প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী ও বর্তমানে প্রশাসনের এক প্রধান সমালোচক- আলেক্সেই কুদরিন বিশ্বাস করেন যে, রাশিয়ায় নতুন রাজনৈতিক যুগ শুরু হতে চলেছে. তিনি রুশ টেলিভিশনে প্রথম চ্যানেলে এক সাক্ষাত্কার দিয়েছেন, যেখানে নিজের এই দেশের বিগত পার্লামেন্ট নির্বাচন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রথম পর্বেই ভ্লাদিমির পুতিনের জয় নিয়ে সন্দেহ ও রাশিয়ার সম্ভবতঃ সবচেয়ে বিখ্যাত বন্দী- মিখাইল খদরকোভস্কির মুক্তি নিয়ে মত প্রকাশ করেছেন.

    রাষ্ট্রপতি নির্বাচন এগিয়ে আসছে বলে আর তারই সঙ্গে বিরোধী পক্ষের ৪ঠা ফেব্রুয়ারী নতুন প্রতিবাদ মিছিল আহ্বান নিয়ে রাশিয়াতে রাজনৈতিক বিতর্কের বৃদ্ধি হচ্ছে. আলেক্সেই কুদরিন নতুন করে শক্তিশালী বিবৃতি দিয়েছেন. প্রাক্তন অর্থমন্ত্রী, যিনি প্রকাশ্যে রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের নীতির সমালোচনার কারণে বরখাস্ত হয়েছিলেন, সারা দেশে চলা প্রথম চ্যানেলের টেলিভিশনে প্রশাসনের কাজের সমালোচনা করেছেন. কুদরিন মনে করেন যে, ক্রেমলিন জন বিক্ষোভের সঠিক মূল্যায়ণ করছে না ও তা ভুল করছে, সেখানে সম্পূর্ণ সিদ্ধান্ত না নিয়ে অর্ধেক নেওয়া হচ্ছে. তাঁর কথামতো, রাশিয়ার রাষ্ট্রপতি বিরোধী পক্ষের দাবীর উত্তর প্রকাশ্যে দিতে বাধ্য ও বিগত নির্বাচনে কারচুপির কথা স্বীকার করতে বাধ্য.

    "আমি এখানে মনে করছি মেদভেদেভের কথা, কারণ তিনি রাষ্ট্রপতি ও এই ধরনের সাংবিধানিক প্রক্রিয়ার জামিনদার. তাঁরই উচিত্ হবে বলা যে, তিনি এই ধরনের নির্বাচন ও তার প্রতি লোকের সম্পর্কে সন্তুষ্ট নন. আর এটা বিভিন্ন ভাবেই বলা সম্ভব. কিন্তু আমার মনে হচ্ছে যে, সময়ের আগেই নির্বাচনের নির্দেশ খোলাখুলি উত্তর হতে পারতো. যদি রাষ্ট্রপতি মেদভেদেভ রাজনৈতিক দলগুলিকে নথিভুক্ত করার জন্য নতুন আইনের খসড়া প্রস্তাব করতে পারেন, কিভাবে প্রক্রিয়া হবে, কারা তাতে অংশ নিতে পারবে, কি ধরনের জনপ্রিয়তার মাত্রা থাকবে লোকসভার সদস্য নির্বাচনের জন্য, তবে এই সংশোধনের একটা অংশ সময়ের আগেই নির্বাচনও হতে পারতো. অপেক্ষা কিসের? ঘটনার প্রতি এই ধরনের প্রতিক্রিয়া সমাজকে শান্ত করতে পারতো ও রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রতি বিশ্বাস বৃদ্ধি করতে পারতো".

    এখানে মনে করিয়ে দেওয়া দরকার যে, আলেক্সেই কুদরিন ২০ বছর ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কাজ করছেন. তিনি রাশিয়ার মন্ত্রীসভার এক বহু দিনের পোড় খাওয়া মন্ত্রী. কিন্তু এই অর্থনীতিবিদ তাঁর চাকরি খুইয়েছেন গত বছরের ২৪শে সেপ্টেম্বর নেতৃত্ব জোটের মধ্যে ক্ষমতার হাত বদল সংক্রান্ত ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই. তখন কুদরিন ঘোষণা করেছিলেন যে, তিনি রাশিয়ার বর্তমানের রাষ্ট্রপতি দিমিত্রি মেদভেদেভের নির্দেশিত নীতিকে ভুল মনে করেন ও তাঁর নেতৃত্বে মন্ত্রীসভায় কাজ করাকে নিজের জন্য অসম্ভব মনে করেন. মেদভেদেভ কুদরিনকে পদত্যাগ করতে বাধ্য করেছিলেন. ভ্লাদিমির পুতিন, প্রসঙ্গতঃ, ঘোষণা করেছিলেন যে, কুদরিন তাঁর বন্ধুই আছেন ও একই রকম ভাবেন. কিন্তু কুদরিন নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর নীতিগত অনুগামী মনে করেন না.

    "আমি পুতিনের সঙ্গে মোটেও একই রকম ধারণার বশবর্তী নই. আমি লিবারেল ও আরও বেশী গণতান্ত্রিক দৃষ্টিকোণের মানুষ, মনে করি যে, এই গুলি রাশিয়ায় যথেষ্ট উন্নত নয়. এমনকি মনে করি যে, এর কারণেই উত্তেজনা বৃদ্ধি হয়েছে, আর এমনকি, আমি বলবো, রাজনৈতিক সঙ্কট উপস্থিত হয়েছে, যা আমরা এখন টের পাচ্ছি. স্রেফ আমরা রাজনৈতিক কাঠামো গুলির ভূমিকার মূল্য যথেষ্ট পরিমানে দিই নি, যা দেশের স্থিতিশীলতা ও অর্থনীতিতে সংশোধন করতে পারে".

    প্রসঙ্গতঃ, কুদরিন স্বীকার করেছেন: তিনি তৈরী আছেন পুতিনের সঙ্গে কাজ করার জন্য, পরামর্শ দেওয়ার জন্য. কিন্তু প্রয়োজন রাজনৈতিক সংশোধনের, এই বিষয়েই জোর দিয়েছেন রাজনীতিবিদ. তিনি নিজে সক্রিয় রাজনীতি করতে চাইছেন না, যদিও দক্ষিণ পন্থী গণতান্ত্রিক দল সৃষ্টিতে নিজের অংশ গ্রহণের সম্ভাবনা বাদ দেন নি. কুদরিন বিশ্বাস করেন য়ে, রাশিয়াতে নতুন যুগ শুরু হয়েছে, যা রাজনৈতিক স্বাধীনতার প্রসারের সঙ্গেই জড়িত. আর যদি তাঁর কাছে প্রশ্ন করা হতো যে, মিখাইল খদরকোভস্কির মুক্তি প্রয়োজনীয় কি না, তবে তিনি বলতেন সময় হয়েছে সেই ব্যক্তিকে জেল থেকে ছেড়ে দেওয়ার.