মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রপতি বারাক ওবামা কংগ্রেসের উদ্দেশ্য বাত্সরিক ভাষণ দিয়েছেন- নভেম্বর মাসের নির্বাচনের আগে এটাই তাঁর শেষ কংগ্রেস সদস্যদের উদ্দেশ্য করে বক্তৃতা. পররাষ্ট্র নীতি সম্বন্ধে তাঁর ভাষণে সময় দেওয়া হয়েছিল সংক্ষেপে, কিন্তু ইরানের জায়গা আলাদা করে রাষ্ট্রপতির ভাষণে মিলেছে. ওবামা ঘোষণা করেছেন যে, আমেরিকা খুবই জোর দিয়েছে, যাতে ইরানের পক্ষে পারমানবিক অস্ত্র পাওয়া সম্ভব না হয়. – আর এই সমস্যা সমাধানের জন্য কোনও রকমের পথকেই তুচ্ছ ভাববে না. প্রসঙ্গতঃ, একথা সত্য যে, ওবামা কথা পাল্টে বলেছেন যে, তাঁর জন্য সবচেয়ে বেশী পছন্দসই হবে আলোচনার শান্তি পূর্ণ পথ.

    পর্যবেক্ষকেরা বর্তমানের রাষ্ট্রপতির এই শেষ "পরিকল্পনা মূলক" ভাষণের সঙ্গে তাঁর প্রথম এই পদে আসীন হওয়ার পরের বক্তৃতা তুলনা করে দেখেছেন. এই দুটি ভাষণের মধ্যে সুরের তফাত স্পষ্ট. আগে "আমরা ইরানের দিকে হাত বাড়িয়ে দিচ্ছি", বলার জায়গায় "কোন রকমের পথকেই তুচ্ছ ভাবি না". অর্থাত্ যুদ্ধকেও না.

পারস্য উপসাগরে পশ্চিমের সামরিক জোটের ঘনত্ব বৃদ্ধি ও আঘাত হানার জন্য তৈরী হচ্ছে মার্কা জোরদার কানাকানির পরিপ্রেক্ষিতে ওবামার এই ধরনের কথা হয় হুমকি অথবা সতর্ক বার্তা বলে মনে করাই যেতে পারে. আর হতে পারে – যেন কোন চিরাচরিত মন্ত্র পাঠ, যার কোনও বাস্তব অর্থ নেই. প্রত্যেক দৃষ্টিকোণেরই এই বিষয়ে নিজের পক্ষের লোকেরা রয়েছেন.

পর্যবেক্ষক ইভগেনি এরমলায়েভ মন্তব্য করেছেন:

"নিকট প্রাচ্যে নতুন করে যুদ্ধ, অন্ততঃ আসন্ন সময়ের মধ্যে হবে না. ওয়াশিংটনে, তেল- আভিভে ও তেহরানে বুঝেছে যে, এর মূল্য প্রত্যেক পক্ষের জন্যই বিশাল হবে. বিশ্বের বিভিন্ন দেশে থাকা, তার মধ্যে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে থাকা শিয়া মুসলমানেরা, সন্দেহ নেই যে, ইরানের উপরে আক্রমণ হলে এক জোট হবে. সম্ভবতঃ, শুরু হবে আমেরিকার এই অঞ্চলের জায়গা ও ইজরায়েলের সঙ্গে গেরিলা যুদ্ধ. এই সব থেকে বারাক ওবামার জন্য লাভ- শূণ্য. বিশেষ করে – মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন শুরুর প্রাক্কালের স্নায়ু যুদ্ধের সময়ে. অন্য দিকে ওবামা নিজের দিক থেকে শক্ত বলে দেখাতে একান্ত ভাবে বাধ্য. যদি তিনি এই উপলক্ষে তাঁর রিপাব্লিকান দলের প্রতিদ্বন্দ্বীর কাছে হারতে না চান. তাই আমরা এই ধরনের কড়া ঘোষণা আরও অনেক শুনবো. কিন্তু মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে কড়া কাজ কারবার আমি মনে করি, আমরা দেখতে পাবো না. অন্ততঃ নির্বাচনের আগে পর্যন্ত. আর তারপরে কি হবে- এই সম্বন্ধে পরেই আলোচনা করা যাবে".

 অন্য একটি দৃষ্টিকোণ – রাশিয়ার আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও অর্থনীতি ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ ভিক্তর নাদেইন রায়েভস্কি পোষণ করেন, তিনি বলেছেন:

"নিকট প্রাচ্যে নতুন যুদ্ধ ইতিমধ্যেই চলছে. কিন্তু তা অন্য ফ্রন্টে. যেমন, সন্ত্রাসবাদী ক্রিয়াকলাপে. এটা অল্প কিছু দিন আগে ইরানের পারমানবিক পদার্থবিদ্ হত্যায় প্রমাণিত হয়েছে. এর আগে পর্যন্ত আরও তিনজন বিজ্ঞানীর উপরে হামলা হয়েছে. অর্থনৈতিক যুদ্ধ আরও তীক্ষ্ণ হচ্ছে. একতরফা ইরান বিরোধী নিষেধাজ্ঞা যা হালে নেওয়া হয়েছে, তা দিয়ে ইউরোপীয় সঙ্ঘ বাস্তবে এই পর্বে আমেরিকার সঙ্গে হাত মিলিয়েছে – ওদের এখন তেহরানের প্রতি রাজনীতি একই. বলা হয়ে থাকে যে, এই নিষেধাজ্ঞা কম ফলপ্রসূ হবে, কারণ আমেরিকা ও ইউরোপ এটা সারা বিশ্ব নয়, ইউরোপের লোকেরা ইরানের তেল কিনবে না – তাতে কি হয়েছে? এশিয়ার লোকেরা কিনবে.

এটা বাস্তবেই সে রকম. কিন্তু অন্য একটা দিকও রয়েছে এই প্রশ্নের. পশ্চিম ইরানের সঙ্গে সমস্ত সম্পর্ক দ্রুত ছিন্ন করছে, কিন্তু কেন? এটাই তা, যা নিয়ে চিন্তা করার দরকার রয়েছে. এই ধনের কাজ, ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতা যা দেখিয়েছে, তা প্রায়ই নেওয়া হয়, কোন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ঘোষণার আগে. বলা হয়ে থাকে যে, পশ্চিম সাহস করবে না. হ্যাঁ, কিন্তু কেন? লিবিয়াতে যে সাহস দেখিয়েছে. বরং লিবিয়া গাদ্দাফির সময়ে পশ্চিমকে সেই সমস্ত ঝামেলার একশো ভাগের এক ভাগও পোহাতে দেয় নি, যা ঐস্লামিক প্রজাতন্ত্র তৈরী করে থাকে. তাই সম্মিলিত পূর্বাভাস – একেবারেই ভাল নয়".

আশাবাদী ও নৈরাশ্যবাদী লোকেদের নিজেদের যুক্তি রয়েছে. বোধহয়, অনেক নানারকমের দৃষ্টিকোণ বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের রাষ্ট্রপতিদের পরামর্শ দাতারা বর্তমানে বলছেন. মনে তো হয় না যে, কোন শেষ সিদ্ধান্ত এখনও নেওয়া হয়েছে. বোধহয় তাই অনেকটাই পরিস্থিতির বদলের উপরে নির্ভর করবে. খবরের দিকে খেয়াল রাখুন.