মস্কো বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্র দিবস তাতিয়ানার দিন উত্সবের বদলে কূট প্রশ্ন ও সোজা উত্তরের জায়গা হয়েছিল. সাক্ষাত্কার নেওয়া হয়েছিল রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের প্রায় আড়াই ঘন্টা ধরে, আর উত্সুক প্রশ্ন করেছিল মস্কো রাষ্ট্রীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিক বিভাগের ছাত্র ছাত্রীরা. এই আলোচনা শুরু হয়েছিল সমস্ত উপস্থিত সজ্জনকে রাশিয়ার ছাত্র দিবস তাতিয়ানার দিনে অভিনন্দন জানানো দিয়ে.

    বর্তমানের রাষ্ট্র প্রধানের সাক্ষাত্কার জার্নালিজম ফ্যাকাল্টির সঙ্গে বিগত কয়েক মাসের মধ্যে এই নিয়ে দ্বিতীয় বার.

    "দেশে বিপ্লব হলে আপনার নিজের ব্যক্তিগত স্ট্র্যাটেজি কি হবে? আপনি ৪ঠা ফেব্রুয়ারী উপলক্ষে আয়োজিত মিটিংয়ে গিয়ে বিরোধীদের সামনে বক্তৃতা দিতে তৈরী আছেন? আপনি কি মিখাইল খদরকোভস্কির রাজক্ষমা দান করতে তৈরী হচ্ছেন"? প্রচুর সাহসী ও কূট প্রশ্ন যেন প্রাচূর্য্যের শৃঙ্গ থেকে ঝরে পড়েছিল. দিমিত্রি মেদভেদেভ খুবই খোলাখুলি ভাবে সত্য উত্তর সকলকেই দিয়েছেন, তিনি বলেছেন:

    "যে কোন লোকই, যারা রাষ্ট্রপতি পদের জন্য নির্বাচনে দাঁড়ান, তিনি সব কিছুর জন্যই তৈরী থাকতে বাধ্য. যদি নিজে এই সম্বন্ধে সিদ্ধান্ত নিয়ে থাকা হয়, তবে বোঝা উচিত্, যে এর উপরে বিশাল সংখ্যক মানুষের ভাগ্য নির্ভর করছে. তার ওপরে আমাদের দেশ খুবই জটিল, এখানে সন্ত্রাসবাদ রয়েছে, রয়েছে অসংখ্য গোপন বিরোধ, সমস্যা. আর তাই রাষ্ট্রপতি সব কিছুর জন্যই তৈরী থাকতে বাধ্য. আমরা, তার মানে আমাদের দেশ, অনেক ঝড় পেরিয়ে এসেছি, কিন্তু সমস্যা রয়েই গিয়েছে. ভবিষ্যতের জন্য যা পূর্বাভাস বলে দেওয়া যায় – সেটা খুব ধন্যবাদ পাওয়ার মতো কাজ নয়. কিন্তু আমি একটা বিষয়ে বিশ্বাস করি যে, আমাদের দেশে আর কোনও বিপ্লবের প্রয়োজন নেই ও নিজেদের বিপ্লবের মাত্রা রাশিয়া বিংশ শতাব্দীতেই পার হয়ে এসেছে. কিন্তু একই সময়ে আমি চাইবো, যাতে আমরা আমাদের রাজনৈতিক ব্যবস্থার উন্নতি করার কাজ করি. এটা শুধু দলের কথাই হচ্ছে না, রাষ্ট্রপতি ও পার্লামেন্ট নির্বাচনের কথাও হচ্ছে".

    রাষ্ট্রপতি ৪ঠা ফেব্রুয়ারীর মস্কো শহরের বিরোধী মিটিংয়ে যোগ দেবেন কি না তার উত্তরে রাষ্ট্রপতি উত্তর দিয়েছেন নিজের অবস্থান সম্বন্ধে মন্তব্য করে:

    "বিশেষ করে সেখানে গিয়ে বিগত লোকসভা নির্বাচন নিয়ে আয়োজিত মিটিংয়ে জমায়েত হওয়া লোকেদের কাছে ব্যাখ্যা করতে আমি যাবো না, এটা রাষ্ট্রপতির কাজ নয়. রাষ্ট্রপতির কাজ- নিজের মতকে বাস্তবায়িত করা, আর আমি এটা ৭ই মে পর্যন্ত করবো".

    তাঁর পরবর্তী পরিকল্পনা অপেক্ষা করবে আগামী রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের উপরে ও ভ্লাদিমির পুতিনের সেখানে কি ফল হবে তার উপরে.

    ছাত্ররা আগ্রহ প্রকাশ করেছিল আন্তর্জাতিক বিষয় নিয়েও, অংশতঃ রাশিয়া ও আমেরিকার সম্পর্ক নিয়ে. "সেটা কি এখন সঙ্কটের মধ্যে নেই"? – ছাত্রদের উদ্বেগ হয়েছে. মেদভেদেভ বলেছেন যে, আমেরিকার সঙ্গে রাশিয়ার সম্পর্ক খারাপ হয় নি, তিনি বলেছেন:

    "এমন সমস্ত বিষয় রয়েছে, যেখানে আমার সঙ্গে রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামার স্পষ্ট মত পার্থক্য রয়েছে, কিন্তু আমাদের সম্পর্ক যা আন্তর্রাষ্ট্রীয় ও তার ওপরে ব্যক্তিগত, তা খারাপ হয় নি. আমার তাঁর সঙ্গে সম্পর্ক ভাল, আর এটা এক গুচ্ছ গুরুতর সমস্যা সমাধানে সাহায্য করেছে. কিন্তু এমন সব বিষয় রয়েছে, যেখানে আমাদের উল্লেখ যোগ্য মতভেদ রয়েছে, যেমন রকেট বিরোধী ব্যবস্থা".

0    ২০১২ সালের ৭ই মে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সরে যেতে গিয়ে দিমিত্রি মেদভেদেভ ছাত্রদের কাছে ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, সম্ভবতঃ, তিনি আবারও কোন নির্বাচন যোগ্য পদের প্রার্থী হতে পারেন. "আমার মাত্র ৪৬ বছর বয়স – এটা তেমন কিছু প্রচুর বয়স নয়, যাতে পরবর্তী রাজনৈতিক যুদ্ধ থেকে বিরত হতে হবে", - বলেছেন মেদভেদেভ.