রাশিয়ায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের দিন ক্রমশই ঘনিয়ে আসছে।আগামী ৪ মার্চ এ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।আসন্ন নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্যাপক আলোচনা চলছে এবং সরকার ও বিরোধীদল সভা-সমাবেশের আয়োজন করছে।২ জন প্রার্থী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনী দৌড় থেকে বাদ পড়েছেন।এরা হলেন-গ্রিগোরী ইয়াভলিনচকী ও দিমিত্রি মেজেনছেভ।অন্যদিকে,বিলিয়নার মিখাইল প্রখরভ আনুষ্ঠানিকভবে রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পদপ্রার্থীর মর্যাদা পেয়েছেন।আসন্ন নির্বাচনে সবচেয়ে জনপ্রিয় প্রার্থী ভ্লাদিমীর পুতিন নিজের অভিজ্ঞতার আলোকে সমসাময়িক ও ভবিষ্যত রাশিয়া কেমন হবে তা নিয়ে বেশ কয়েকটি প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন।এছাড়া তিনি রাশিয়ার দক্ষিনাঞ্চলের মানুষ শীর্ষক ফোরামে অংশ নিয়েছেন এবং কেমের ও টমস্ক এলাকার শ্রমিকদের সাথে বৈঠক করেছেন।

বিগত ১০ বছরের মধ্যে এবারই এই প্রথম মিছিল-সমাবেশের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল নিজেদের সমর্থন পেতে নানা কর্মসূচি পালন করছে।আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি ভ্লাদিমীর পুতিনের সমর্থক ও বিরোধীদল উভয়ই ব্যাপক কার্যক্রম পালন করবে।এদিকে ‘স্বচ্ছ নির্বাচনের পক্ষে’আন্দোলন কর্মসূচির মূল কমিটির পক্ষ থেকে দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়,ওই একই দিন মস্কোর প্রানকেন্দ্রে ভ্লাদিমীর পুতিনের সমর্থকদের সমাবেশ আয়োজনের অনুমতি দেয়ায় প্রশাসন দুইপক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ সৃষ্টির সুযোগ তৈরী করে দিচ্ছে।

আগামী রাশিয়ার স্বার্থে সরকার ও বিরোধী দল উভয়ই মনে করছে,প্রচলিত নির্বাচন পদ্ধতির আধুনিকায়ন করা প্রয়োজন।এমনটি বলছিলনে,‘একক রাশিয়া’দলের প্রতিনিধি ও দুমার ভাইস স্পিকার আলেগ মারোজভ।তিনি বলেন,‘আমরা চাচ্ছি,প্রতিটি নাগরিক এবং প্রতিটি রাজনৈতিক দল এই নির্বাচনে নিজেদের অধিকার প্রয়োগ করুক,যেন  নির্বাচনে আমাদের কার্যকরী ফলাফল থাকে এবং তা তৈরী হবে গনতান্ত্রিক পদ্ধতির আলোকেই’।

এদিকে কমিউনিষ্টি পার্টির নেতা গেনাদি জুগানভ সম্প্রতি এক ঘোষণায় বলেছেন,তার দল একসারি আইন তৈরী করেছে।তিনি বলেন,‘ভোট চুরি ও নির্বাচনে জালভোট প্রদান এই সবকিছুই ফৌজদারি আইনে বিবেচনা করা উচিত।তবে,প্রধান প্রশ্ন হচ্ছে,নির্বাচন কমিশনে সংশোধন আনতে হবে।প্রতিটি দলের অন্তত ৩ জন প্রতিনিধি কমিশনে থাকা উচিত’।

অন্যদিকে লিবেরাল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা ভ্লাদিমীর জিরিনোভস্কীও নির্বাচনী আইনে পরিবর্তন আনার পক্ষে মন্তব্য করেছেন।তিনি বলেন,‘কোন ধরনের জরুরি নির্বাচন নয়।ভোটার নিজেই ভোটকেন্দ্রে আসবেন এবং কেউই তার হয়ে ভোট দেয়ার অধিকার রাখেন না।অবশ্যই স্বচ্ছ ব্যালোট পেপার থাকতে হবে’।

তবে,‘ন্যায্য রাশিয়া’দলের নেতা সেরগেই মিরানভ সরাসরি রাশিয়ার সংবিধান পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছেন।তিনি আস্থার সাথে বলেন,‘রাষ্ট্রপতির পদে একজনকে ২ বারের বেশী থাকা উচিত নয়,এমন কি টানা ২ বারও নয় বরং তা হতে পারে পুরো রাজনৈতিক জীবনে।আরেক প্রার্থী মিখাইল প্রখরভকে নিয়েও ব্যাপক আলোচনা হচ্ছে।নির্বাচনে তাঁর অংশগ্রহন নিয়ে ক্রেমলিনের সাথে কোন প্রকার ঐক্যমত তৈরি হয় নি।বিশেষজ্ঞরা বলছেন,মিখাইল প্রখরভ নির্বাচনে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী পুতিনের প্রধান প্রতিপক্ষ হবেন।স্বয়ং প্রখরভ নিজেই আশা করছেন,নির্বাচনে তিনি ১৫ থেকে ২০ শতাংশ ভোট পেয়ে ২য় পর্বে অন্তর্ভুক্ত হবেন।

তবে আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে‘আপেল’দলের নেতা গ্রিগোরী ইয়াভলিনচকী ও ইরকুস্ক অঞ্চলের গভর্নর দিমিত্রি মেজেনছেভের প্রার্থীতা বাতিলের সংবাদটি এ সপ্তাহের সবচেয়ে আলোচ্য ঘটনা ছিল।কারণ হিসেবে উভয় নেতার সমর্থকদের জাল স্বাক্ষরকে দায়ি করা হয়।নির্বাচনে অংশগ্রহনের সুযোগ থেকে বঞ্চিত করার পিছনে গ্রিগোরী ইয়াভলিনচকী রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত রয়েছে বলে জানিয়েছেন।

এ সব সত্বেও ভ্লাদিমির পুতিন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অন্য সব প্রার্থীদের তুলনায় জনপ্রিয়তার শীর্ষে রয়েছেন।সর্বরাশিয়া সামাজিক মতামত গবেষণা কেন্দ্রের মতে,শতকরা ৫০ ভাগ রুশিরা পুতিনের পক্ষে ভোট দিতে তৈরী আছেন।