শুক্রবারে রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি পদের জন্য নির্বাচনের পাঁচ প্রার্থীর একজন, ন্যায়বাদী দলের সের্গেই মিরোনভ নিজের প্রতিদ্বন্দ্বীদের পরেই এক প্রবন্ধ প্রকাশ করেছেন, যেখানে নিজের প্রাক্ নির্বাচনী পরিকল্পনার প্রধান সূত্র গুলি নির্দেশ করেছেন. সুতরাং, রাজনীতিবিদদের এবারে তুলনা করার সম্ভাবনা হয়েছে প্রার্থীদের ভিত্তিমূলক ধারণা গুলিকে. সেগুলি নানা রকমের- ঐতিহ্য অনুসারী বামপন্থী, যেখানে সকলের জন্যই বিনামূল্যে চিকিত্সা থেকে শুরু করে শিল্পের জাতীয় করণ ইত্যাদি থেকে, সম্পূর্ণ জনমতের সন্তোষ পাওয়া ও যা কার্যকরী করাই সম্ভব নয়, সেই ধরনের মত অবধি – যেমন ভ্লাদিমির লেনিনের দেহ অন্যত্র কবর দেওয়া, রাজনৈতিক নেতাদের আইনের কাছে অস্পৃশ্য থাকা দূর করা ও সরকারি কর্মচারী জন্য ছাড় তুলে দেওয়া ইত্যাদি. বিশেষজ্ঞরা উল্লেখ করেছেন যে, প্রার্থীদের রাজনৈতিক পরিকল্পনার মধ্যে তফাত খুবই কম, আর অর্থনৈতিক দিকটি খোলাখুলি ভাবেই দুর্বল.

    রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি পদের জন্য নির্ণিত হওয়া পাঁচ প্রার্থীই প্রায় প্রত্যেক দিনই জনগন ও রাজনীতিবিদদের জন্য শুধু নতুন সব কারণই যোগাচ্ছেন বিতর্কের জন্য. অবশ্য শেষোক্ত দলের লোকেরা বেশী করে চেষ্টা করছেন এর মধ্যে না ছাপা অংশ গুলিই বেশী করে পড়ার. যাতে প্রাক্ নির্বাচনী পরিকল্পনায় কোন তফাত দেখতে পাওয়া যায়. এই সব দলিলকে রাজনৈতিক দিক অনুযায়ী ভাগ করা যায়. কমিউনিস্ট গেন্নাদি জ্যুগানোভ, সোশ্যালিস্ট সের্গেই মিরোনভ ও লিবারেল ভ্লাদিমির ঝিরিনোভস্কি ঐতিহ্য মেনেই সব বামপন্থী স্লোগানের উপরে দাঁড়িয়ে রয়েছেন, যেখানে বলা হয়েছিল "ক্ষমতা জনতার জন্য", "প্রত্যেকের কাছ থেকে ক্ষমতা অনুযায়ী ও প্রত্যেককেই প্রয়োজন অনুযায়ী ধরনের".

    কমিউনিস্ট দলের নেতা জ্যুগানোভ আশ্বাস দিচ্ছেন এক নতুন ধরনের শিল্প তৈরী করার, অর্থনীতির বাস্তব ক্ষেত্র গুলিতে কর কমানো ও আয়করের ক্ষেত্রে ক্রমবর্ধমান মাত্রা প্রয়োগের. সের্গেই মিরোনভ প্রস্তাব করেছেন তিনি বিলাস কর বসাবেন. আর তারই সঙ্গে তিনি হুমকি দিচ্ছেন যে, দুর্নীতি যারা করবে, তাদের বিরুদ্ধে ফৌজদারী মামলা করে তাদের সব সম্পত্তি কেড়ে নেওয়ার. সমস্ত রকমের আইনের বাইরে থাকার উপায় বন্ধ করা ও সমস্ত স্তরের সরকারি পার্লামেন্টের সদস্যদের জন্যই সব ছাড় বন্ধ করার, পানীয় অ্যালকোহলের উপরে সরকারি একচেটিয়া মালিকানা তৈরী করা.

    আশ্বাস দেওয়ার বিষয়ে লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক দলের নেতা কিছু কম যান না. তিনি আবার নিজের স্লোগান তৈরী করেছেন সেই ধরনেরই ঝিরিনোভস্কি! না হলে খারাপ হবে. এখানে সবই ঐতিহ্য অনুযায়ী: কিছুটা জাতীয়তাবাদী অলংকার কথায় রয়েছে, থাকার জায়গা ও কর্ম সংস্থান নিয়ে সমস্ত সমস্যার সমাধান, দুর্নীতি ও মাদক সংক্রান্ত অপরাধ নির্মূল করা.

    স্ট্র্যাটেজিক উন্নয়নের মডেল নির্মাণ কেন্দ্রের উপ সভাপতি গ্রিগোরী ত্রোফিমচুক অভিযোগ করে বলেছেন, প্রার্থীরা কোন কিছুই নতুন প্রস্তাব করার ক্ষমতা রাখেন না, তাদের সব বিশাল আওয়াজ তোলা ও বিমূর্ত সব স্লোগানের আড়ালে থেকে.

