দুই বিরোধী পক্ষের মধ্যে পারস্পরিক ভরসা অর্জনের জন্য পথের সন্ধানে ব্যস্ত. তার মধ্যে আবার তারা সেখানে আলোচনা করছে প্রধান নেতৃত্বের অনুপস্থিতিতেই, যা নিঃসন্দেহে আজকের আফগানিস্তানে যে রকম ভাবেই দেখা হোক না কেন, কারজাইয়ের প্রশাসনই.


0    কিন্তু যদি এই ধারণা থেকে দেখা হয় যে, এর রিয়াদে তালিবদের হয়ে কথা বলবে সেই প্রতিনিধি দলই, যারা দোহাতেও ছিল, তাহলে এই বৈঠক অনেকটা আলাদা রকমের দেখতে লাগবে. তাহলে দাঁড়াচ্ছে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের আশ্বাস পূর্ণ করেছে- আলোচনার প্রক্রিয়াকে পরিস্কার আফগান লোকেদের মধ্যেই হতে দিচ্ছে. যদিও এখানেও কিছু পার্থক্য থেকেই যাচ্ছে.


0    মনে করিয়ে দিই যে, এক দিকে তালিব ও অন্য দিকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জার্মানী ও কাতারের প্রতিনিধিদের মধ্যে যোগাযোগ ২০১০ সালের নভেম্বর মাসেই শুরু হয়েছিল. আর যেমন, নভসিবিরস্ক শহরের রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রফেসর ভ্লাদিমির প্লাস্তুন, যিনি আধুনিক আফগানিস্তানের সমস্যা সম্বন্ধে বিশেষজ্ঞ, তাঁর মত হল, যেহেতু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই আলোচনা পর্বকে সম্ভাব্য করে তুলেছে, তেমনই তারা নিশ্চয়ই এই আলোচনা প্রক্রিয়ার সমস্ত অধ্যায়কেই নিয়ন্ত্রণ করতে চাইবে.


0    "মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র আফগানিস্তান নিয়ে সমস্ত আলোচনাতেই উপস্থিত ছিল. কেন্দ্রীয় আফগানিস্তানের প্রশাসনের সঙ্গে গুলবেদ্দিন হেকমতিয়ার নেতৃত্বে ঐস্লামিক দলের বৈঠক, রাষ্ট্র ব্যবস্থার মধ্যেই থাকা বিরোধী পক্ষ – প্রাক্তন উত্তরের জোটের বর্তমান নেতৃস্থানীয় দল  ঝাবেই এ মেলির সঙ্গে ইউরোপীয় দের বৈঠক, যা জার্মানীতে হয়েছিল ও যেখানেও আমেরিকার লোকেরা ছিলেন. কাতারে তালিবদের প্রতিনিধি দপ্তরও খোলা হয়েছে তাদেরই উদ্যোগে ও তাদের সরাসরি সহযোগিতায়. শেষমেষ, সৌদি আরব – এই অঞ্চলে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ভরসা যোগ্য সহযোগী দেশে, তাই এর রিয়াদে আলোচনা নিশ্চয় করেই আমেরিকা চাইবে নিজেদের নিয়ন্ত্রণেই রাখতে".


0    বোঝাই যাচ্ছে যে, এই তালিবদের সঙ্গে আলোচনা – শুধু কাবুলের আভ্যন্তরীণ রাজনীতির ক্ষেত্রেই  প্রধান কাজের অংশ নয়, বরং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকেও আফগানিস্তানে সার্বিক স্ট্র্যাটেজির অংশ. আর তা স্বত্ত্বেও, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে তালিবদের এই ভাবে কাবুলের প্রশাসনের সঙ্গে এক আলোচনার টেবিলে, তাও আবার ব্যবহার করে ফেলে দেওয়ার মত করে করানো সম্ভব হবে কি? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মনে হয়, কাবুলের দাবী শোনার প্রয়োজন আছে, যারা সেই মত থেকেই জানিয়েছে যে, আফগানিস্তানের প্রশাসন তালিবদের সঙ্গে আলোচনার ক্ষেত্রে আমন্ত্রণ কারী পক্ষই হওয়া উচিত্, মোটেও আলোচনার একটি পক্ষই শুধু নয়. কাবুলের উদ্যোগে এর রিয়াদে বৈঠকের ঘটনাই বাহ্যিক ভাবে এই দাবীর সঙ্গে মেলে. বাকিটা আলোচনার উপরেই নির্ভর করবে.