আমেরিকার ব্যঙ্গ - রচয়িতা ও টুনাইট শো নামের টেলিভিশন অনুষ্ঠানের হোস্ট জে লেনো এক বাজে কৌতুক করাকে কেন্দ্র করে ভারত – মার্কিন সম্পর্কের মধ্য বড় এক স্ক্যাণ্ডাল তৈরী হয়েছে. গত সপ্তাহে লেনো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে ধনী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে প্রার্থী মিত রোমনি, যিনি সবচেয়ে কম কর দিয়ে থাকেন, তার সম্বন্ধে গায়ের ঝাল ঝেড়ে ভারতের অমৃতসর শহরের স্বর্ণ মন্দির দেখিয়ে বলেছেন যে, এটা তার খামার বাড়ী.

    বোঝাই যাচ্ছে যে এই অনুষ্ঠানের হোস্ট একেবারেই ভাবেন নি যে, তিনি এই কথা বলে কাউকে রাগিয়ে দিতে পারেন. স্বর্ণ মন্দির সম্ভবতঃ বাছা হয়েছিল এই কারণে যে, এটি সত্যই খুব বিলাস বহুল প্রাসাদ, কিন্তু তা কখনোই কোন আমেরিকার লোকের খামার বাড়ীর মতো নয়, এমনকি বহু সহস্র কোটি ডলারের মালিক মিত রোমনিরও নয়. একই রকম সাফল্যের সঙ্গে জে লেনো বাছতে পারতেন আগ্রা শহরে তাজমহল বা মস্কোর ক্রাইস্ট দ্য সেভিয়ার চার্চ ও বা অন্য কোন দারুণ প্রাসাদ, একটুও চিন্তা না করে যে, বাস্তব জীবনে এই প্রাসাদ গুলি কি ভূমিকা পালন করে.

    তা স্বত্ত্বেও বেশীর ভাগ শিখ ধর্মাবলম্বী মানুষই জে লেনো যে ব্যঙ্গ করেছেন, তা ভাল করে মনে নিতে পারেন নি. তারা নিজেদের ধর্মের ক্ষেত্রে অপমানিত বোধ করেছেন. আমেরিকার এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত নাগরিক আদালতে টেলিভিশন চ্যানেলের বিরুদ্ধেই মামলা ঠুকে দিয়েছেন. ভারতীয় বিদেশ মন্ত্রণালয় থেকে আমেরিকায় পাঠানো উপযুক্ত আপত্তি সংক্রান্ত বার্তা.

আসলে এটা একেবারেই একমাত্র ঘটনা নয়, আর তা শুধু এক অনুষ্ঠানের হোস্ট কে জড়িয়েই নয়. বহু সংখ্যক ভারতীয় বংশোদ্ভূত হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ আজ আমেরিকা ও কানাডায় পাকাপাকি ভাবে থাকতে শুরু করেছেন. এদের মধ্যে যাদের বাধ্য হতে হয় সেখানের সাধারন লোকের সঙ্গে থাকতে, তারা প্রায়ই টের পান বিদেশে থাকতে গেলে কি সহ্য করতে হয়. মহিলাদের এখানে মাথার টিপের জন্য ডট বাস্টার্ড বলে ডাকা হয়. পুরুষ মানুষের মাথায় পাগড়ী থাকলে, তার সঙ্গে কোন সাদা চামড়ার আমেরিকার লোক, এখন তাদের সঙ্গে আরও কালো চামড়া ও স্প্যানীশ লোকেরাও কোন সম্মান করে না. কারণ উত্তর আমেরিকা ও কানাডাতে পেট্রোল পাম্পে তেলের সঙ্গে ভেজাল দিয়ে এক শ্রেনীর লোক এখানে প্রথম মূলধন যোগাড় করেছিল, আর স্থানীয় জনতা এদের চোর ডাকাতের চেয়ে বেশী সম্মান দেয় না. এই কারণে ফেসবুক ইত্যাদি সামাজিক সাইটে আমেরিকাতে থাকা প্রথম প্রজন্মের বিদেশীদের বিশেষত ভারতীয় দের বেশীর ভাগ সামাজিক জীবনের ছবিতে শুধু নিজেদের জন গোষ্ঠীর মানুষদের সঙ্গেই বেশী দেখতে পাওয়া যায়. এরা সকলেই মনে চান যে, তারা আমেরিকার মূল জীবন স্রোতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যান. কিন্তু আমেরিকায় ইউরোপ থেকে যাওয়া বা আফ্রিকা থেকে যাওয়া লোকেরা এদের একেবারেই সহ্য করতে চান না. কারণ সেই একটাই, হাত ধরতে দিলে গায়ে পড়ার চেষ্টা.

       এই যে, শিখ লোকেরা আজ এত কথা বলছে, তার কারণ তারা ভারতে বা পাকিস্তানে থাকার সময়ে ধর্মের নামে সাধারন লোকের উপরে কম অত্যাচার করে নি, তাদের জঙ্গীরা ইন্দিরা গান্ধীর সময়ে স্বর্ণ মন্দিরে থেকে আতঙ্ক ছড়িয়েছিল. এমনকি ইন্দিরা গান্ধী কে হত্যাও করেছিল. ভারতবর্ষে এদের জায়গা কমলেও এরা আমেরিকা ও কানাডাতে বেশ মৌরুসি পাট্টা গেড়ে বসে পড়েছে, আজ তারাই খুব আওয়াজ তুলেছে.

এদিকে ভারতের রাজস্থানে কবি লেখক বিশ্ব সম্মেলনে সলমন রুশদিকে তাঁর স্যাটানিক ভার্সেস রচনার কথা তুলে আসতেই দেওয়া হল না, অথচ গলা ফাটিয়ে বলে বেড়ানো হচ্ছে এর নাম গণতন্ত্র ও ধর্ম নিরপেক্ষতা. দেখা যাচ্ছে ধর্মের নাম করে অন্যায় করা হচ্ছে সর্বত্র.

 কাজেই জে লেনো বেচারা কে মাপ করে দেওয়া যেতেই পারে তার অজ্ঞতার জন্য আর কয়েক লক্ষ ভারতীয় বংশোদ্ভূত লোককে একই সাথে চিনে ও অন্যান্য বিদেশের লোক সমেত ফেরত পাঠালে কিছুই বলার থাকবে না.