রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদমেদেভ এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার(এ্যাপেক)পরিচালকের দায়িত্ব দেয়ার জন্য রাশিয়ার নাম প্রস্তাব করেছিলেন।আগামী দিনের বানিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং আঞ্চলিক অর্থনৈতিক উন্নয়নের উদ্দেশ্যে আসন্ন এ্যাপেক শীর্ষ সম্মেলন রাশিয়ার জন্য অনেক তাত্পর্যপূর্ণ হবে বলে মনে করেন রাশিয়ার প্রসিডেন্ট।দিমিত্রি মেদভেদেভের লেখা এ সংক্রান্ত একটি প্রবন্ধ প্রকাশ হয়েছে এ্যাপেক সম্মেলনের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে।

যুক্তরাষ্ট্রের হাওয়াই অঙ্গরাজ্যে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হওয়া এ্যাপেক সম্মেলনে দেওয়া ঘোষণায় সংস্থার সদস্যভুক্ত এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার ২১টি দেশের শীর্ষ নেতারা বলেছিলেন,এ্যাপেক হচ্ছে গ্লোবাল অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি অগ্রদূত।এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকার এ্যাপেকভুক্ত দেশে বিশ্বের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৪০ ভাগ লোক বাস করেন এবং বিশ্বে জিডিপি অর্জনের ৫৪ ভাগ আসে ওই সব দেশ থেকে।মেদভেদেভ তাঁর প্রবন্ধে উল্লেখ করেন,২০১২ সালে রাশিয়ায় এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অর্থনৈতিক সহযোগিতা সংস্থার যে শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে সেখানে রাশিয়ার শীর্ষ অবস্থান বজায় রাখতে সব ধরনের চেষ্টা করা হবে।

রাশিয়ার দূরপ্রাচ্যের শহর ভ্লাদিভাস্তকে আগামী শরতকালে এ্যাপেকের যে শীর্ষ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে সেখানে আঞ্চলিক উন্নয়নের খাতকে প্রধান গুরুত্ব দেয়া হচ্ছে।

রুশ প্রেসিডেন্ট তাঁর প্রবন্ধে উল্লেখ করেন,বিশ্ব বানিজ্য সংস্থায় রাশিয়া সদস্য হওয়ায় এখন আমরা এ্যাপেকভুকেত দেশগুলোর সাথে অবাধ বানিজ্যনীতি বিষয়ে আলোচনা করতে পারব।তাছাড়া এখানে রাশিয়া,কাজাকিস্তান ও বেলারুশের অংশগ্রহনে তিন জাতির একক শুল্ক কাঠামো নিয়েও বৈঠক হবে।এই একক অর্থনৈতিক ভূখন্ড এ্যাপেকের কার্যক্রমে হয়ত নতুন মাত্রা যোগ করবে।পুরো ইউরেশিয়া মহাদেশে এশিয় প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশগুলো নতুন বাজার সৃষ্টির যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে।

উন্নয়নের ধারাবাহিকতা যা সাংগঠনিক কার্যক্রমের ওপর নির্ভরশীল।তাছাড়া পণ্য পরিবহন একটি শৃঙ্খলার মধ্যে আবদ্ধ এবং সেই সাথে প্রয়োজন উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা।রুশ প্রেসিডেন্ট বলেন,রাশিয়া নিজের যোগাযোগ করিডর খুলে দিতে তৈরি আছে এবং তা স্বল্প দূরত্বেই এশিয়ার সাথে ইউরোপের সংযোগ সৃষ্টি করবে।মেদভেদেভ বলেন,যে সব দেশ সত্যিকার অর্থেই আগ্রহী তাদেরকে এ সংক্রান্ত একটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাব দেয়া হবে।

এ্যাপেকের শীর্ষ সম্মেলনে নিয়মিত প্রশ্নাবলী নিয়েও আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।এর মধ্যে রয়েছে জ্বালানী খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারন।বিশ্বে জ্বালানী তেল সরবরাহের দিক থেকে রাশিয়া শীর্ষ একটি দেশ।মেদভেদেভের ওই প্রবন্ধে বলা হয়,এক অর্থে এ্যাপেক সম্মেলনে আমরা শুধুমাত্র জ্বালানী তেলের বাজার বৃদ্ধি নিয়েই আলোচনা করব না,বরং আমাদের আগামী দিনের কথাও চিন্তা করতে হবে।জ্বালানী খাতে নিরাপত্তা সংক্রান্ত বিষয়ে একসারি প্রশ্নের আলোচনা করা হবে।

দিমিত্রি মেদভেদেভ উল্লেখ করেন,অদূর ভবিষ্যতে অর্থনৈতিক উন্নয়নে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার জন্য উদ্ভাবনী ক্ষেত্রে উন্নয়ন ঘটাতে হবে।এ্যাপেকভুক্ত দেশগুলোর কাছে এটি হচ্ছে রাশিয়ার প্রধান শিরোনাম।এরই ধারাবাহিকতায় আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়,গবেষণাঘার ও বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগসূত্র তৈরী করা হবে।সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হচ্ছে শিক্ষা খাতে সহযোগিতা ও মানবসম্পদের উন্নয়ন।

সম্মেলনে অন্যান্য যে সব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়বলী সম্পর্কে রাশিয়া প্রস্তাব জানাবে তা হচ্ছে-খাদ্যসামগ্রীর নিরাপত্তা,জঙ্গিবাদ ও আন্তঃজাতীয় অপরাধের বিরুদ্ধে সংগ্রাম এবং আঞ্চলিক প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের নিরসন ইত্যাদি।যদিও এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল বিশ্বে শান্তিময় এলাকা হিসেবে নথিভুক্ত হলেও এখানেই ভূমিকম্প,সুনামি ও মহামারির মত বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগ প্রায়ই আঘাতহানে।

দিমিত্রি মেদভেদেভ তাঁর প্রবন্ধের পরিসমাপ্তিতে বলেন,সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টাই ২০১২ সালে আমরা এশিয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে নতুন উন্নয়নের ধারা তৈরি করতে পারব এবং যার সুফল আমাদের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে আরও তরান্বিত ও পুরো অঞ্চলকে সমৃদ্ধ করবে।