ভারত ও পাকিস্তান তুর্কমেনিয়া থেকে আসা গ্যাসের ট্রানজিটের মূল্য বিষয়ে সমঝোতায় আসার কাছে পৌঁছেছে ও সম্মিলিত ভাবে স্ট্র্যাটেজি তৈরী করছে এই মধ্য এশিয়ার দেশের গ্যাস উত্তোলন খনি গুলিতে নিষ্কাশনের ও আমদানীর কাজের জন্য. এই বিষয়ে দিল্লীতে ভারতের খনিজ তেল ও গ্যাস মন্ত্রী জয়পাল রেড্ডী ও তাঁর পাকিস্তানের সহকর্মী আসিম হুসেইনের বৈঠকের পরে আয়োজিত যৌথ সাংবাদিক সম্মেলনে ঘোষণা করা হয়েছে. "দুই পক্ষই এই বিষয়ে যৌথ স্ট্র্যাটেজি নির্ণয়ে অনেক অগ্রগামী হতে পেরেছে" – বলেছেন পাকিস্তানের মন্ত্রী. কিছু বিশদ বিবরণ নিয়ে এই সম্বন্ধে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    ভারত ও পাকিস্তান সব দেখে শুনে মনে হয়েছে আর সেই সব ভুল করতে চায় না, যা ইরানের গ্যাস পাইপ লাইন "মৈত্রী" নিয়ে দলিল তৈরীর সময়ে করেছিল. তখন এই দাম দেওয়ার প্রশ্ন বিতর্কের জন্য ইরান থেকে আফগানিস্তান হয়ে গ্যাস পাইপ লাইন নির্মাণের জন্য সাধারন সর্ব পক্ষীয় চুক্তি স্বাক্ষর অবধি দীর্ঘায়িত হয়ে গিয়েছিল. চুক্তি হয় নি. প্রাথমিক ভাবে ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে বিরোধের জন্য, যারা ইরানের কার্বন যৌগের রপ্তানীর জন্য কোনও অন্য পথ করতে দিতে চায় নি. কিন্তু ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে ইরানের গ্যাসের ট্রানজিটের জন্য দাম দেওয়ার চুক্তিও নিজের ভূমিকা পালন করেছিল.

    দক্ষিণ এশিয়াতে তুর্কমেনিয়া থেকে গ্যাস পাইপ লাইন বসানো নিয়ে আশখাবাদে সক্রিয়ভাবে আলোচনা হয়েছে এই দিন গুলিতে আফগানিস্তানের রাষ্ট্রপতি হামিদ কারজাইয়ের এই দেশে সফর উপলক্ষে. তাপি প্রকল্পের বাস্তবায়ন আফগানিস্তানের অর্থনীতিকে উন্নত করবে, বিনিয়োগ টেনে আনবে, বাস্তব সব সামাজিক সমস্যার সমাধানে, তার মধ্যে কর্ম সংস্থানও থাকবে বলে আফগান রাষ্ট্রপতি ঘোষণা করেছেন. তুর্কমেনিয়ার দেশ নেতা গুর্বাঙ্গুলী বেরদীমুহামেদভ নিজেও উল্লেখ করেছেন যে, তুর্কমেনিস্থানের জন্য, যারা বিশ্বের আবিষ্কৃত গ্যাস সঞ্চয়ের ভাণ্ডারের পরিমানে স্বীকৃত ভাবেই চতুর্থ বৃহত্ দেশ, দক্ষিণ এশিয়াতে এই গ্যাস পাইপ লাইন বসানো বিশাল প্রসারিত বাজারের সৃষ্টি করবে.

    কিন্তু এই তাপি প্রকল্প সম্বন্ধে সন্দেহ প্রবণ লোকের সংখ্যাও কিছু কম নয়, এই কথা উল্লেখ করে রুশ বিশেষজ্ঞ আঝদার কুরতভ বলেছেন:

    "পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে রাজনৈতিক টানাপোড়েন থেকেই গিয়েছে. পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যেও তা রয়েছে. আর তুর্কমেনিস্তানের প্রশ্নও কিছু সহজ নয়. এই গ্যাস পাইপ লাইনের জন্য প্রধান ঘাঁটি দক্ষিণ তুর্কমেনিয়ার দভলেতাবাদ জায়গায় রয়েছে. সেই একই খনিজ গ্যাসের উত্স, যা সোভিয়েত দেশের সময়ে ও তার পরেও প্রাকৃতিক গ্যাস সরবরাহ করতো উত্তরের দিকে যাওয়া পাইপ লাইনে. কিন্তু এই নিয়ে তিন বছর হতে চলল, যখন তুর্কমেনিয়া থেকে রাশিয়াতে গ্যাস সরবরাহ কমেছে. তুর্কমেনিস্তান এখন আলাদা করে নতুন গ্যাসের ক্রেতা খুঁজছে. যে কোন ভাবেই, বেশ কয়েক হাজার কিলোমিটার গ্যাস পাইপ লাইন পাতার কাজ কোন এক বা দুই মাসের ব্যাপার নয়. যে সময় এর জন্য বরাদ্দ বলে ঘোষণা করা হয়েছে, তা দুই বছর, এটাই আমার সন্দেহের কারণ. খুব সম্ভবতঃ, এই সময়ের ঘোষণা কোন রাজনৈতিক কারণেই উদ্দেশ্য নিয়ে করা হয়েছে".

    খুবই গুরুতর আশঙ্কা রয়েছে এই পাইপ লাইনের নিরাপত্তা নিয়েও. কারণ তা যাবে আফগানিস্তানের খুবই অশান্ত অঞ্চল দিয়ে, যেখানে বাস্তবে তালিবদের সঙ্গে যুদ্ধই চলছে.

    এই কথা সত্য যে, আফগানিস্তানের খনিজ শিল্প ও খনি মন্ত্রী ওয়াহিদুল্লা শাহরানি মনে করেন যে, আফগানিস্তানের সরকার গ্যাস পাইপ লাইনের নিরাপত্তা দিতে সক্ষম হবে. যেখান দিয়ে গ্যাস পাইপ লাইন যাবে, সেই সব "তালিবান" অধ্যুষিত অঞ্চলে মাটির তলায় পাইপ বসানো হবে, আর স্থানীয় উপজাতি এলাকার জনগনকে পাইপ লাইন পাহারা দেওয়ার জন্য অর্থ দেওয়া হবে. এই পাইপ লাইন সুরক্ষার জন্য বেশ কয়েক হাজার পুলিশ কর্মীও নিয়োজিত হবেন.

    এই সমস্ত আশা ভরসা ও গ্যারান্টি যদিও খুবই দুর্বল, বাজী খুবই বেশী, আর এই প্রকল্পের অংশীদার দেশ গুলিও আজ রাজনৈতিক কারণেই নড়বড়ে, তবুও সম্ভবতঃ, বোধহয় ঝুঁকি নেবেই...