রাশিয়ার পারমানবিক ডুবো জাহাজ "নেরপা (কে- ১৫২)" ২৩শে জানুয়ারী ভারতীয় নৌবাহিনীর অঙ্গ হয়েছে. ভারত ও রাশিয়ার নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে বলা হয়েছে যে, এর জন্য সমস্ত প্রয়োজনীয় দলিল পত্র ইতিমধ্যেই স্বাক্ষরিত হয়েছে ও ভ্লাদিভস্তকের কাছে এই ডুবোজাহাজ ভারতীয় নৌ বাহিনীকে অর্পণ করা হয়েছে. ভারতের জন্য এই ধরনের ডুবোজাহাজ কোনার চুক্তি খুবই অর্থবহ, কারণ তার প্রধান আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বী দেশের এই রকমের পারমানবিক ডুবোজাহাজ আপাততঃ নেই.

এই চুক্তি অনুযায়ী ভারতীয় নৌবহর জাহাজটিকে পাচ্ছে দশ বছরের জন্য ভাড়ায় ও তার অর্থ মূল্য ৯০ কোটি ডলারেরও বেশী. জাহাজের নতুন নাম দেওয়া হয়েছে "চক্র".

    "নেরপা" – আমাদের দেশের ডুবোজাহাজের তৃতীয় প্রজন্মের জাহাজ, এই বিষয়ে উল্লেখ করে "জাতীয় প্রতিরক্ষা" জার্নালের প্রধান সম্পাদক ইগর করোতচেঙ্কো বলেছেন:

    "এই ডুবোজাহাজ এক বহুমুখী সামুদ্রিক অস্ত্র, যা সফল ভাবে অনেক কাজ করতে সাহায্য করে. প্রাথমিক ভাবে বিস্তৃত সামুদ্রিক এলাকার পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারে. এর অস্ত্র দিয়ে যেমন জলের নীচের লক্ষ্য, তেমনই জলে ভাসা জাহাজ ও আকাশে ওড়া বিমান ধ্বংস করা সম্ভব. তাছাড়া এই জাহাজ চালানোর মাধ্যমে ভারতীয় পক্ষ পারমানবিক ডুবোজাহাজের আধুনিক রূপান্তর সম্বন্ধে অনেক অভিজ্ঞতা অর্জন করতে পারবে".

    ভারতীয় বিশেষজ্ঞরা – ডুবোজাহাজের নাবিকেরা আমাদের দেশে প্রশিক্ষণ শেষ করেছেন, তাই এই ডুবোজাহাজ, যার নতুন নামকরণ করা হয়েছে "চক্র", তাতে শুধু ভারতীয় নাবিকেরাই থাকবেন. রাশিয়ার বন্দর, যেখানে "নেরপা" তৈরী ও পরীক্ষা করে হয়েছে, সেখান থেকে ভারতীয় বিশাখাপত্তনম শহরের কাছের সামরিক নৌবাহিনীর বন্দরে পৌঁছতে সময় নেবে কুড়ি দিনের মতো. এই ডুবোজাহাজ ভারতে আগেই যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু জাহাজের যুদ্ধাস্ত্র ব্যবস্থা আধুনিক করার জন্য সময় পেছিয়ে দেওয়া হয়েছিল. আপাততঃ এই "চক্র" ভারতের নৌবাহিনীর একমাত্র পারমানবিক শক্তি চালিত ডুবোজাহাজ হতে চলেছে. এই প্রসঙ্গে ইগর করোতচেঙ্কো বলেছেন:

    "ভারতকে লিজ বা ভাড়ায় এই ডুবোজাহাজ দেওয়া – মস্কো ও দিল্লীর মধ্যে সম্পর্ক মজবুত থাকার প্রমাণ. ভারত রাশিয়া সামরিক প্রযুক্তি বিষয়ে এক বহু দিনের এবং অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী দেশ. আসন্ন সময়ে ভারতের জন্য আরও একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রকল্প সমাপ্ত হতে চলেছে, ভারতের নৌবাহিনীতে রাশিয়ায় আধুনিকীকরণের পরে "বিক্রমাদিত্য" নামের বিমানবাহী জাহাজ যোগ হতে চলেছে".

    রুশ স্বাধীন সামরিক পর্যালোচনা জার্নালের দায়িত্বে থাকা সম্পাদক ভিক্তর লিতোভকিন বলেছেন:

"ভারত ও রাশিয়ার সামরিক প্রযুক্তি সংক্রান্ত সহযোগিতার অর্থ মূল্য এক হাজার কোটি ডলারের বেশী ও এই চুক্তি অনুযায়ী দুই দেশই আঞ্চলিক ভাবে সামরিক সহযোগিতাকে নতুন স্তরে উন্নীত করতে সক্ষম হয়েছে".

মস্কোর কার্নেগী সেন্টারের বিশেষজ্ঞ পিওতর তোপীচকানভ মনে করিয়ে দিয়ে বলেছেন:

"ভারত বর্তমানে সামরিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে নানা উত্স থেকেই প্রযুক্তি জোগাড়ের চেষ্টা করছে, তাই একই সঙ্গে ফ্রান্স, ইতালি ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কয়েকটি ক্ষেত্রে ভারতের সঙ্গে সহযোগিতাকে মজবুত করতে চাইছে. এটাকে সম্পূর্ণ অর্থে প্রতিযোগিতা বলা সম্ভব নয়, কারণ আমরা অনেক ক্ষেত্রেই একে অপরের পরিপূরক. স্থানীয় মান অনুযায়ী কোন বিমান বা জাহাজকে নির্ধারণের জন্য অনেক সময়েই বিভিন্ন দেশের মান ব্যবহার করতে হয়েছে, এটা একেবারেই স্বাভাবিক প্রক্রিয়া".

ভারতীয় নাবিকেরা এই ডুবোজাহাজে কাজ করার জন্য প্রায় দুই বছর এদেশে প্রশিক্ষণ নিয়েছেন. প্রসঙ্গতঃ চিন একটি ডুবোজাহাজ পারমানবিক রিয়্যাক্টর সমেত তৈরী করেছে, কিন্তু তা এখনও পরীক্ষার পর্যায়েই রয়েছে.

আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞরা ভারত ও রাশিয়ার সামরিক প্রযুক্তি ক্ষেত্রে যোগাযোগকে খুবই উঁচু ভাবে মূল্যায়ণ করেছেন, বর্তমানে ভারতকে দেওয়া সামরিক প্রযুক্তির মূল্য ১ হাজার দুশো কোটি ডলার ছাড়িয়েছে. সেই সামরিক প্রযুক্তির মধ্যে যুদ্ধ বিমান "এস ইউ - ৩০ এম কা ই", ট্যাঙ্ক – "টি – ৯০" ইত্যাদি রয়েছে. রুশ ভারত যৌথ প্রকল্পে তৈরী হচ্ছে "ব্রামোস" ক্ষেপণাস্ত্র. ভারত ও রাশিয়া দুই দেশই এই সহযোগিতা দেশের প্রতিরক্ষার উদ্দেশ্য নিয়ে করে থাকে ও তা আন্তর্জাতিক রকেট প্রযুক্তি চুক্তি মেনেই করে হয়ে থাকে, তাই ভারতকে দেওয়া ডুবোজাহাজে দূরপাল্লার রকেট বসানো সম্ভব নয়.