রাশিয়ার টিকে থাকার জন্য একটি প্রধান শর্ত হল জাতীয় সংহতি. আর একমাত্র রুশ জাতি নির্ভর রাষ্ট্র গঠনের ধারণাকে মত হিসাবে প্রচার করার চেষ্টা সমস্ত রুশ ইতিহাসেরই পরিপন্থী, ঘোষণা করেছেন ভ্লাদিমির পুতিন, তাঁর প্রবন্ধে "রাশিয়া: জাতিগত প্রশ্ন". প্রবন্ধটি আজ সোমবার "নিজাভিসিমায়া গাজেতা" (স্বাধীন সংবাদপত্র) প্রকাশ করেছে.

    জাতিগত প্রশ্নে উত্তেজনা সৃষ্টি – একটি প্রধান সঙ্কট, যা প্রায় সমস্ত আধুনিক রাষ্ট্রই মুখোমুখি হয়েছে, লিখছেন ভ্লাদিমির পুতিন. রাশিয়ার জন্য এই সমস্যা বিশেষ করে বাস্তব, তার ঐতিহাসিক অভিজ্ঞতার উপরেই ভিত্তি করে ও আরও এই জন্যে যে, অনেক রাজনৈতিক শক্তিই জাতীয়তাবাদের ধারণাকে  নিয়ে ফটকা খেলতে চাইছে. প্রধানমন্ত্রীর মতে, "রাশিয়াকে আজ সেই "প্রণালীগুলি" দিয়েই ধ্বংস করার চেষ্টা হচ্ছে, যা দিয়ে সোভিয়েত দেশকে ধ্বংস করা হয়েছিল". বর্তমানের ক্ষেত্রে বলা হচ্ছে "রুশ প্রজাতির স্বতন্ত্রতা প্রশ্নে অধিকার নিয়ে একেবারে মূল অবধি মিথ্যা আলোচনা" ও "রুশ জনগনের স্কন্ধে বিরাজমান সাম্রাজ্যকে একেবারে সমূলে ধ্বংস করার প্রয়োজন" নিয়ে কথা, এটাই বিশেষ করে উল্লেখ করেছেন প্রশাসনের প্রধান. রাশিয়ার জনগন ও তাঁদের সংস্কৃতি হল সেই "মূল দণ্ড, যা বিরল রুশ সভ্যতাকে জোটবদ্ধ করেছে". এই প্রসঙ্গে বিরাট ভূমিকা রয়েছে যেমন আন্তর্প্রজাতিগত সম্পর্কের মূল কারণের, যা হল শিক্ষা, এই ভাবেই নিজের মতকে একটি সিদ্ধান্তের রূপ দিয়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন. এই প্রসঙ্গে রাজনীতিবিদ মিখাইল রেমিজোভ মন্তব্য করে বলেছেন:

         "রাশিয়ার রাজনৈতিক নেতৃত্ব যে এই বিষয় গুলিতে আলোচনায় ভয় পান নি, এই ঘটনাকেই স্বাগত জানানো উচিত্. এটা সম্পূর্ণ ভাবেই গুণমান সম্পন্ন এক মানবিক দলিল, যেখানে বোধগম্য পরিকল্পনাগত ভাবে নির্দিষ্ট অবস্থান রয়েছে. এই প্রবন্ধের সমস্ত উপপাদ্যকে আমি ব্যক্তিগত ভাবে একমত হয়েছি বলতে না পারলেও এখানে বলা বহু কাজের লক্ষ্য সম্বন্ধে সমর্থন করছি. যেমন, নাগরিক সমাজের ভিত্তি মূলক জিনিস গুলির ভূমিকাকে বাড়ানো – বিদ্যালয়ে রুশ ভাষা, রুশ সাহিত্যের প্রসার. একই সঙ্গে দেশে অভিবাসন সংক্রান্ত আইন পালন না করার জন্য দায়ভারের বিষয়ে কঠোর হওয়া. পুতিনের তরফ থেকে আমি মনে করতে পারছি না যে, তিনি এর আগে কখনও এত পরম্পরা বজায় রেখে তীক্ষ্ণ সব বিষয়ে আলোচনার ক্ষেত্রে বক্তব্য পেশ করার চেষ্টা করেছেন, তার মধ্যে সেই সমস্ত লোকেদের সঙ্গে, যাঁরা তাঁর সঙ্গে একমত নন."

