চিনের বিজ্ঞানীরা মানুষের মগজ পরীক্ষা করে দেখছেন, যারা ইন্টারনেটের নেশা. পাগল তাদের. তার ফল খুবই শোচনীয়: ইন্টারনেটে নেশা মদ বা তামাকের নেশার মতই মানুষের স্নায়ু বৈকল্যের কারণ.

    তার থেকে মগজের সাদা বস্তুর ক্ষতি হয়. বিশেষ করে খুবই বেশী করে সেই সব জায়গা খারাপ হয়ে যায়, যা মাথায় পৌঁছনো তথ্যের আবেগ জনিত পরিশোধন করে থাকে. লোকে পরিস্থিতির উপরে নিয়ন্ত্রণ হারায় ও নিজের জীবনেও, আর ইন্টারনেট তাদের জন্য বাস্তবের নকলের ভূমিকা নেয়, - বলেছেন রাশিয়ার অ্যাকাডেমিক, মনস্তত্ববিদ ও লেখক সের্গেই ক্লুচনিকোভ.

"ইন্টারনেট নেশার লক্ষণ – খুবই বিভিন্ন রকমের. প্রধান হল – বাস্তব থেকে আলাদা হয়ে যাওয়া, সব সময়ে উত্তেজিত থাকা, বিশ্বে সক্রিয়ভাবে কিছু করার প্রতি নিরুত্সাহ হয়ে যাওয়া, সিদ্ধান্ত নিতে কষ্ট, গুমের গণ্ডগোল. তা আবার ইন্টারনেটের দেওয়া খবরের উপর প্রচুর ভরসা আর বাস্তবের জীবনের উপরে অনাস্থায় প্রকাশিত হয়ে থাকে".

মানসিক ভাবে হতাশ থাকা শরীরের উপরেও প্রভাব ফেলে মানুষ আরও বেশী করে দুর্বল ও অলস হয়ে যায়, বসে থাকার জীবনেই খুশী থাকে, তাড়াতাড়ি ওজন বাড়তে থাকে. তারা সময়ের উপরে নিয়ন্ত্রণ হারায়, যা ইন্টারনেটে বসে কাটায়, আর বাস্তব বন্ধুদের চেয়ে সাইটের বন্ধুদের উপরেই বেশী নির্ভর করে থাকে.

ইন্টারনেটের প্রতি খুব একটা বিশ্বস্ত নয় এমন মনে হওয়া চিনের সরকার কি বিজ্ঞানীদের এই গবেষণার উপরে কোন রাজনৈতিক বায়না দিয়ে রেখেছেন কি? "মনে তো হয় না যে, তা কোন রাজনৈতিক রং দিয়েছে, কিন্তু যাঁরা চিনে ইন্টারনেট নিয়ে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন, তাদের জন্য এটা কম আগ্রহের বিষয় হবে না", - বলে মনে করে সের্গেই ক্লুচনিকোভ বলেছেন:

"চিনের লোকেরা সমস্ত ক্ষেত্রেই নিজেদের স্বয়ং সম্পূর্ণতার খোঁজে রয়েছে, তার মধ্যে ইন্টারনেটও পড়ে, যেখানে অন্যান্য দেশের প্রভাব এড়ানো দরকার বলে মনে করা হয়. সুতরাং, তাঁরা চান জাতীয় সংহতি বজায় রাখতে, কারণ ইন্টারনেটের মাধ্যমে সব সময়ে ইতিবাচক প্রভাব ফেলা হয় না. আমরা মনে করতে পারি সেই সব যুদ্ধ, যেখানে ইন্টারনেটে জেতা হয়েছে, বিপ্লব, যা সামাজিক সাইটের মাধ্যমে করানো হয়েছে. তাঁদের আশঙ্কা বোধগম্য, কিন্তু মনে করি যে, এখানে ইন্টারনেটের রাজনৈতিক প্রভাবের কথা হচ্ছে না, হচ্ছে তার ব্যক্তিগত মানসিকতার উপরে প্রভাব নিয়ে. সম্ভবতঃ, চিকিত্সকদের সিদ্ধান্ত তাদের উপরে প্রভাব ফেলবে, যাঁরা ইন্টারনেট সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকেন. তা নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজন, কারণ লোকে আরও বেশী করে ইন্টারনেট নেশায় আসক্ত হচ্ছে".

চিনের সরকারকে ইন্টারনেটের বিষয় বহুদিন ধরেই ভাবাচ্ছে. সরকার প্রশাসনিক ভাবে ইন্টারনেট কাফে খোলা আটকে রেখেছে ও আইন করে সময় বেঁধে দিয়েছে বিশ্ব জোড়া ইন্টারনেটে ঢোকার ও তার জন্য উপযুক্ত বয়ঃসীমা. ২০০৮ সালে চিনে "ইন্টারনেট নেশা সংক্রান্ত বিষয়ে লক্ষণ" বোঝার জন্য এক মানদণ্ড তৈরী করা হয়েছে, যা অনুসারে, যে সমস্ত লোকেরা ইন্টারনেটে অনেক সময় দেন, তাদের আশু চিকিত্সার প্রয়োজন. আর শেষে মনে না করে পারা যাচ্ছে না মহান চিনের আগুণে দেওয়ালকে, যা চিনের জনতার জন্য অন্যান্য দেশ থেকে আসা বাড়তি তথ্যকে পরিশোধন করে দেয়.