0২০১২ সাল আন্তর্জাতিক কূটনীতির পক্ষে জটিল বছর হতে চলেছে. নিকট প্রাচ্য ও আফ্রিকার উত্তরে বিরোধের আগুণ নেভানো সম্ভব হচ্ছে না. একই সঙ্গে হচ্ছে না এই পরিবর্তনের পরিণতির মূল্যায়ণও. কিন্তু কিছু দেশের জন্য একই সঙ্গে – যেমন, রাশিয়া, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ফ্রান্স, ইরান, ইজিপ্ট – ২০১২ সাল, এটা নির্বাচনের বছর. আভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক রাজনীতির পারস্পরিক যোগসূত্র নিয়ে রেডিও রাশিয়াকে দেওয়া এক সাক্ষাত্কারে আন্তর্জাতিক নীতি সংক্রান্ত পার্লামেন্ট পরিষদের প্রথম উপ সভাপতি কনস্তানতিন কোসাচেভ সবিস্তারে মন্তব্য করেছেন.


0নির্বাচনী প্রক্রিয়া আন্তর্জাতিক সমস্যা নিয়ে সমাধানের ক্ষেত্রে বাড়তি চাপ সৃষ্টি করে বলে মনে করেন কোসাচেভ, তিনি বলেছেন:


0"আমি এই রকমের বোধ থেকে কিছুতেই বের হতে পারছি না যে, কিছু রাজনৈতিক প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, যারা বারাক ওবামার প্রাক্ নির্বাচনী প্রচার চালাচ্ছেন, তারা তাঁকে বলছেন যে, ইরানের চারপাশে, সিরিয়ার চারপাশে, ও কিছু ইরাক ও আফগানিস্তানের ঘটনা নিয়ে উত্তেজনা সৃষ্টি – এই সবই ঘটানো হচ্ছে এই জন্য যে, এই গুলি নির্বাচনে ভোটার দের জন্য পছন্দসই হবে আর অন্য কিছু ঘটনা হবে না, বরং উল্টো প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করবে. আর এটাই আমার দৃষ্টিকোণ থেকে সারা বছরের সমস্ত কষ্টের কারণ আগে থেকেই ঠিক করে দিচ্ছে. পররাষ্ট্র নীতি সংক্রান্ত দৃষ্টিকোণ থেকে এই ঘটনা পরম্পরায়, আমার মনে হয়েছে যে, আমরা এই নির্বাচনী প্রচার ও অন্যান্য প্রচারের কাছেই বন্দী হয়ে থাকবো, যা বড় দেশ গুলিতে ঘটতে চলেছে. ফরাসী- তুরস্ক সম্পর্কে সমস্যার বৃদ্ধি – এটাও ফ্রান্সের আভ্যন্তরীণ রাজনীতি, এপ্রিল মাসের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রস্তুতি. ইরানে – মার্চ মাসে নিজেদের নির্বাচন রয়েছে. তারাও ভাবছে, বর্তমানের পরিস্থিতি থেকে কি করে তারা বের হবে- আন্তর্জাতিক পারমানবিক শক্তি সংস্থার সঙ্গে সহযোগিতা করবে, নাকি করবে না".


0এই সব বিভিন্ন দেশের প্রশাসনের রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, বিনিয়োগ সংক্রান্ত ও অন্যান্য স্বার্থই নিকট প্রাচ্য অঞ্চলে এক সঙ্গে জুটেছে, বলে ব্যাখ্যা করেছেন কোসাচেভ.


0"এই সব পরস্পরকে ছুঁয়ে যাওয়া জায়গাতেই বহু রাষ্ট্রের পক্ষেই কোন একটি বিরোধে মত্ত গোষ্ঠীর হয়ে খেলার ইচ্ছা জাগে. এই তো আমেরিকার লোকেরা খোলাখুলি ভাবেই ইজরায়েলের পক্ষ সমর্থন করছে. কোন রকম বাদ বিচার না করেই যে, সেখানে কি ঘটছে. কিছু দেশ এমনও রয়েছে, যারা এই বিরোধে প্যালেস্টাইনকে শুধু সমর্থনই করছে না, তারা আবার প্যালেস্টাইনের ভিতরে সবচেয়ে চরমপন্থীদের সমর্থন করছে, সেই হামাস দেরই. এই রকমের অবস্থানের মেরু বদল অবশ্যই নিকট প্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের ক্ষেত্রে নিজের ভূমিকা পালন করছে. এই অর্থে আমার রাশিয়ার অবস্থানকে খুবই গুরুত্বপূর্ণ মনে হয়েছে. আমরা এই পক্ষ ও অন্য পক্ষ দুই তরফেই বাস্তব নির্ভর, নিঃস্বার্থ সহকর্মী দেশ বলেই স্বীকৃত হতে পেরেছি".


0মস্কো নিজের সমস্ত সম্ভাবনা ব্যবহার করবে, যাতে পরিস্থিতির গতি প্রকৃতি শান্তিপূর্ণ দিকেই যায়, কোন রকমের বিরোধের তীক্ষ্ণতা আর না বাড়ে. এই পরিস্থিতিতে রাশিয়া এক নিজস্ব ধরনের আটকে রাখার বিষয় হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন কনস্তানতিন কোসাচেভ, তিনি বলেছেন:


0"আমি নৈরাশ্যবাদী হতে চাই না, কিন্তু পরিস্থিতি সত্যি খুব কঠিন. আর রাশিয়ার কূটনীতির পক্ষ থেকে, রাশিয়ার কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও এখানে অনেক রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক কৌশলের প্রয়োজন. আমি একটি নীতিগত জিনিস উল্লেখ করতে চাই. ২০১২ সাল – এটা রাশিয়াতেও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বছর. আর আমি বিশ্বাস করি যে, আমাদের নির্বাচনে পররাষ্ট্র নীতির ক্ষেত্রে কোন রকমের জটিলতাই সৃষ্টি করবে না. কারণ আমাদের পররাষ্ট্র নীতি, আনন্দের বিষয় যে, কোন রকমের নির্বাচনী লক্ষ্যের সঙ্গেই জড়িত নয়. আমি বিশ্বাস করি যে, রাশিয়ার পররাষ্ট্র নীতি নিজের তরফ থেকে পরম্পরা, ধারাবাহিকতা, স্বচ্ছতা ও পূর্বাভাস দেওয়ার উপযুক্তই থাকবে, আর তা ৪ঠা মার্চের নির্বাচনের পরও".