রুশ প্রজাতন্ত্রের প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন সমগ্র ছাত্র সমাজকে তাদের উত্সবের দিনে অভিনন্দন জানিয়েছেন. রাশিয়াতে ছাত্র দিবসের আরেক নাম তাতিয়ানার দিন. কারণ সেই জার রাজত্বের সময়ে পুরনো ক্যালেণ্ডার অনুযায়ী ১৭৫৫ সালের ১২ই জানুয়ারী (বর্তমানে ২৫শে জানুয়ারী) সম্রাজ্ঞী এলিজাভেতা পেত্রোভনা মস্কো শহরে বিশ্ববিদ্যালয় খোলার অনুমতি দিয়েছিলেন, এই দিনকে রোমান পবিত্র তাতিয়ানার স্মরণে অর্থোডক্স গির্জা পালন করে থাকে ও তাই পবিত্র তাতিয়ানাকে এই দেশে মনে করা হয় সমগ্র ছাত্র সমাজের পরিত্রাতা হিসাবে. ছাত্র দিবসের আরেক নাম তাই এখানে তাতিয়ানা দিবস. পুতিন এই দিনে ছাত্রদের আশ্বাস দিয়েছেন আরও ছাত্রাবাস খোলার ও আহ্বান করেছেন চিন্তা করে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিয়ে ভোট দিতে. রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী এই দিনে তোমস্ক শহরের পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউটে ছাত্রদের সঙ্গে দেখা করেছেন.

    সাইবেরিয়ার এই শহর তোমস্ক- এক অর্থে ছাত্রদের শহর, এখানের প্রতি পঞ্চম ব্যক্তিই ছাত্র. সেখানে ১৮টি সরকারি উচ্চ বিদ্যালয় রয়েছে. তাদের মধ্যে প্রাথমিক ভাবে বৈজ্ঞানিক দিক যেগুলি নিয়ে পড়াশোনা করা হয় – পারমানবিক শক্তি, বিকল্প শক্তির উত্স প্রযুক্তি, নতুন পদার্থের সৃষ্টি.

    ছাত্রদের সঙ্গে দেখা হওয়ার আগে ভ্লাদিমির পুতিন এখানের একটি অত্যন্ত আধুনিক ল্যাবরেটরীতে গিয়েছিলেন, যেখানে পদার্থের গুণমান নিয়ন্ত্রণের জন্য বিরল ধরনের ব্যবস্থা বানানো হচ্ছে. এই ব্যবস্থার সাহায্যে সমস্ত রকমের ভাঙচুর ও গলতি টের পাওয়া যায়, বিপর্যয় বা দূর্ঘটনার পূর্বাভাস দেওয়া সম্ভব হয়. এই ধরনের প্রযুক্তি সমস্ত জায়গাতেই ব্যবহার যোগ্য, তা কয়লা খনি, অন্য কোন খনি, পাইপ লাইন, মহাকাশ যান ইত্যাদি নির্মাণ ও ব্যবহারের সময়ে.

    এই ল্যাবরেটরীর প্রধান জার্মানীর প্রফেসর হানস- মিখাইল ক্রিওনিঙ্গ, যিনি রাশিয়াতে বৈজ্ঞানিকদের জন্য সরকারি মেগা গ্র্যান্ট প্রকল্পে অতিথি হয়ে এসেছেন. এই প্রকল্পের লক্ষ্য – বিশ্বের বিখ্যাত বিজ্ঞানীদের নিমন্ত্রণ, যাতে তাঁরা রুশ বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিতে আন্তর্জাতিক মানের গবেষণা কেন্দ্র তৈরী করেন. ভ্লাদিমির পুতিনের জন্য বিশেষ আগ্রহের বিষয় হয়েছে বিশাল আকারের মাল পর্যবেক্ষণ করার ব্যবস্থা. তিনি বলেছেন:

    "সেখানে এমন কিছু জিনিষ রয়েছে, যা আমাদের খুবই তাড়াতাড়ি দরকার পড়বে. আর শুধু শিল্পের জন্যই নয়, বরং নিরাপত্তার জন্যও, বিশেষ করে অলিম্পিকের আগে. আমরা চুক্তি করেছি যে, বাড়তি ভাবে সহযোগিতা করবো সেই সমস্ত প্রকল্প ও পরিকল্পনা নিয়ে, যা এখন এই ল্যাবরেটরীতে করা হচ্ছে".

    জার্মান প্রফেসর, যিনি ভ্লাদিমির পুতিনকে ঘুরে সব দেখিয়েছেন ও তাঁর সাথে জার্মান ভাষায় কথা বলেছেন, তিনি স্বীকার করেছেন যে, "রাশিয়ার ছাত্রদের সাথে তাঁর কাজ করে আনন্দ হচ্ছে. রুশীরা খুবই সৃষ্টিশীল, ওদের সব সময়ে আগ্রহজনক ধারণা রয়েছে, তারা সব সময় কিছু একটা সৃষ্টি করছে", - বলেছেন মিস্টার ক্রিওনিঙ্গ.

