মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কাতারে আসা উচ্চপদস্থ তালিবান আন্দোলনের প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনা শুরু করেছে, এই খবর রবিবারে দিয়েছে "নিউ ইয়র্ক টাইমস" সংবাদপত্র. এই কাগজে যে রকম উল্লেখ করা হয়েছে, তা হল সরকারি ভাবে ওয়াশিংটন এই আলোচনার মূল্যায়ণ নিয়ে খুবই সতর্ক কিন্তু আলোচনা শুরু সম্বন্ধে বাস্তবে অস্বীকার করে নি.

    কাতারে তালিবানের প্রতিনিধিদের বিনা বাধায় প্রবেশ অধিকার দেওয়া হয়েছে, যদিও তাদের মধ্যে কয়েকজন রাষ্ট্রসঙ্ঘের তৈরী "কালো তালিকায়" রয়েছেন. কাবুলে এরই মধ্যে সন্দেহ করা হয়েছে যে, শুরু হওয়া আলোচনা – এটা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চেষ্টা আফগানিস্তানের প্রশাসনের আড়ালে কোন গোপন চুক্তি করে নেওয়া.

    ওয়াশিংটন কি সত্যই আফগানিস্তান তালিবদের ফেরত দিতে তৈরী?  মস্কো শহরের বিশেষজ্ঞরা – এই বিষয়ে নানা রকমের দৃষ্টিকোণ থেকে দেখেছেন বলে সমীক্ষক ইভগেনি এরমলায়েভ বলেছেন:

    "তালিবদের সঙ্গে আমেরিকার সরকার আফগানিস্তানের জাতীয় শান্তি প্রক্রিয়ায় তাদের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা নিয়ে আপাত দৃষ্টিতে এই আলোচনা চালাচ্ছে. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বাস উত্পাদনের চেষ্টা করছে, যে শুধু এই কারণেই কাতার দেশে তালিবদের আনুষ্ঠানিক ভাবে প্রতিনিধি দপ্তর খুলতে দেওয়া হয়েছে".

    এখানে যে বিষয়ে লক্ষ্য করার দরকার, তা হল যে, পশ্চিমে বিগত সময়ে তালিবদের সন্ত্রাসবাদী বলা বন্ধ হয়েছে, আর তাদের বিদ্রোহী বলে সসম্মানে ডাকা শুরু হয়েছে. কিছু লোক মনে করেছেন য়ে, ওয়াশিংটন আগে থেকেই তালিবদের ছাড় দিতে তৈরী রয়েছে. লক্ষ্য – যে কোন মূল্যে নিজেদের জন্য খুবই ভারী "আফগান মিশনের রিপোর্ট" বন্ধ করা. আর, এই দৃষ্টিকোণের সমর্থকেরা যে রকম বলছেন যে, আলোচনার গতি এই বিষয় দিয়ে নির্ণয় করা হবে.

    এই ধরনের ঘটনা পরম্পরার গতি বাদ দেওয়া অবশ্যই উচিত্ নয়. কিন্তু মনে তো হয় না যে, সেই মতের সঙ্গে একমত হওয়া যেতে পারে যে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা নিয়ে আফগানিস্তানের উপরে তালিবেরা তাদের নিয়ন্ত্রণ প্রসারিত করবে. অন্ততঃ এখনই তা নয়. এমনকি এই দিকে কোন রকমের উল্লেখ যোগ্য অগ্রগতিও পশ্চিমের গত দশ বছর ধরে করা রক্তক্ষয়ী যুদ্ধের সম্পূর্ণ পরাজয় বলেই স্বীকৃত হবে. আর নিজেদের জন্য এই ধরনের দুর্বলতা প্রকাশ বারাক ওবামা নিজেকে নির্বাচনের বছরে করতে দিতে পারেন না – তাহলে রিপাব্লিকান দলের লোকেরা তার জায়গায় শুধু ভিজে ছাপ পড়ার অবস্থা রেখে ছেড়ে দেবে. সুতরাং, খুবই সম্ভবতঃ নভেম্বর মাস অবধি – অর্থাত্ নির্বাচন পর্যন্ত আমেরিকার তরফ থেকে তালিবদের সঙ্গে কথা বলতে যাওয়া লোকেরা শুধু চা পানেই কাটিয়ে দেবেন আর নানা ধরনের ভরসার সেতু তৈরী করতে ব্যস্ত থাকবেন. আর নির্বাচনের পরে কি হবে, সেটা তার ফলের উপরেই নির্ভর করছে.

    মস্কোর আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ও সিনিয়র বৈজ্ঞানিক কর্মী ভ্লাদিমির সোতনিকোভ অবশ্য কিছুটা অন্য ধারণা পোষণ করে বলেছেন:

    "তালিবেরা বেশ গুরুত্বপূর্ণ ভাবেই নিজেদের আবার আফগানিস্তানের প্রশাসনের ক্ষমতায় ফিরিয়ে আনতে চাইছে. আর ভবিষ্যতে তারা এই দেশকে নিজেদের নিয়ন্ত্রণে আনতেও পারে. তারা খুবই ভাল করে সংহত ও তৈরী হওয়া লোকজন. তারা কিছু নিকট প্রাচ্যের সংরক্ষণশীল প্রশাসনের কাছ থেকে অর্থ সাহায্য পায়, যা তাদের সশস্ত্র হতে দিয়েছে. তার ওপরে তালিবদের সঙ্গে সম্পর্ক রক্ষা করে চলেছে পাকিস্তানের আন্তর্বিভাগীয় গুপ্তচর সংস্থা".

0    অর্থাত্ তালিবেরা – সত্যিকারের শক্তি. তাদের আবার সরকারে ফিরে আসার বিষয়ে প্রতিবন্ধ বর্তমানের কাবুলের প্রশাসন. আর পরিস্কার বোঝা যায় যে, কাবুলে কাতারে চলা আলোচনা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে. এই ধরনের সাক্ষাত্কারে ধরণই বলে দিচ্ছে যে, আমেরিকার লোকেরা যতটা মনে করবে, ঠিক তত টুকুই আলোচনা নিয়ে কাবুলকে জানানো হবে.খুবই কঠিন হবে মনে করা যে, হামিদ কারজাই ও তাঁর পরিপার্শ্ব শুধু এর দিতে চুপ করে তাকিয়ে থাকবেন, শান্ত ভাবে অপেক্ষা করে যে, আলোচনার শেষে তাদের কিছু জানানো হতে পারে. খবর আছে যে, কারজাই পরিকল্পনা করছেন অন্য তালিব যোদ্ধাদের প্রতিনিধিদের সঙ্গে সৌদি আরবে "বিকল্প আলোচনা" শুরুর. আর এটাও সেই বিষয়ের লক্ষণ যে, কাবুল কাতার দেশে আমেরিকা- তালিব আলোচনা থেকে নিজেদের জন্য ভাল কিছুই আশা করছে না.