আন্তর্জাতিক নিষেধাজ্ঞার হুমকি স্বত্ত্বেও ইসলামাবাদ ইরান- পাকিস্তান গ্যাস পাইপ লাইন প্রকল্প থেকে হঠে যাবে না, এই ঘোষণা পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের সরকারি মুখপাত্র আবদুল্লা বশিট করেছেন. বিষয় নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি  ভানেত্সভ.

ইরানের থেকে পাকিস্তান গ্যাস পাইপ লাইন বসানো প্রকল্পের ভাগ্য খুব একটা সহজ নয়. গত শতকের নব্বইয়ের দশকেই এই নিয়ে কথা শুরু হয়েছিল. কিন্তু কথাবার্তা বাস্তবে সম্ভব হতে পেরেছিল শুধু যখন এই প্রকল্পে ভারত যোগ দিয়েছিল. গ্যাস পাইপ লাইন ইরান থেকে পাকিস্তান হয়ে ভারতে আসার কথা. এর দৈর্ঘ্য প্রায় আড়াই হাজার কিলোমিটার ও মূল্য সাতশো কোটি ডলারের বেশী.

কিন্তু এই প্রকল্পের শেষ কথাবার্তার পর্যায়ে ভারত প্রকল্প থেকে হাত গুটিয়ে নিয়েছে, আর তা ওয়াশিংটনের থেকে চাপ ছাড়া হয় নি. পাকিস্তান এটা করতে চায় নি. কারণ এই প্রকল্প একবার তৈরী হতে পারলে ইসলামাবাদ প্রাকৃতিক গ্যাস পেতে পারে বিশ্বের একটি সবচেয়ে বড় গ্যাস উত্তোলন ক্ষেত্র পারস্য উপসাগরের দক্ষিণ পার্স থেকে. গত বছরের মে মাসে পাকিস্তান ও ইরান এই প্রকল্পে স্বাক্ষর করেছে. "আমরা ২০১৪ সালে এই প্রকল্প তৈরী করে ফেলতে চাই" – বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন আবদুল বশিট.

কিন্তু এখানে খুবই গুরুতর রাজনৈতিক ঝুঁকি থেকে যাচ্ছে, এই কথা উল্লেখ করেছেন মস্কোর স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আঝদার কুরতভ:

"এই ঝুঁকি রয়েছে, সেই বিষয়ে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, অবশ্যই, এই ধরনের প্রকল্প থেকে মোটেও খুশী নয়, কারণ তা ইরানের অর্থনৈতিক স্বনির্ভরতা মজবুত করে আর তা পাকিস্তানের জন্যও বটে. তারই সঙ্গে বিগত সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সম্পর্ক শুধু ইরানের সঙ্গেই নয়, পাকিস্তানের সঙ্গেও খারাপ হয়েছে. সমস্ত কিছুদিন আগের ঘটনা – পাকিস্তানের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর চৌকি আক্রমণ, সেই দেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতির সঙ্কট মোচনে তাদেরই মতামত জানতে না চাওয়া, অবিরল তথ্য দিয়ে চাপ সৃষ্টি, আমেরিকার সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ প্রতিনিধিদের পাকিস্তানের পরিস্থিতি সম্বন্ধে তীক্ষ্ণ মন্তব্য এমনই পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে, যখন পাকিস্তান হয়তো ঠিক করেছে যে, সময় এসেছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রকে ইচ্ছে করে হুল ফুটিয়ে দেওয়ার".

ইসলামাবাদের ঘোষণা ইরানের সঙ্গে জ্বালানী শক্তি বিষয়ে সহযোগিতা বজায় রাখা নিয়ে একই সঙ্গে বিগত সময়ে চিন ও ভারতের কাজের সঙ্গে মিলেছে. এই দুই দানবিক আকারের এশিয় দেশই ইরানের খনিজ তেল সম্বন্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা সমর্থন করতে রাজী হয় নি ও ইরান থেকে কার্বন যৌগ আমদানী বজায় রাখার সিদ্ধান্তে অনড় থাকবে বলে জানিয়েছে.

পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের তরফ থেকে এই ধরনের সরাসরি ঘোষণা স্বত্ত্বেও আপাততঃ তাড়াতাড়ি হয়ে যাবে বলা যে, এই প্রকল্প শীঘ্রই বাস্তবায়িত হতে চলেছে. খুবই প্রবল চাপ দেওয়া হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে, যাতে ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা সবচেয়ে বেশী করে ফল দেয়. আর পাকিস্তান এই মার্কিন চাপ সহ্য করতে পারবে কি না – তা এখন বড় প্রশ্নের বিষয়.