ভারতের উত্তর পূর্বের রাজ্য আসামে এই সোমবারে ৯টি বিচ্ছিন্নতাবাদী দলের প্রায় ৭০০ জঙ্গী অস্ত্র সমর্পণ করেছে. সশস্ত্র সংগ্রাম থেকে নিজেদের প্রত্যাহার করেছে কুকি ও আদিবাসী প্রজাতির লোকেরা. বহুকাল তারা স্বাধীনতার জন্য লড়েছে, অথবা চেয়েছে বেশী স্বতন্ত্রতা. বিষয়ে নিয়ে বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

এই অঞ্চলের বৃহত্তম রাজ্য আসামে বহু সংখ্যক বিচ্ছিন্নতাবাদী দল কাজ করছে. তাদের মধ্যে সবচেয়ে জানা দল গুলিই গত সোমবারে অস্ত্র সমর্পণ করেছে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী পি. চিদাম্বরম ও আসামের মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ এর সামনে. এদের মধ্যে একাংশ সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে যাচ্ছে ও জঙ্গলে লুকিয়ে আছে. ভারত সরকার আশা করেছে যে, তারাও শীঘ্রই অস্ত্র সমর্পণ করবে.

ভরত আজ উন্নতির সোপানে পা দিয়েছে. ভারতীয় অর্থনীতির দ্রুত উন্নতির হার দেশে প্রগতি আনছে ও দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চল গুলিও এর থেকে উপকৃত হচ্ছে. সেখানে আধুনিক শিল্প তৈরী হচ্ছে ও স্থানীয় জনগনের পক্ষে কাজ খুঁজে পাওয়া সহজ হচ্ছে, ভারতের ও বাংলাদেশের অন্যান্য অংশ থেকে এখানে এসে বসবাস করা মানুষের সঙ্গে সংঘর্ষ কমছে. জীবনের মানের উন্নতি হচ্ছে.

ভারতের প্রশাসন বিচ্ছিন্নতাবাদীদের সঙ্গে সশস্ত্র যুদ্ধের উপরে আরও কম গুরুত্ব দিচ্ছে, চেষ্টা করছে তাদের সঙ্গে আলোচনা করতে. কিন্তু উলফা জঙ্গী দলের মতো বিদেশী মদত পুষ্ট দলেরা ও তাদের নেতা পরেশ বড়ুয়া (যিনি আদিবাসী বলে নিজেকে মানতে রাজী নন, বাংলাদেশের বিরোধী পক্ষের ও চরমপন্থী ঐস্লামিক জঙ্গীদের সঙ্গে যার যোগাযোগ প্রমাণিত) কোন রকমের আলোচনা করতে রাজী হচ্ছে না. তারা এখনও অপেক্ষায় রয়েছে চিন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে সাহায্য পেয়ে আগের মতো দেশের একাংশ আগুণ জ্বলা পরিস্থিতিতে রাখার. স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যাওয়া বিষয়ে যে সমস্ত স্থানীয় লোকের আগ্রহ রয়েছে, তারা সবাই এবারে ফিরেছেন. এবার থেকে রাজ্য ও কেন্দ্র যৌথভাবে চেষ্টা করবে এই সব সমস্যা সমাধান করার ও সকলকে সাধারন শান্তিপ্রিয় জীবনে ফিরিয়ে আনার. অন্ততঃ রাজ্যের মুখ্য মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী এই আস্বাসই দিয়েছেন. এই প্রসঙ্গে রাশিয়ার কার্নেগী সেন্টারের বিশেষজ্ঞ পিওতর তোপীচকানভ বলেছেন

"কাশ্মীরে ও আসামে বিচ্ছিন্নতাবাদের সঙ্গে সংগ্রামের মূলেই ভারতের প্রশাসন পরিবর্তন এনেছে, তাই অনেক সাফল্য পাওয়া যাচ্ছে. মাওবাদীরা এখনও খুবই সক্রিয়, তারা দেশের পূর্বাঞ্চলে ষাটের দশকের শেষে উদয় হয়ে, বর্তমানে সারা ভারতেই রয়েছে. তবে আমরা আশাবাদী ও মনে করি যে, এই ধরনের অস্ত্র সমর্পণ আমরা আরও অনেক দেখবো. কারণ যত বেশী করে ভারত চিন ও পাকিস্তান নিজেদের মধ্যে পারস্পরিক নির্ভরতা খুঁজে পাবে, তত কম হবে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলনের ধার".

ভারতের সরকার এবারে নিজেদের বিরোধী পক্ষকে আনুষ্ঠানিক ভাবে কাছে টেনে নিয়েছে. স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী যারা অস্ত্র সমর্পণ করেছে, তাদের হাতে তুলে দিয়েছেন রক্ত গোলাপ. হাতের বন্দুক বদলে গিয়েছে ফুলে. সামনে আরও অনেক বাধা বিপত্তি থাকবে. শান্তি আলোচনা শুরু হতে এখনও অনেক দেরী. আপাততঃ আত্ম সমর্পণ করা যোদ্ধারা তাদের জন্য তৈরী বিশেষ ক্যাম্পে থাকবে. কিন্তু যাই হোক তারা আর খুন রাহাজানি করবে না.

আসামের মুখ্যমন্ত্রীর মতো বলতে ইচ্ছে করছে যে, বাকি জঙ্গীরাও আশা করি বুঝবে যে, এই লড়াই অর্থহীণ. আধুনিক অস্ত্র ও তথ্য যোগাযোগ ব্যবস্থা সম্পন্ন রাষ্ট্রে চেষ্টা করলেই শারীরিক ভাবে যে কোন লোককে খুঁজে পাওয়া ও তার ব্যবস্থা করা সম্ভব, জঙ্গলে লুকিয়ে থেকে যে লড়াই করার নামে বীরত্ব দেখানো হচ্ছে, তার কারণ কিছু দুর্নীতি পরায়ণ লোকের বড়ই দরকার মাত্সান্যায়.