দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়ে লেনিনগ্রাদের জন্য যুদ্ধ ছিল সবচেয়ে দীর্ঘসূত্রী. ৯০০ দিনের অবরোধে বহু লক্ষ লোকের প্রাণ গিয়েছিল. হিটলার এই শহরকে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দিতে চেয়েছিল. কিন্তু ২৭শে জানুয়ারী ১৯৪৪ লালফৌজ এই অবরোধ ভেঙে দিয়েছিল. যুদ্ধে পঞ্চাশটি জার্মান বাহিনীকে ধ্বংস করে দেওয়া হয়েছিল. লেনিনগ্রাদের অবরোধ সম্পূর্ণভাবে তুলে ফেলার ৬৮ তম বছরে সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরে অবরুদ্ধ শহরের মানুষের সামাজিক জোট গুলির আন্তর্জাতিক সংস্থার ২১ তম সম্মেলন আয়োজন করা হয়েছে.

    এই কাজে অংশ নিয়েছেন ১৩০ জনেরও বেশী ভেটেরান, এই কথা রেডিও রাশিয়াকে জানিয়েছেন আমাদের সেন্ট পিটার্সবার্গের সাংবাদিক আনাতোলি নোভোসেলভ.

    "রাশিয়া প্রজাতন্ত্রের তিরিশটি রাজ্যের ও বাল্টিক দেশ ও ইজরায়েল সহ স্বাধীন রাষ্ট্র সমূহের দেশ গুলি সহ ১১টি অন্য দেশ থেকে প্রতিনিধিরা এখানে জড়ো হয়েছেন. তাঁদের কিছু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে আলোচনা করতে হবে: ৯০০ দিনের অবরোধের স্মৃতি সংরক্ষণ ও নেভা নদী তীরের শহরের বীর সুলভ প্রতিরক্ষার স্মৃতি অমলিন রাখা, মহান পিতৃভূমির যুদ্ধ নিয়ে ইতিহাস বদলে দেওয়ার প্রচেষ্টার বিরোধিতা করা".  

    বিশ্বের সর্বত্রই অবরুদ্ধ এই শহরে লোকেরা আজ ছড়িয়ে পড়েছেন. তাদের জোট আজ বিশ্বের ১০০টিরও বেশী শহরে কাজ করছে. কিয়েভের "অবরুদ্ধ লেনিনগ্রাদ শহরের অধিবাসীদের সমাজ" ১৯৯০ সালে তৈরী করা হয়েছিল. তাতে ১৫০ জন ভেটেরান রয়েছেন, সভাপতি এডোয়ার্ড পাভলভ গল্প করে বলেছেন:

    "এই বছরে আমরা আরও একজন অবরুদ্ধ শহরের লোককে খুঁজে পেয়েছি. তিনি ১৯১১ সালে জন্মেছিলেন. ১৯৩৭ সালে লেনিনগ্রাদে কনসারভেটরী শেষ করেছিলেন. তার পরে মিউজিক্যাল কমেডি থিয়েটারে অর্কেস্ট্রার কাজ করছিলেন, যা যেমন জানা আছে যে, একমাত্র অবরুদ্ধ লেনিনগ্রাদ শহরের চালু থিয়েটার, যুদ্ধের সারা সময়টাই কাজ করেছিল বলে. যারা যুদ্ধ করতে ফ্রন্টে গিয়েছিলেন, তারা হয়তো তাদের জীবনে শেষ বারের জন্য এই থিয়েটারের নাটক দেখেই গিয়েছিলেন. তারপরে এই মহিলা শিল্পী কিয়েভ শহরের অপেরা থিয়েটারে কাজ করেছিলেন, সেখান থেকেই অবসর নিয়েছেন. এই বছরে তিনি তাঁর শতবর্ষের জন্মদিন পালন করেছেন".

    ইজরায়েল থেকে আসা ভেটেরান ইভগেনিয়া দ্রুত্স বলেছেন যে, সব সময়েই মনে দুঃখ নিয়ে পিটার্সবার্গ আসি:

    "আমি লেনিনগ্রাদে জন্মেছিলাম, এখানেই মায়ের সাথে অবরোধের ৯০০ দিন ধরেই ছিলাম, আর ১৯৯০ সালে ইজরায়েল চলে গিয়েছিলাম. আমি ডাক্তার, আশকেলন নামের এক শহরে অবরুদ্ধ লেনিনগ্রাদের লোকেদের সংস্থার আমি প্রধান, যেটি লেনিনগ্রাদের সংস্থার অংশ. ইজরায়েলে আমাদের প্রতি খুব ভাল সম্পর্ক রাখা হয়. ইজরায়েলে আমাদের প্রত্যেক শহরেই অবরুদ্ধ লেনিনগ্রাদের লোকেরা রয়েছেন. আমাদের মেডেল দেওয়া হয়েছে ও সামাজিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে. আমার ছেলে ও নাতি রয়েছে. আমি তাদের কাছে অবরোধের দিন নিয়ে গল্প করি, আর তারাও এই ব্যাপারে খুব মনোযোগী. মনে পড়তে শুরু করলেই খুব কষ্ট হয় আর বলা খুবই কঠিন. নিজের ছেলেকে আমি অবরুদ্ধ শহরের নাগরিকের ছেলে বলে নথিভুক্ত করতে চাই".

    সেন্ট পিটার্সবার্গের অবরোধের সময়ের নাটকীয় ঘটনার সম্পর্কে তথ্য ও স্মৃতির জন্য ইন্টারনেটে একটি সাইট খোলা হয়েছে leningradpobeda.ru. এই সাইটের মূল ভাগের মধ্যে "১৯৪১- ১৯৪৫ সালের ঘটনার বিবরণ" রয়েছে, "অবরুদ্ধ লেনিনগ্রাদের রেডিও" শোনা যায়, "লেনিনগ্রাদ জুড়ে বেড়ানো", "রুদ্ধ শহরের শিল্প", "জয়ের জন্য সব কিছুই" ও অন্যান্য বিষয় রয়েছে. এটা এক ধরনের পারস্পরিক ভাবে সক্রিয় লেনিনগ্রাদ অবরোধের ইতিহাসের যাদুঘর, যা পিটার্সবার্গ শহরের লোকেরাই বানিয়েছেন.

0আজ এই শহরে শৌর্য দিবসের স্মরণ উপলক্ষে বহু অনুষ্ঠান করা হয়েছে. তাতে প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন অংশ নিয়েছেন, তিনি পিসকারিওভ স্মৃতি কবরখানায় মাল্য অর্পণ করে ভেটেরানদের সঙ্গে দেখা করেছেন.