    বিদেশে রাশিয়ার বিশ্ব বিদ্যালয় গুলির ছাত্রদের মূল্য দেওয়া হয়. দিমিত্রি পলেতায়েভ, তোমস্ক বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র, সে বলেছে যে, বিদেশে তার পড়াশোনার সময়ে খুবই লোভনীয় প্রস্তাব এসেছিল. বিদেশে পড়াশোনা শেষ করার সময়ে অনেক প্রস্তাব আসে থেকে যাওয়ার জন্য, ভাল মাইনে, বাড়ী ঘর, কাজের জায়গা, পরিবারের সুবিধা ইত্যাদি নিয়ে. তাই মনে হয়, রাশিয়াতে এখনও এই রকমের ব্যবস্থা নেই, আর অনেকেই তাই ফিরতে চান না. তার প্রশ্ন ছিল যুব বৈজ্ঞানিকদের জন্য ২০১২ বা পরবর্তী বছর গুলিতে রাশিয়াতে এই রকমের কোন ব্যবস্থা হতে চলেছে কি না.

    ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন যে, বিগত বছর গুলিতে রাশিয়াতে অল্প বয়সী বিশেষজ্ঞদের জন্য অনেক পরিকল্পনা করা হয়েছে. ভিত্তি মূলক ও মানবিক বিজ্ঞানের উন্নতির জন্য দুটি তহবিল খোলা হয়েছে. প্রখ্যাত বৈজ্ঞানিকদের জন্য বিশাল পরিমানে অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছে, অনেক ল্যাবরেটরীতে যৌথ উদ্যোগে কাজ হচ্ছে, তবুও তাঁর মতে – কাজ কোথায় করা উচিত্ এটা প্রত্যেকের ব্যক্তিগত নির্বাচন হওয়া দরকার, তিনি বলেছেন:

    "আমাদের খোলা বাজার অর্থনীতি, দেশও খোলা. যদি আমাদের সহযোগীরা রাজী হয়, আমরা আগামীকালই ইউরোপীয় সঙ্ঘের সাথে ভিসা ব্যবস্থাই প্রত্যাহার করতে রাজী আছি. আমি মনে করি, এটা কখনও একটা হবেই. আর আমাদের বিশেষজ্ঞরা যে, বিশ্বের বাজারে কাজ পাচ্ছেন, তার অর্থ হল, আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মান ভাল. এটাও ভাল যে, আমরা প্রত্যেককেই নিজের জীবনে বাছার সম্ভাবনা দিচ্ছি, কোথায় থাকা উচিত্, কাজ করা উচিত্ ইত্যাদি নিয়ে. আমাদের দেশের অনেক বিশেষজ্ঞ দেশের বাইরে কাজ করেন, সেখানে সফল হচ্ছেন, এমনকি নোবেল প্রাইজ পাচ্ছেন".

    মিটিংয়ের সময়ে রাজনৈতিক নির্বাচনের প্রশ্ন উঠিয়েছিল এক ছাত্রী. নির্বাচন – এটা যে কোন দেশেই ঘটনা, আর প্রাক্ নির্বাচনী উত্তেজনা সব জায়গাতেই তুঙ্গে ওঠে – এই কথা উল্লেখ করে ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন:

    "আমি চাই য়ে, আমাদের দেশে নাগরিক সমাজ তৈরী হোক. আপনারা জানেন (তোমরা জানো) আমাকে ইন্টারনেটে কি ভাবে গালি দেওয়া হয়ে তাকে – এটাও ইতিবাচক প্রক্রিয়া. মুখ্য হল – আমরা যেন আমাদের সাংস্কৃতিক মান নষ্ট না করি, যাতে এটা সভ্যতার কাঠামোর মধ্যেই হয়. বিতর্ক যে জোরালো হয়েছে – এটা খুব ভাল কথা. আমি আশা করবো যে, আমাদের দেশের যুব সমাজ শুধু আবেগের বশে নি৪বাচন করবেন না, বরং ভেবে চিন্তে করবেন. আর কার জন্য ভোট দেওয়া দরকার – আপনারা নিজেরাই ঠিক করুন".

    বৃত্তির পরিমান, পড়াশোনার ক্ষেত্রে যাতায়াত, ছাত্রদের খেলাধূলার উন্নতি ও রাজনীতিতে যুব সমাজের স্থান ইত্যাদি নানা রকমের প্রশ্ন উঠেছিল ছাত্রদের কাছ থেকে. তাদের তিন ঘন্টা সময় যথেষ্ট হয় নি রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনায়. ভ্লাদিমির পুতিন যুব সমাজকে নিজেদের অধিকার ও স্বার্থ রক্ষার জন্য নিয়ম করে কাজ করতে আহ্বান করেছেন.