ওয়াশিংটনের ইরান বিরোধী রাজনীতি, যার প্রয়োগে সম্ভব হয়েছে ইরানের বিরুদ্ধে অর্থনৈতিক ও বিনিয়োগ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা গ্রহণ করা, তা এই দেশ ও তার খনিজ তেলের গ্রাহক দেশ গুলিকে এড়িয়ে যাওয়ার পথ খুঁজতে বাধ্য হতে. বিশদ করে লিখেছেন আমাদের সমীক্ষক গিওর্গি ভানেত্সভ.

    ইরান বর্তমানে ২৫ লক্ষ ব্যারেলের বেশী খনিজ তেল রপ্তানী করে. আমেরিকার বিশেষজ্ঞদের মতে খনিজ তেল থেকে ইরানের বার্ষিক আয় হয় প্রায় দশ হাজার কোটি ডলার. ইরানের তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা হল চিন ও ভারত. ইরানের রপ্তানী হওয়া তেলের একের তৃতীয়াংশ এই দুই দেশে যায়. ইরানের অনেক তেল কিনে তাকে, তুরস্ক, দক্ষিণ কোরিয়া, জাপান. ইরানের কালো সেনা ইউরোপীয় সঙ্ঘের দেশ গুলিও কেনে. সবার আগে গ্রীস, ইতালি, স্পেন ও হল্যান্ড. তাদের সম্মিলিত ভাবে কেনা তেলের পরিমান ইরান থেকে পাঠানো তেলের প্রায় শতকরা ১৮ শতাংশ.

    ইরানের তেলের আমদানী কারক দেশ গুলি সকলে এখনই ও সঙ্গে সঙ্গেই এই ধরনের নিষেধাজ্ঞা মানতে রাজী হয় নি, যা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় সঙ্ঘ গ্রহণ করেছে. চিন ও ভারত এই বাধা মানতে রাজী নয়. কিন্তু ইরানের বিরুদ্ধে বিনিয়োগের সঙ্কট খুবই কঠিন করে তুলেছে এই সমস্ত আমদানী কারক দেশ গুলির জন্য তেলের দাম দেওয়াতে.

    মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চাপে পড়ে ইরানের সঙ্গে তেলের দাম দেওয়া নিয়ে ভারত এশিয় ক্লিয়ারিং ইউনিয়ন, তুরস্কের ব্যাঙ্ক ইত্যাদি সব ব্যবহার করে দেখেছে, চিনের একই ধরনের অসুবিধা রয়েছে.

    চিন কিছু দিন আগে ইউয়ান দিয়ে দাম দেওয়ার ব্যবস্থা করেছে, ভারতও ইরানকে দাম ভারতীয় টাকায় দেওয়ার কথা বলেছে. কিন্তু ইরানের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে ইয়েন মুদ্রা ব্যবহারের কথা, কারণ তা বেশী বিনিময় যোগ্য. আপাততঃ সিদ্ধান্ত শেষ অবধি নেওয়া যায় নি. কিন্তু যে কোন ক্ষেত্রেই আমেরিকার ডলার আর ব্যবহার হবে না. রাশিয়ার বিজ্ঞানী ও ইরান বিশেষজ্ঞ ভ্লাদিমির সাঝিন বলেছেন:

    "আমি মনে করি যে এই ধরনের ব্যবস্থা, যা আসলে ডলারের উপরেই আঘাত করবে, কারণ এই আন্তর্জাতিক মুদ্রার ব্যবহার কমবে ও দেশ গুলি হয় অন্য বিনিময় মুদ্রা নয়তো নিজেদের দেশের জাতীয় মুদ্রা ব্যবহার করতে শুরু করবে".

    সুতরাং আমেরিকার বিনিয়োগ সংক্রান্ত নিষেধাজ্ঞা খুবই আশ্চর্য জনক ভাবে আমেরিকার ডলার ব্যবহারের জায়গাই কমাবে ও চিনের মুদ্রার অবস্থান মজবুত করবে.