কিছু সংবাদ মাধ্যমের কাছ থেকে পাওয়া খবর অনুযায়ী বিগত কয়েক বছর ধরে নিকট প্রাচ্যে যুদ্ধের কাজে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র বিশেষ করে প্রশিক্ষিত ডলফিন ব্যবহার করছে. আমেরিকার লোকেরা বলছে যে, এই জীব গুলি আমেরিকার সেনা বাহিনীর সাধারন সৈনিকের তুলনায় ইরাকের সমুদ্র তীরের কাছে বেশ কয়েক শো ইরাকের সৈন্য বেশীই হত্যা করেছে. আর এখন হরমুজ প্রণালীতে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়াতে নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নের কাজে সামরিক বাহিনী আবারও একদল প্রশিক্ষিত ডলফিন ব্যবহার করতে পারে. এই বিষয়ে জানিয়েছেন মার্কিন অবসর প্রাপ্ত অ্যাডমিরাল টিম কিটিঙ্গ.

    যাদের এই ধরনের জীবের সঙ্গে পরিচয় আছে, তারা "খুনে" ডলফিনের খবর অবিশ্বাস করতেই পারেন. ডলফিন থেকে খুনে তৈরী করা কি সম্ভব, আর তারাই বা কতটা এই ধরনের কুশিক্ষার প্রশিক্ষণ নিতে পারে? এই প্রশ্নের উত্তর "রেডিও রাশিয়ার" সাংবাদিক আনাস্তাসিয়া পেত্রোভা মস্কোর ডলফিনারি গিয়ে যে সমস্ত বিশেষজ্ঞ আগে সামরিক কাজে সামুদ্রিক জীব ব্যবহারের সম্ভাবনা নিয়ে গবেষণা করেছেন ও ডলফিনদের সামরিক কাজের প্রশিক্ষণ দিয়েছেন, তাদের কাছে জানতে চেয়েছিলেন.

    "সত্যই ডলফিন সামরিক কাজেও লাগানো যেতে পারে",- বলে উল্লেখ করে মস্কোর ডলফিনারি মুখপাত্র নাতালিয়া ভলদিমের বলেছেন:

    "এরা খুবই বুদ্ধিমান, চালাক, দ্রুত গামী ও মানুষের চেয়ে দশ গুণ ভাল দেখতে পায় জলের নীচে. তাদের বোমা, মাইন ও আগে দেখানো জিনিষ খুঁজতে পাঠানো যেতে পারে ও তারা আবার এই সম্বন্ধে ফিরে এসে প্রশিক্ষককে "বলতেও" পারে. তারা জলের উপরে কিছু জিনিষ তুলে আনতে পারে অথবা নির্দিষ্ট জায়গায় নিয়ে যেতে পারে. ডলফিন প্রকৃতি সহজাত ভাবেই খেলতে খুবই ভালবাসে, তাই এই ধরনের কাজ খুব সহজেই করতে পারে. কিন্তু ইচ্ছে করে ডলফিন মানুষ মারে, এটা খুবই জটিল মনে করা. ডলফিনদের সম্বন্ধে গল্প যে তারা জলের নীচে সেনাদের মুখোশ ছিঁড়ে দিতে পারে, খুবই কষ্ট কল্পনা. শুধু মুখ আর লেজ দিয়ে জলের নীচে ভাল করে প্রশিক্ষণ পাওয়া ও সশস্ত্র সৈনিকের অক্সিজেন মাস্ক ছিঁড়তে চেষ্টা করা খুবই কষ্টকর বিষয়. দ্বিতীয়তঃ, এখানে এই জীবের জীবন সংশয় বেশী. প্রত্যেক ডলফিনের প্রশিক্ষণের জন্য অনেক অর্থ, অন্যান্য রসদ ও সময় খরচ করতে হয়. অনেক বছর লাগে মানুষের সঙ্গে ডলফিনের সম্পর্ক মজবুত হতে, তাই এই ধরনের জীবকে খুবই যত্ন করা হয়. এই কারণেই খুনে ডলফিন, একটা অত্যন্ত ব্যতিক্রমী বিষয়. জটিল প্রযুক্তিগত যন্ত্রপাতি, যেমন ক্যামেরা, সেন্সর ইত্যাদি ডলফিনের পাখনায় লাগানো হয়, কিন্তু এখানেও মনে রাখা দরকার ডলফিনের খেলার ঝোঁক, যে কোন জিনিষই অনায়াসে ডলফিন ছুঁড়ে দিয়ে খেলা করতে পারে, সে ক্ষেত্রে অপারেটর খালি সমুদ্রের জলের ফেনা ও ডলফিনকেই দেখতে পাবে, যে নতুন খেলনা দিয়ে খেলছে".

    হরমুজ প্রণালীতে ডলফিনের সামরিক বাহিনী সংক্রান্ত খবর আমাদের মতে এই জীবগুলি বাহরিনের ডলফিনারিতে থাকা ডলফিন, সেগুলিকে ইরাকের যুদ্ধের পরে সেখানেই নিয়ে যাওয়া হয়েছিল. রুশ বিশেষজ্ঞরা বৈজ্ঞানিক কারণে এখানে গিয়েছিলেন ও বলেছেন যে, এই জীব গুলি খুবই ভাল শারীরিক অবস্থায় আছে, বলে জানিয়েছেন নাতালিয়া ভলদিমের.

    সুতরাং, ডলফিনের খুনে বলে ক্ষমতা ও শক্তি খুবই বেশী করে বাড়িয়ে বলা হয়েছে. এই বিষয়ে আমরা জানতে পেরেছি শুধু মার্কিন সামরিক বাহিনীর লোকেদের করা গল্পে ও কয়েকটি পাখনায় ক্যামেরা লাগানো ডলফিনের ছবি দেখে. কিন্তু এই ফোটো দেখে সন্দেহ হয়. তা স্বত্ত্বেও এটা সংবাদ মাধ্যমে ছাড়া হয়েছে খবর হিসাবে. তা কেন করা হল? আমেরিকার অ্যাডমিরালের কথামতো ডলফিন – বাধা দানের ব্যবস্থা. সম্ভবতঃ, এই ব্যবস্থা প্রণালী থেকে মাইন সরানোর জন্য নয়, বরং সেখানে মাইন পাতার সম্ভাবনা যাচাই করে দেখার জন্যই.