এখন রাশিয়াতে পার্লামেন্ট নির্বাচনের পরে বিরোধীদের প্রতিবাদের পরে সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হল – শীত থেকে গরমের সময়ে ঘড়ি পাল্টানো. রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি এই সময় পাল্টানোর বিষয় বন্ধ করেছেন গত বছরের হেমন্ত কাল থেকে, তাঁর বিশেষ নির্দেশে. আর এখন বহু রুশ লোকই বলে থাকেন যে, শীতের সময় পাল্টে দেওয়া ফলে ভোর বেলার অন্ধকার তাঁদের স্বাস্থ্যের ক্ষতি করছে. এমনকি আবার করে গরম ও শীত কালীণ সময়ের ঘড়ি পাল্টানোর অভ্যাসে ফেরার কথাও হচ্ছে.

    গত বছরের মার্চ মাসে  রাশিয়া শেষবার এক ঘন্টার জন্য ঘড়ির কাঁটা এগিয়েছিল, তারপর আর পিছিয়ে দেয় নি. এই ধরনের পরিস্থিতি দেশের ইতিহাসে ১৯৩০ সালে হয়েছিল, যখন দেশ ঋতু অনুযায়ী সময় থেকে চির গ্রীষ্মে থাকার সিদ্ধান্ত নিয়েছিল. ১৯৮১ সাল থেকে আবার করে শুরু হয়েছিল হেমন্ত ও বসন্তের সময় ঘড়ি ঠিক করা. এটা তার পরে বহু লোকের শরীর খারাপ হওয়া নিয়ে অভিযোগের কারণ হয়েছিল. যা রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের ঘড়ির কাঁটা এগোনো বা পিছিয়ে দেওয়া নিয়ে নেতিবাচক সিদ্ধান্তের একটা কারণ হয়েছিল. এই ভাবেই বর্তমানে রাশিয়ার লোকেরা জ্যোতির্বিজ্ঞান সম্মত সময়ের সঙ্গে দুই ঘন্টা তফাতে এখন রয়েছেন. আর তাঁরা আবার খুশী নন. হেড হান্টার কোম্পানীর জনমত সংগ্রহের তথ্য অনুযায়ী বর্তমানের শীতে শতকরা ৪৬ ভাগ রুশ লোক নিজেদের মধ্যে আলস্য, নির্জীব ভাব ও কর্ম ক্ষমতার অভাব বোধ করছেন. যারা কাজের উপযুক্ত লোক ঠিক করেন, তারাও এই বিষয় লক্ষ্য করেছেন, বলে জানিয়েছে এই কোম্পানীর বিশেষজ্ঞ. কেউই ভাবে নি যে, ঋতু অনুযায়ী সময় পরিবর্তনের ফলে এই ধরনের ফল হবে. মানুষ অনেকদিন আগেই এই ধরনের পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারতো, কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি যে, এটা ঘটছে না.

    আসলে বিষয় হল, আমরা এখন অনেক খানি গ্রীনউইচের ঘড়ির সঙ্গে তুলনা করে তৈরী ঘড়ির সময় থেকে পেছিয়ে গিয়েছি. তাই আমাদের জেগে থাকার সময় প্রাকৃতিক ঘন্টা অনুযায়ী সময়ের থেকে একটা বৈষম্যে পৌঁছেছে, যা আমাদের শরীরের স্বাভাবিক কাজ কর্মকে নিয়ন্ত্রণ করে থাকে. এই কথা উল্লেখ করেছেন মস্কো শহরের মনস্তত্ব বিদ্যা ও শিক্ষক শিক্ষণ বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মী ভিক্টোরিয়া আর্শিনোভা.

"আমাদের ভিতরে যা কিছু আছে, তা গ্রহ নক্ষত্রের ঘড়ির সঙ্গে যুক্ত আর তার সঙ্গে সৌর ব্যবস্থার আন্দোলনের সঙ্গেও. এটা তথাকথিত ভাবে জৈব ঘড়ির সময়. আর আমরা এই ঘড়িকে সামাজিক ঘড়ি, যা প্রশাসনের নির্দেশে করা, তার জায়গায় আসতে দিচ্ছি না".

বিশেষজ্ঞের কথামতো, এখানকার লোকেদের জন্য বছরে দুবার এক ঘন্টা করে সময় এগোনো বা পেছিয়ে দেওয়া সহজ হয়ে গিয়েছিল. গরম কালে চারিদিকে আলো, এক ঘন্টা আগে উঠতে সহজ, তার ওপরে সূর্যের আলো আলাদা করে শক্তি জোগায়. তা স্বত্ত্বেও বেশীর বাগ লোকেরই শীতের সময়ে এক ঘন্টা সময় পেছিয়ে দিতেই বেশী ভাল লাগত. মানুষে অবশ্যই এই নতুন ঘড়ির সঙ্গে মানিয়ে নেবে, তবে তা করতে আরও পাঁচ  থেকে ছয় বছর সময় লাগবে বলেই বিশেষজ্ঞ মনে করেছেন.

রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর ভূগোল ইনস্টিটিউটে, যেখানে শীতের সময় পাল্টানো নিয়ে গবেষণা করা হচ্ছে, সেখানের মনোভাব একেবারেই অন্য. তথাকথিত কষ্ট দেখলেও, লক্ষ্য করা সম্ভব হয়েছে যে, এই পরিবর্তনে রাশিয়ার বিভিন্ন রাজ্যে শতকরা ৭ থেকে ১৭ ভাগ সময় বেশী পাওয়া যাচ্ছে দিন হিসাবে, এই কথা উল্লেখ করেছেন ডিরেক্টর আর্কাদি তিশকভ.

"বাস্তবে অনেক গুলি সামাজিক সমস্যার সমাধান সম্ভব হয়েছে. যেমন, রাস্তা ঘাটে দূর্ঘটনা কমেছে. দেশের জনগনকে ঋতু পরিবর্তনের সময়টা শুধু সহ্য করতে হয়েছে, যদিও আগের হিসাবে ভোর তেমনই অন্ধকার থাকতো. আর এখন আপনারা সকলেই অনুভব করতে পারবেন যে, গরমের সময় অনুযায়ী চলার সমস্ত সুবিধা প্রকাশ্যেই রয়েছে আপনারা আর কাজ শেষ করছেন না, ঘোর অন্ধকারের সময়ে, তখনও দিনের আলোই থাকছে".

সুতরাং দেখাই যাচ্ছে, হয় ভোরে খারাপ, নয়তো সন্ধ্যায় ভাল. তাছাড়া এখনও জানা নেই যে, লোকে আবার সময় পাল্টানোর বিষয়ে কি রকম মত দেবেন. কারণ সকলকেই খুশী করা সম্ভব নয়.