বিগত সপ্তাহান্তে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সংক্রান্ত বিশেষ প্রতিনিধি মার্ক গ্রসম্যান দিল্লী ও কাবুলে সফরে গিয়েছিলেন, তারপরে তিনি কাতার রাষ্ট্রের রাজধানী দোহাতে গিয়েছেন, যেখানে আফগানিস্তানের তালিব জঙ্গীরা তাদের রাজনৈতিক প্রতিনিধির দপ্তর খুলতে চেয়েছে. আমেরিকার কূটনীতিবিদের মনোযোগের কেন্দ্রে আফগানিস্তানের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত প্রশ্ন গুলিই ছিল. সমস্ত পর্যালোচকই যে মুখ্য বিষয়ে একমত হয়েছেন, তা হল – নিজের সফরে গ্রসম্যান কিন্তু ইসলামাবাদ যান নি.

    এই ইতিহাস যথেষ্ট অন্ধকার. জানানো হয়েছে, গ্রসম্যান পাকিস্তান যান নি, কারণ এই দেশের কর্তৃপক্ষ তাঁর বর্তমান সফরের বিষয়ে ইচ্ছা প্রকাশ করেন নি. একই সময়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ভিক্টোরিয়া ন্যুল্যান্ড এমন ভাবে এই ব্যাপারটা পেশ করতে চেয়েছেন, যেন গ্রসম্যানের যাতায়াতের সম্বন্ধে পরিকল্পনা ওয়াশিংটনে করা হয়েছে ও আমেরিকা – পাকিস্তান সম্পর্কের অবনতি তার কারণ নয়. এই বিষয়ে রাশিয়ার স্ট্র্যাটেজিক গবেষণা ইনস্টিটিউটের বিশেষজ্ঞ বরিস ভলখোনস্কি মন্তব্য করে বলেছেন:

    "সোভিয়েত সেনা বাহিনী আফগানিস্তান ছেড়ে বের হওয়ার পরে শুরু হয়েছিল পাক মদত পুষ্ট তালিব ও সোভিয়েত মদত পুষ্ট প্রশাসনের মধ্যে লড়াই, তালিবেরা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সৃষ্টি হলেও পরে তাদের বিরুদ্ধেই লড়াই করতে বাধ্য করেছে. আফগানিস্তানের বর্তমানের রাষ্ট্রপতি ও তাঁর প্রশাসনের আমলারা আমেরিকা ও বাকী জোটের দেশ গুলির অর্থ সাহায্য ব্যক্তিগত ভাবে পাওয়ার পথ বন্ধ না করার উদ্দেশ্য নিয়ে এই যুদ্ধকে জিইয়ে রেখেছে, আরও একদল লোকের পক্ষে এই অঞ্চলে আইন শৃঙ্খলার অভাব খুবই প্রয়োজনীয়, যারা বিশ্ব ময় মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত. ফলে এখানে কে সত্যিকারের শত্রুপক্ষ তা বুঝলেও আমেরিকার পক্ষে প্রকাশ করা সম্ভব হচ্ছে না. একদিকে সমস্ত সোভিয়েত পরবর্তী এলাকার উপরে মাদক ব্যবসার মধ্য দিয়ে প্রভাব বিস্তারের আপাতঃ সুবিধা ও অন্যদিকে দীর্ঘকাল ধরে স্থানীয় জনগনের কন্ঠরোধ করে রাখার অপ প্রয়াসের মূল্য দিতে হচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে ডালা বন্ধ কফিন পাঠিয়ে. বারাক ওবামা রাষ্ট্রপতি হবেন কি না আরও একবার বা তাঁর জায়গায় কোন রিপাব্লিকান দলের নেতা অন্য কোন রাজনীতি গ্রহণ করবেন কি না, তা আজ বলা সম্ভব নয়, তবে একটা বিষয় স্পষ্ট এই দীর্ঘসূত্রী খেলায় পাকিস্তানকে বাদ দিয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের চলবে না. একমাত্র পাকিস্তানের মাধ্যমেই ইরান আফগানিস্তান ও চিনের বিরুদ্ধে আঞ্চলিক রাজনীতিকে শত্রুতার বিষে বিষাক্ত করে রাখা সম্ভব".

    এই প্রসঙ্গে মার্ক গ্রসম্যানের মন্তব্য উল্লেখ যোগ্য, তিনি বলেছেন:

"কোন রকমের সম্পূর্ণ মূল্যের শান্তি প্রক্রিয়া হতেই পারে না, যদি না পাকিস্তান তার অংশীদার হয়. আমি খুব খুশী হবো, তাদের সঙ্গে (পাকিস্তানের নেতৃত্বের সঙ্গে) যখন যেখানে বলা হবে, সেখানেই দেখা করতে যেতে পারলে."