প্রতিযোগিতায় সফল শিল্প সমূহের, যা নতুন প্রযুক্তির ভিত্তিতে কাজ করে সেই রকমের নতুন অর্থনীতি রাশিয়ার প্রয়োজন. এই বিষয়ে সোমবার ঘোষণা করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতি পদ প্রার্থী ভ্লাদিমির পুতিন ভেদোমস্তি সংবাদ পত্রের পাতায়. সামনে রাখা লক্ষ্য সাধনে প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকটি সমাধানও প্রস্তাব করেছেন.

প্রথম বিষয়, যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলছেন, তা হল দেশের প্রযুক্তিগত ভাবে পেছিয়ে থাকাকে অতিক্রমের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে. সোভিয়েত দেশ ভেঙে পড়ার পরে রাশিয়া বিশ্ব অর্থনীতিতে সমাকলিত হতে সক্ষম হয়েছে. কিন্তু এটা করেছে নিজেদের প্রাকৃতিক সম্পদের বিনিময়ে. দেশের শিল্প বাস্তবে দেখা গিয়েছে যে হারিয়ে গিয়েছে. আর আজকের রাশিয়া খুবই বেশী করে ভোগ্য বস্তু ও প্রযুক্তি আমদানীতে ব্যস্ত হয়েছে. এই ধরনের অবস্থার বদল করা দরকার, বলে মনে করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও অর্থনীতির কিছু ক্ষেত্রে অন্ততঃ দেশের নেতৃত্ব ফিরিয়ে আনার জন্য আহ্বান করেছেন. প্রাথমিক হিসাবে তিনি নাম করেছেন ওষধি নির্মাণ, উচ্চ প্রযুক্তি যুক্ত রসায়ন, যৌগ ও অধাতব পদার্থ উত্পাদন, বিমান নির্মাণ শিল্প, তথ্য প্রযুক্তি ও যোগাযোগের দ্রব্য উত্পাদন শিল্প ও ন্যানো প্রযুক্তি. তার সঙ্গে যোগ করে পারমানবিক শক্তি ও মহাকাশ গবেষণা সংক্রান্ত শিল্প, যেখানে রাশিয়া বর্তমানেও নেতৃস্থানীয় জায়গায় রয়েছে ও প্রযুক্তিগত সুবিধা এখনও হারিয়ে ফেলে নি. এই সমস্ত ক্ষেত্রেই অনতিদূর ভবিষ্যতে সম্ভাবনা রয়েছে যুগান্তকারী ও গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতির, এই বিষয়ে একমত হয়ে রাজনৈতিক কাঠামো নিয়ে গবেষণা কেন্দ্রের ভাইস ডিরেক্টর আলেক্সেই জুদিন বলেছেন:

"আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় সফলতা নিয়ে মান নির্ধারণে, যে সমস্ত শিল্পে আমাদের দেশ এগিয়ে রয়েছে, সেই গুলির নাম বলা হয়েছে প্রথমে. আর এটা অবশ্যই ঠিক, যে এই সব ক্ষেত্রে বাস্তবেই অগ্রগতি দ্রুত করা সম্ভব. আধুনিক বিশ্বে বিভিন্ন ক্ষেত্রে ও এলাকায় দ্রুত অগ্রগতি করা সম্ভব সাধারণতঃ দুটি বিষয়ে যোগাযোগে. এটা এই সমস্ত শিল্পের নেতৃস্থানীয় লোকেদের সঠিক ও যথেষ্ট কাজ ও ব্যবহার. আমি বলতে চেয়েছি, তাদের মাঝারি পাল্লার ও দীর্ঘস্থায়ী লক্ষ্য নিয়ে, কোন অল্প সময়ের লক্ষ্যের কথা এখানে হচ্ছে না. আর দ্বিতীয় – এটা হল সরকারের পক্ষ থেকে বুদ্ধি সঙ্গত সহায়তা, সাধারণতঃ সেটাও তির্যক ভাবে, তবে নিয়মিত ও দীর্ঘস্থায়ী. সরকারের হাতে রয়েছে উদ্যোগের উপযুক্ত বাস্তব ব্যবস্থা, যা কোম্পানীগুলিকে তাদের সামনে রাখা লক্ষ্য অতিক্রমে সহায়তা করে থাকে. অংশতঃ, এটা ব্যবসার নিয়ম কানুন, আইন, যা কোম্পানী গুলিকে সাহায্য করে সঠিক ভাবে তাদের সমস্ত রসদ ব্যবহারে ও তা যুক্তিযুক্ত ভাবে ব্যয়ে".

