চিন, ভারত ও মালয়েশিয়ার জ্বালানী নিরাপত্তা ও ব্যবসায়িক স্বার্থের উপরে নতুন বিপদ ঘনিয়েছে. দক্ষিণ সুদান খনিজ তেল আহরণ বন্ধ করেছে সুদানের রপ্তানী বন্দরগুলির সাথে ট্রানজিটের প্রশ্নে সমাধান হয় নি বলে.

চিনের জাতীয় খনিজ তেল কর্পোরেশন (চায়না ন্যাশনাল অফশোর অয়েল কর্পোরেশন), মালয়েশিয়ার পেত্রোনাস কোম্পানী ও ভারতের অয়েল অ্যান্ড ন্যাচরাল গ্যাস কর্পোরেশন গত বছরের হেমন্ত কাল থেকেই ক্ষতিগ্রস্ত হতে শুরু করেছিল. সুদান নিজেদের সামুদ্রিক বন্দর গুলিতে খনিজ তেল পাম্প করে পাঠানো বন্ধ করেছিল, যখন থেকে দক্ষিণ সুদান ব্যারেল পিছু ৩২ ডলার করে ট্রানজিট মূল্য দিতে অস্বীকার করেছিল. দেশ ভাগ হওয়া সময়ে খার্তুম শতকরা ৭৫ ভাগ আহরণ যোগ্য তেলের ভাগ হারিয়েছিল, আর দক্ষিণ সুদানের রাজধানী জুবা হারিয়ে ছিল খনিজ তেলের পাইপ লাইন ও পাম্পিং স্টেশন গুলি. অংশতঃ, সুদানে খনিজ তেল পরিশোধন কারখানা থেকে গিয়েছিল, যেখানে চিন এই দেশের প্রশাসনের সঙ্গে সমান ভাবে বিনিয়োগ করছে ও অধিকার রাখে. কাঁচামাল এখানে আসতো দারফুর থেকে, যা সুদানের দক্ষিণে, আর সেখানেও সমস্ত মাটির গভীর থেকে তোলা খনিজ তেলের শতকরা ৪৫ ভাগ চিনের অংশ.

অ্যাঙ্গোলা ও নাইজিরিয়ার পরে সুদান চিনের জন্য আফ্রিকায় বৃহত্ খনিজ তেলের উত্স হিসাবে তৃতীয় দেশ ছিল. চিনের কোম্পানী গুলি- এখানের প্রধান খনিজ তেলের ক্ষেত্র গুলির জন্য স্ট্র্যাটেজিক বিনিয়োগকারী. চিন সুদানে ২ হাজার কোটি ডলার বিনিয়োগ করেছে. লিবিয়াতে প্রায় এতটাই তারা হারিয়েছে সেখানে গৃহযুদ্ধের জন্য. এখন চিনের অর্থে যা দুই সুদানে তৈরী হয়েছে, তা দুই সুদানের আভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সংঘর্ষের মূক স্মৃতিস্তম্ভ হয়ে থাকতে পারে.দক্ষিণ সুদান চিনের জন্য দ্বিতীয় লিবিয়াতে পরিনত হবে কি? এই প্রশ্নের উত্তরে রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর সুদূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ আলেকজান্ডার লারিন বলেছেন:

"আমি সেই রকম বলতে চাই না. লিবিয়াতে সামাজিক ঝড় অনেক দূরে চলে গিয়েছিল. সুদানেও পরিস্থিতি শান্ত নয়, তবে গৃহযুদ্ধের পরিস্থিতি তৈরী হয় নি. চিন খুবই মনোযোগ দিয়ে পরিস্থিতির খেয়াল রাখছে, তা যেমন উত্তর আফ্রিকায়, তেমনই আরব্য পূর্বে. সেখান থেকে তাদের জ্বালানী নিরাপত্তার জন্য খুবই গুরুতর ঝুঁকি উদ্ভব হয়েছে, আর তাই চিন সবই করছে, যাতে খনিজ তেলের আমদানীর বিষয়ে স্থিতিশীলতা বজায় থাকে. এখান থেকেই এই অঞ্চলের দেশ গুলির রাজনৈতিক ব্যাধি ও সামাজিক বিরোধ সম্বন্ধে চিনের প্রবল বিরক্তির কারণ বোধগম্য হয়েছে."

চিন সুদানের শতকরা ৭০ ভাগ খনিজ তেল কিনে নেয়. এতেই প্রাথমিক ভাবে এই দেশের রাজনৈতিক সঙ্কটের সমাধানের জন্য বোঝা যায়, চিনের কূটনৈতিক সক্রিয়তার কারণ. একই সঙ্গে দুই সুদানের ভিতরের সঙ্কট শুধু বেড়েই যাচ্ছে, আর তার অর্থ হল আমদানী কারক দেশ গুলির জন্য জ্বালানী বিষয়ে ঝুঁকিও বাড়ছে. আপাততঃ তারা খুব বেশী সমালোচনা করছেন না, বলে মনে করে রাশিয়ার প্রাচ্য অনুসন্ধান ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ তাতিয়ানা শাউমিয়ান বলেছেন:

"খনিজ তেলের অন্য উত্স রয়েছে. তাছাড়া সুদানের থেকে সরবরাহ চিনের জন্য তত গুরুত্বপূর্ণ আমদানী নয়, ভারত ও মালয়েশিয়ার জন্য তো নয়ই. তাদের সম্ভাবনা রয়েছে আমদানীর পথ বদলের. তারা দেরী করতেও রাজী আছে, যতদিন তেলের জন্য নতুন পাইপ লাইন তৈরী না হয়. সুদানের খনিজ তেলের বদলী পাওয়া যেতেই পারে, যদিও তা ক্ষতিগ্রস্ত না হয়ে করা বোধহয় সম্ভব হবে না."

0জুবা থেকে ঘোষণা করেছে যে, ১০ মাসের মধ্যেই খনিজ তেলের পাইপ লাইনের প্রকল্প উগান্ডা ও কেনিয়াতে বন্দর অবধি তৈরী হয়ে যাবে, আর তারই সঙ্গে খনিজ তেল পরিশোধনের কারখানাও হয়ে যাবে. সরকার বিদেশী কোম্পানীদের বিনিয়োগ আশা করেছে, যাদের দারফুর অঞ্চলে খনিজ তেলের উত্স খনন ও আহরণের উপযুক্ত চুক্তি রয়েছে, তাদের কাছ থেকে. খুব সম্ভবতঃ, সকলের জন্যই বিপদের সময়ে মালয়েশিয়া, ভারত ও চিনের প্রতিদ্বন্দ্বী কোম্পানীরাও সহকর্মীতে পরিনত হতে পারে. হয়তো অল্প সময়ের জন্য হলেও.