    পুতিনের প্রবন্ধের একটি মুখ্য বিষয় হয়েছে অভিবাসনের রাজনীতি নিয়ে প্রশ্ন এবং তা রাশিয়াতে কি ভাবে বাস্তবায়িত হওয়া উচিত্. প্রধানমন্ত্রীর কথামতো, বহু সংস্কৃতির সমন্বয়, নিয়ন্ত্রণের রাজনীতি হিসাবে পশ্চিমের দেশ গুলিতে শুধু বদ্ধ জাতিগত- ধর্মীয় সম্প্রদায়ের সৃষ্টি করেছে. বিদেশাতঙ্কের বৃদ্ধি হয়েছে অভিবাসনের সঙ্কট থেকেই- এটা সমস্যা, যা আজ সমস্ত দেশের সামনেই উপস্থিত হয়েছে, এই কথা উল্লেখ করেছেন ভ্লাদিমির পুতিন.

    ধারণাগত প্রশ্নগুলি ব্যতিরেকে প্রধানমন্ত্রী লিখেছেন নির্দিষ্ট সিদ্ধান্তগুলি নিয়ে. তাঁর মতে, অভিবাসনের প্রশ্ন বিষয়ে নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব থাকা দরকার বিশেষ কাঠামোর হাতে, যারা জাতীয় উন্নয়নের প্রশ্নে উত্তর দিতে বাধ্য থাকবেন.

    পুতিনের জনগনের দরবারে লেখার অভিজ্ঞতাকে বিশেষজ্ঞরা একসঙ্গে ইতিবাচক মূল্যায়নই করেছেন, এই ধরনের লেখা থেকে পুতিন সম্বন্ধে ও রাষ্ট্রীয় নেতা হিসাবে তাঁর রাজনীতি সম্বন্ধে নতুন করে দৃষ্টিপাত করা সম্ভব হয়েছে. তাই রাজনৈতিক তথ্য কেন্দ্রের ডিরেক্টর আলেক্সেই মুখিন বলেছেন:

"পুতিন নির্বাচনী প্রচারের দ্রুত গতিকে সমর্থন করেছেন. তাঁর সামাজিক পরিকল্পনা নিয়ে প্রবন্ধ প্রকাশের অব্যবহিত পরেই বের হয়েছে জাতিগত প্রশ্ন নিয়ে প্রবন্ধ. এই প্রশ্নকে এড়িয়ে যেতে একজনও রাষ্ট্রপতি পদ প্রার্থী পারেন নি. বাস্তবে পুতিন তাঁর প্রবন্ধের মধ্য দিয়েই তাত্ত্বিক ও কার্যকরী পথ নির্দেশের মাধ্যমে অন্য সমস্ত প্রার্থীদের পায়ের তলার মাটি বলতে পারা যায় কেড়ে নিয়েছেন, যারা চেষ্টা করছিলেন এই প্রশ্নকে সামনে রেখে রাজনৈতিক ফায়দা লোটার ও বর্তমানের প্রশাসনের সমালোচনা করার. আমার মনে হয়েছে যে, পুতিনের এই প্রচারের সক্রিয়তা, একজন রাজনীতিবিদ হিসাবে তাঁর ব্যক্তিগত ইচ্ছা বাস্তবায়িত করারই ধরন বলা যেতে পারে."

এই প্রবন্ধটি পুতিনের পক্ষ থেকে জনগনকে উদ্দেশ্য করে এক সার প্রবন্ধের মধ্যে দ্বিতীয়, যা তাঁর প্রাক্ নির্বাচনী প্রচারের অংশ. এর আগের প্রবন্ধ বের হয়েছিল ইজভেস্তিয়া সংবাদপত্রে, পরবর্তী প্রসঙ্গ আশা করা হয়েছে যে, অর্থনৈতিক বিষয়ে হবে.