প্রতিযোগিতায় সক্ষম উদ্ভাবনী প্রযুক্তি সৃষ্টির সমস্ত ভার প্রশাসনের কাঁধে চাপানো ঠিক নয়. ব্যক্তিগত মালিকানাকেও এই ক্ষেত্রে আহ্বান করা ঠিক হবে. বিনিয়োগ বাড়ানোর জন্য ভ্লাদিমির পুতিন আভ্যন্তরীণ বাজারের আয়তন বৃদ্ধির কথা বলেছেন, দেশে ব্যবসার পরিবেশ ভাল করার কথা বলেছেন, অর্থনীতিতে সরকারের ভাগ কমানোর কথা বলেছেন. এই ধরনের যুক্তি সঙ্গত ধারণার একটির সঙ্গেও তর্ক করা যায় না, এই ভাবে মন্তব্য করে অর্থনীতিবিদ দিমিত্রি কাতালেভস্কি বলেছেন:

"সমস্যা গুলিকে ঠিকই দেখানো হয়েছে. এখানে প্রশ্ন কিছুটা অন্য বিষয়ে: খুব একটা বোঝা যাচ্ছে না, এই ভাবে বলি যে, এর গতি প্রকৃতি. পুতিন ঠিকই লিখেছেন যে, দেশে দুর্নীতি কমানো প্রয়োজন, কিন্তু কি করে তা কমানো হবে? এইটাই খুব একটা বুঝতে পারা গেল না. ব্যক্তিগত ও সরকারি বিনিয়োগের প্রশ্নে অনুপাতের বিষয়েও স্পষ্ট হল না, তা খুব একটা এক ও অন্যতম অর্থ বিশিষ্ট নয়. বাস্তবে, বিশ্বের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা হলে, সরকারি কোম্পানী – এটা খারাপ কিছু নয়. হতে পারে যে, সেই গুলির অংশ অর্থনীতিতে কমানোর কোন প্রয়োজন আদতে নেই. কিন্তু যা নিঃশর্তে বলা যেতে পারে, তা হল এই কোম্পানী গুলিকে হতে হবে স্বচ্ছ. কারণ এখন খুব অল্প লোকই বুঝতে পারে এই কোম্পানী গুলির ভিতরে কি হচ্ছে ও ঠিক কিভাবে অর্থ ব্যয় করা হচ্ছে. আর এটা দুর্নীতির জন্য খুবই উপযুক্ত জমি তৈরী করে দিচ্ছে. তাই বর্তমানের রূপে সরকারি কোম্পানী, নিঃসন্দেহে বলা যেতে পারে যে, খুব একটা সফল নয়. কিন্তু এর মানে এই নয় যে, ধারণা হিসাবে তাদের একেবারে বাতিল করে দেওয়া দরকার".

নির্বাচনের প্রাক্কালে ভ্লাদিমির পুতিনের পক্ষ থেকে প্রকাশিত এটি তৃতীয় প্রবন্ধ. প্রথমটি বেরিয়েছিল ১৬ই জানুয়ারী "ইজভেস্তিয়া" পত্রিকায়. তাতে লেখক সেই সমস্ত বিপদের উল্লেখ করেছিলেন, যা দেশের সামনে উপস্থিত. তার এক সপ্তাহ পরে "নিজাভিসিমায়া গাজেতা" পত্রিকাতে তিনি জাতিগত প্রশ্ন নিয়ে এক প্রবন্ধ প্রকাশ করেছিলেন. এর পরে পরিকল্পনায় রয়েছে- সমাজ নির্মাণ ও দেশের সামরিক বাহিনীর উন্নতি বিষয়ে প্রবন্ধ. সমস্ত প্রবন্ধের সারাত্সার নিয়েই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে পদ প্রার্থী ভ্লাদিমির পুতিনের প্রাক্ নির্বাচনী প্রকল্প তৈরী হবে.