পাকিস্তানের সেনেট সদস্যরা দেশের সামরিক বাহিনীকে আমেরিকার ড্রোন ধ্বংস করতে আহ্বান করেছেন, যা তাঁদের দেশের বায়ু সীমান্ত লঙ্ঘণ করে ঢুকবে. তাঁরা একই সঙ্গে দাবী করেছেন পাকিস্তানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সমস্ত বিমান ঘাঁটি বন্ধ করে দেওয়ার. সেনেট সদস্যদের আহ্বানে বিশেষ করে উল্লেখ করা হয়েছে যে, এই ধরনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে দেশের পার্লামেন্ট ও জনগনের সিদ্ধান্ত হিসাবে, আর তা পূর্ণ করতেই হবে. কিছু বিশদ বর্ণনা সমেত আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ লিখেছেন.

    পাকিস্তানের লোকেদের ক্ষুব্ধ করেছে দেশের শান্তিপ্রিয় মানুষদের আমেরিকার রকেট আঘাতে প্রাণ হারানো. ব্রূকিংস ইনস্টিটিউটের তথ্য অনুযায়ী প্রত্যেক ধ্বংস করা জঙ্গীর জন্য ১০ জন অবধি পাকিস্তানের শান্তিপ্রিয় মানুষকে প্রাণ দিতে হয়েছে. দেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী রেহমান মালিক এর সমর্থনে উল্লেখ করেছেন যে, বেশীর ভাগ ড্রোন আঘাতে মৃত মানুষই সাধারন লোক. এটার কোন শেষ করা কি সম্ভব? বোধহয় সম্ভব. পাকিস্তানে খুবই তীক্ষ্ণ রাজনৈতিক সঙ্কটের সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের গুপ্তচর সংস্থা সি আই এ সমস্ত ড্রোন হামলা বন্ধ করে দিয়েছিল. কিন্তু পরে আবার করে তা নতুন উদ্যমে শুরু করেছে. আমেরিকার লোকেদের এটা করার কোন দরকার ছিল না, মনে করে মস্কো শহরের ভূ রাজনৈতিক সমস্যা গবেষণা একাডেমীর সভাপতি লিওনিদ ইভাশেভ বলেছেন:

    "ড্রোন ব্যবহার করে আমেরিকার লোকেদের কোন গুপ্তচর কাজ কারবার চালানোর কোনও দরকার এখন নেই, তার ওপরে আবার হামলা করার. তারা আজ তালিবদের সঙ্গে আলোচনা করছে, আর তাদের মনে করছে না সন্ত্রাসবাদী সংস্থা বলে. বোধহয়, শুধু গায়ের জোর দেখানোর দরকার ছিল, নিজেদের শক্তির মহিমা ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যে পাকিস্তানকে নিয়ন্ত্রণ করছে, সেটা দেখানোর, যা এই দেশের জনগন খুবই নেতিবাচক ভাবে নিয়েছেন. সুতরাং মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের এই দুর্বৃত্ত সুলভ আচরণে শুধু নিকট প্রাচ্যে বা ইউরোপেই নয়, পাকিস্তানেও ক্ষুব্ধ. এক সময়ে পাকিস্তান মার্কিন দের সহযোগী ছিল, আজ পরিস্থিতি পাল্টে গিয়েছে".

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও পাকিস্তানের সম্পর্ক যে খুবই খারাপ হয়েছে, তার কারণ গত বছরে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর চৌকি ধ্বংস করে দেওয়া. পাক – আফগান সীমান্তের কাছে এই হামলাতে দেশের ২০ জন সৈন্য নিহত হয়েছিলেন. মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে এই নিয়ে যে রিপোর্ট দেওয়া হয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে, পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর লোকেরাও মার্কিন সেনাদের সঙ্গে সমানভাবে দায়ী আর দায়িত্ব ওয়াশিংটন ও ইসলামাবাদের সমানই, তা পাকিস্তানে মেনে নেওয়া হয় নি. পাকিস্তানে ঘোষণা করা হয়েছে যে, এবারে ন্যাটো জোটের পক্ষ থেকে স্রেফ ক্ষমা চাওয়া মেনে নেওয়া হবে না. সাধারন পাকিস্তানের মানুষ আরও বেশী করে অস্ত্র ধারণে বাধ্য হচ্ছেন নিজেদের ড্রোন হামলা থেকে বাঁচানোর জন্য.

    আমেরিকা পাকিস্তানের সম্পর্কে খুব সঙ্কট হওয়া স্বত্ত্বেও দুই দেশই বোঝে যে, একে অপরকে ছাড়া চলবে না. আমেরিকার দরকার আফগানিস্তান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য পাকিস্তানকে, আর পাকিস্তানের দরকার সামরিক ক্ষেত্রে ও অর্থনৈতিক ক্ষেত্রে নিয়মিত ডোনেশন.

    গত সপ্তাহে ইসলামাবাদ থেকে বলা হয়েছিল যে, আফগানিস্তানে রসদ পাঠানোর জন্য শীঘ্রই পাকিস্তানের রাস্তা খুলে দেওয়া হবে, কিন্তু ওয়াশিংটনে রাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ভিক্টোরিয়া ন্যুল্যান্ড এই খবর অস্বীকার করেছেন, তিনি বলেছেন আগে সমস্ত পাকিস্তানের রাজনৈতিক সঙ্কট মিটলে, তখনই এই কথা হতে পারে. নিজেদের দিক থেকে পাকিস্তানের পররাষ্ট্র দপ্তরের প্রধান হিনা রব্বানী "রয়টার" সংস্থাকে বলেছেন যে, পাকিস্তানের মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক আপাততঃ "ত্রিশঙ্কু অবস্থাতেই" রয়েছে.