    "বিরোধী পক্ষের প্রার্থী, যারা নিজেদের সেই রকমের নাম দিয়েছেন, তাদের পরিকল্পনায় কোন ভিত্তি মূলক পার্থক্যই নেই. এই পরিকল্পনা গুলিতে কোন নতুনত্বের চমক নেই অথবা কোন বিকল্পও নেই. তার ওপরে আমার মতে, মিরোনভ ও প্রোখোরভের পরিকল্পনা বাস্তব জীবনের থেকে একেবারেই বিচ্ছিন্ন ও তার সঙ্গে ভোটারদের ইচ্ছারও কোন মিল নেই. তাতে মূলতঃ বলা হয়েছে নির্বাচনী ব্যবস্থাকে টেনে সোজা করার কথা, লেই বিষয়ে যে, রাজ্যপাল ও অন্যান্য পদে সরাসরি নির্বাচন করা দরকার. কিন্তু রাশিয়ার জনগনের কাছে এটা খুব আগ্রহের বিষয় নয়. আর তাই তাঁরা নিজেদের প্রাক্ নির্বাচনী পরিকল্পনার ক্ষেত্রে প্রধান প্রার্থী ভ্লাদিমির পুতিনের কাছে হেরে রয়েছেন. তার ধারণা গুলিতেই বলা হয়েছে, যা রাশিয়ার লোকেদের ভাবায়".

    মিখাইল প্রোখোরভের প্রাক্ নির্বাচনী পরিকল্পনা ও বর্তমানের প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের পরিকল্পনাকে দ্বিতীয় দলে ঢোকানো যায়. তাঁরা আধুনিক ধণতান্ত্রিক অর্থনীতির মডেলের উপরেই ভিত্তি করেছেন, কিন্তু তাতে রয়েছে সরকারের পক্ষ থেকে খুবই প্রসারিত সামাজিক দায়িত্ব নেওয়ার কথা, আধুনিকীকরণের ক্ষেত্রে সরকারি বিনিয়োগের মাধ্যমে.

    একটাই যা সমস্ত পরিকল্পনাকে ঐক্যবদ্ধ করেছে, তা হল রাজনৈতিক সংশোধন সম্পর্কে ধারণা. পুতিন ছাড়া সমস্ত প্রার্থীই আবার রাষ্ট্রপতি পদে থাকার সময় কমানো ও তার জন্য বাধা তৈরীর কথা বলছেন – দুই বারের বেশী পদে থাকা যাবে না, আর দলের কাজকর্মের জন্য সমস্ত রকমের বাধা দূর করার কথা বলছেন, রাশিয়ার পার্লামেন্টে প্রবেশাধিকার পাওয়ার জন্য ন্যূনতম বাধা কমাতে বলছেন, এমনকি পার্লামেন্টের সময়ের আগেই নির্বাচনের কথা বলছেন.

    প্রার্থীদের অর্থনৈতিক পরিকল্পনার বিষয়েও খুবই গুরুতর তফাত রয়েছে. জ্যুগানোভ চান জাতীয় করণ, মিরোনভ – অফশোর কোম্পানী ব্যবহারের পথ বন্ধ করে অন্য দেশের লোকেদের এই দেশের খনিজ পদার্থের নিষ্কাশনের কাজে না নিতে চাইছেন. আর এর মানে হল সোভিয়েত দেশে ফিরে যাওয়া, যার ফলে দেশ থেকে খুব দ্রুতই সমস্ত মূলধন বেরিয়ে যাবে ও অর্থনীতি ধ্বসে পড়বে, এই কথা বলছেন বিনিয়োগ কোম্পানী আবিষ্কার ক্যাপিটাল এর অর্থনীতিবিদ ভ্লাদিমির তিখোমিরভ.

    "এই ধরনের ব্যবস্থা, যদি তা নেওয়া হয়, তবে তা খুব গুরুতর ভাবেই রাশিয়ার অর্থনৈতিক রাজনীতি ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থাকে পাল্টে দেবে. এর অনেক ক্ষেত্রই আবার সরকারের অধীনে চলে যাবে ও সেখানে সরকারের প্রভাব বাড়বে. এর ফলে বিদেশী কোম্পানী ও বিনিয়োগকারীদের রাশিয়াতে কাজ করা জটিল হবে. কারণ কেউই শুধুশুধু বিনিয়োগ করেন না, প্রত্যেকেই এটা করে যাতে লাভ হয়. আর লাভ বাইরে নিয়ে যাওয়াকে মূলধন বাইরে নিয়ে যাওয়া বলে দেখিয়ে তার সমস্ত পরবর্তী পরিনাম সমেত ঝামেলা হবে. রাশিয়ার বিনিয়োগের বাজারে এই গুলির খুবই নেতিবাচক প্রভাব তাহলে পড়বে, এটা একেবারেই নিশ্চিত".

    প্রার্থীরা, যেমন তাদের নিজেদেরই করা উচিত্, তেমনি করেই নিজেদের পরিকল্পনা ও ধারণা প্রচার করছেন. একথা সত্য যে, তাদের কথার কায়দা কিছু নতুন নয়. প্রোখোরভ বলছেন লেনিনকে আবার কবর দেওয়ার কথা, আর নিজের সমস্ত ব্যবসা বেচে দেওয়ার কথা. প্রসঙ্গতঃ, যদি সামাজিক মতের মূল্যায়ণ মানা হয়, তবে এটা তিনি আশ্বাস দিতেই পারেন আর সেটা তার জন্য বিপজ্জনক হবে না.