তেহরানে আইন গ্রহণ করা হচ্ছে, যাতে অবিলম্বে ইরানের খনিজ তেল ইউরোপীয় সঙ্ঘকে রপ্তানী করা বন্ধ হয়, এমনকি ইউরোপীয় সঙ্ঘের পক্ষ থেকে ১লা জুলাই থেকে নিষেধাজ্ঞা কার্যকরী হওয়া শুরুর আগেই. এই বিষয়ে মন্তব্য করেছেন ভ্লাদিমির সাঝিন.

    আমরা দেখতেই পাচ্ছি যে, ইরান একেবারেই রাজী নয় ইউরোপীয় সঙ্ঘের ধীরে সুস্থেই ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র ইরানের বিরুদ্ধে ১লা জুলাই থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রয়োগ কোন রকমের অংশ গ্রহণ ছাড়াই দেখতে. ইরানের প্রত্যুত্তর এমনকি এমনিতেই নড়বড়ে অবস্থায় থাকা বেশ কিছু দেশের অর্থনীতিকে ঝাঁকুনি দিতে পারে. এটা প্রাথমিক ভাবে গ্রীস, স্পেন ও ইতালির ক্ষেত্রে হবে- আর তারই ইরানের খনিজ তেলের আমদানীর উপরে সবচেয়ে বেশী নির্ভরশীল. ইরানের তেল দিয়ে গ্রীস নিজেদের আভ্যন্তরীণ চাহিদার এক তৃতীয়াংশ পূরণ করে, স্পেন – শতকরা ১২ভাগ ও ইতালি শতকরা ১২ ভাগ. আর মনে তো হয় না যে, এই দেশে গুলি এত দ্রুত অন্য কার্বন যৌগের উত্স থেকে ব্যবস্থা করে উঠতে পারবে. কারণ নতুন সরবরাহকারী সংস্থা মানে নতুন রপ্তানীর পথ, নতুন ধরনের পরিশোধনের প্রযুক্তি. এই সবই বাস্তবে অনেক খরচের কারণ হবে.

    এই বিষয়ে বিশ্লেষক ভালেরি নেস্তেরভ একমত হয়ে বলেছেন:

"যদি ইরান তাদের হুমকি কার্যকরী করে, তবে ইউরোপ জটিল পরিস্থিতিতে পড়বে. তাদের খুবই দ্রুত অন্য পথ দেখতে হবে. এর ফলে উত্তেজনা বাড়বে ও হতে পারে খনিজ তেলের বাজারে ছোটখাট আতঙ্কের সৃষ্টি হবে, ফলে বিশ্বে খনিজ তেলের দাম অল্প সময়ের জন্য হলেও বাড়বে. অন্য বিষয় হল যে, এই ধরনের দাম বাড়া দীর্ঘ কালীণ হবে না, কারণ ইরান থেকে রপ্তানী না হওয়া খনিজ তেলের বদলে স্ট্র্যাটেজিক ও ব্যবসায়িক ভাণ্ডার থেকে খনিজ তেল সরবরাহ শুরু হয়ে যাবে, যা এমনিতেই অনেক রয়েছে – প্রায় ৪ বিলিয়ন ব্যারেল. এই সঞ্চয় সেই সব দেশের যারা আন্তর্জাতিক জ্বালানী সংস্থার সদস্য. আর প্রাথমিক মাস গুলিতেই ৫০ মিলিয়ন টনের বেশী খনিজ তেল সেখান থেকে নিয়ে ইউরোপের গ্রাহকদের দেওয়া হতে পারে."

২০১১ সালের অক্টোবর মাসে দেওয়া আন্তর্জাতিক জ্বালানী সংস্থার তথ্য অনুযায়ী বর্তমানে গ্রীসের কাছে তাদের প্রয়োজনের উপযুক্ত প্রায় ৮৬ দিনের মতো সঞ্চয় রয়েছে, স্পেনের আছে – ১০৪ দিন আর ইতালির – ১২৩ দিন. আবার হতে পারে যে, ডুবন্ত দের বাঁচানোর জন্য বয়া দেবে গ্রেট ব্রিটেন, যার কাছে রয়েছে ৪৩২ দিনের সঞ্চয়. কিন্তু যে কোন ক্ষেত্রেই, ইউরোপীয় সঙ্ঘ অনেক সমস্যার মুখে পড়বে.

ইরানেরও শান্ত জীবন আশা করা উচিত্ হবে না. তার মধ্যে তেহরান যে সময়ের আগেই অনেক হাজার কোটি ডলার হারাতে বসবে, তা সম্বন্ধে যদি নাও বলা হয়, তবুও তাদের উপরে ইউরোপীয় সঙ্ঘের সঙ্গে বহু বর্তমানে কার্যকর ও সম্পন্ন হওয়া চুক্তির কাজ উপযুক্ত ভাবে না করার জন্য খুবই টের পাওয়ার মতো সব জরিমানা বহাল হবে. তবে এই কথা সত্য যে, এই সব ক্ষেত্রে বাস্তবে জরিমানা দিতে হবে আন্তর্জাতিক আদালতে দীর্ঘ কালীণ সব মামলার নিষ্পত্তি হওয়ার পরে.

হতে পারে যে, তেহরান এই সব হিসাব করে দেখেছে. আর বর্তমানে তারা কাজ করছে খোজা নাসিরুদ্দীনের মতো, যিনি বাদশাকে আশ্বাস দিয়েছিলেন যে, ২০ বছরের মধ্যে গাধাকে কথা বলতে শিখিয়ে দেবেন, একবার তার জন্য পয়সা পেলেই. আর যখন তাঁর বন্ধুরা প্রশ্ন করেছিল, কি করে তা হবে: তখন উত্তর দিয়েছিলেন যে, "২০ বছরে হয় আমি, নয়তো বাদশা, নয়তো গাধা মরবে". অর্থাত্ জরিমানার প্রশ্ন – বহু দূরের কুয়াশাবৃত ভবিষ্যতে রয়েছে, আর ইউরোপের স্বার্থে আঘাত আজই বাস্তবায়িত হতে পারে.

0আরও একটি কম আগ্রহের নয় এমন প্রশ্ন হল: আর ইরান কি করে সেই সমস্ত জরিমানার অর্থ দেবে, যদি ইউরোপীয় সঙ্ঘে এই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কের সঙ্গে সমস্ত রকমের অর্থ বিনিময় বন্ধই করে দিয়ে থাকে. তাহলে "নগদ" অর্থে নিতে হবে – অর্থাত্ বাক্স ভরে ইরানের রিয়াল মুদ্রা. অন্য কোনও পথও নেই. কিন্তু এটা – "কখনও একটা"  এবং "হতে পারে" মার্কা ব্যাপার. আর এখন খনিজ তেলের "পিঠের ভাগ" নেবে ইরানের এই বাজারে সমস্ত প্রতিদ্বন্দ্বী দেশ. প্রাথমিক ভাবে পারস্য উপসাগরীয় দেশ গুলি, যারা এর মধ্যেই ইরানের অংশের ক্ষতি বিশ্বের জ্বালানী বাজারে পূরণ করার জন্য তৈরী হয়েছে বলে প্রকাশ করেছে. তার ওপরে – বর্তমানের দাম বাড়ার ও স্নায়ু বৈকল্যের সময়ে.