ছাত্রদের পেশা বা বৃত্তির উত্সবের দিন ২৫শে জানুয়ারী – পবিত্র তাতিয়ানা দিবস – ছাত্র সমাজের পরিত্রাতা রোমান তাতিয়ানার স্মৃতির উদ্দেশ্য নিবেদিত, যেদিন ১৭৫৫ সালে মস্কোর বিশ্ববিদ্যালয় খোলার অনুমতি দিয়েছিলেন সম্রাজ্ঞী এলিজাভেতা পেত্রোভনা. মস্কো বিশ্ববিদ্যালয় গঠনের প্রায় ৪০ বছর পরে এর নতুন ভবনে তাতিয়ানার নামে একটি গির্জা খোলা হয়েছিল, যা সোভিয়েত শাসনের পতনের পরে আবার ধর্মীয় গির্জা হিসাবে কাজ করতে শুরু করেছে.

    মস্কোর ছাত্ররা এই উত্সব পালন করতে শুরু করেছে উনবিংশ শতকের মাঝামাঝি. তার ওপরে সাধারণতঃ এই দিনেই ছাত্রদের শীতের ছুটি শুরু হতো, যা ছাত্রদের জন্য বিশেষ আনন্দের কারণ. এই দিনের উত্সব ধীরে নিজের কিছু বিশেষত্ব অর্জন করতে সক্ষম হয়েছিল. এই দিনে সেরা ছাত্রদের আনুষ্ঠানিক ভাবে পুরস্কৃত করা হতো. আনুষ্ঠানিক ভাগ শেষের পরে সত্যিকারের উত্সব শুরু হত, ছাত্রদের শহর জুড়ে বেড়ানো, যেখানে প্রায় সারা শহরই অংশ নিত.

    এই উত্সবে সমস্ত শ্রেনীর ও পেশার লোকই একসাথে আনন্দে মত্ত হতো – বয়সের বাঁধাও থাকতো না. ধনী, দরিদ্র, জ্ঞানী ও পদাধীকারী একসাথে আনন্দ করত. এই দিনে অনেকেই নিজেকে ছাত্র বা বৈজ্ঞানিক বলে মনে করত. বড়লোকের ছেলেমেয়েরা আগে নিজেদের বাড়ীতে পরিবারের সঙ্গে উত্সব শেষ করে, সাধারন পোষাকে রেস্তোরাঁ বা বিয়ার পাবে রওনা হত সকলের সঙ্গে মজা করতে. দামী রেস্তোরাঁ গুলিতে এই দিনে সব দামী জিনিষ আসবাব সরিয়ে ফেলে মেঝেতে কাঠের গুঁড়ো ঢেলে রাখা হত, ফলে মালিক ও ছাত্ররা সকলেই নির্ভয় হয়ে মত্ত হতে পারতো.

    একই টেবিলের চারপাশে এই দিনে ছাত্র ও প্রফেসর, সাংবাদিক ও উকিলদের সঙ্গে বসতে পারতো সকলেই. সাধারন কম দামী খাওয়া দাওয়ার জিনিষ দিয়ে উত্সব করতে গিয়ে একটা "সবাই রাজা" ধরনের অনুভূতি টের পাওয়া যেত. পুলিশ এই দিনে এখনকার বা প্রাক্তন ছাত্রদের মদ্যপ অবস্থায় দেখলে জেলে ধরে নিয়ে যেত না. এমনকি প্রশ্ন করে দেখত, কোন রকম বাড়ী যাওয়ার ব্যাপারে সাহায্য লাগবে কি না.

    ছাত্রদের উত্সবের ইতিহাস বহু প্রাচীন কাল থেকে শুরু হয়েছে, কিন্তু তার ঐতিহ্য এখনও রয়েছে. সারা রাশিয়া জুড়েই ছাত্ররা এই দিনে আনন্দ করে, যেমন ১০০ বছর আগেও করত. এটা সবচেয়ে মজার আর সরব উত্সব. বিশেষ করে আনন্দের বিষয় হল – শীত ষান্মাসিকের পরীক্ষা শেষ আর বহু প্রতীক্ষিত শীতের ছুটির শুরু.