সরকারি ভাবে পরীক্ষার শেষ পর্যায়ে বাল্টিক সমুদ্রে বের হওয়ার জন্য ভারতের নৌবাহিনীর প্রয়োজনে রাশিয়ার নির্মিত “তেগ” যুদ্ধ জাহাজ তৈরী হয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে কালিনিনগ্রাদের বন্দরে.

       স্ট্র্যাটেজিক মূল্যায়ণ ইনস্টিটিউটের ডিরেক্টর সের্গেই অজনোবিশ্যেভ ব্যাখ্যা করেছেন যে, “তেগ” তিনটি একই ধরনের জাহাজের প্রথমটি, যা ভারতীয় নৌবহরের বায়না পেয়ে বাল্টিক সমুদ্র উপকূলের “ইয়ানতার” জাহাজ নির্মাণ কারখানায় বানানো হয়েছে. কয়েক বছর আগে এখান থেকেই মিত্র দেশের জন্য তৈরী করা হয়েছিল “ত্রিশূল” ও “তলোয়ার” যুদ্ধ জাহাজ. এই সব কটিই বর্তমানে ভারতীয় নৌবাহিনীতে কাজের জন্য সুনাম অর্জন করতে পেরেছে.

       “রাশিয়া ও ভারতের সামরিক নৌবহরের বিষয়ে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা দুই দেশের সামরিক প্রযুক্তি সহযোগিতার এক গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গ. রাশিয়া ভারতের পক্ষ থেকে আধুনিক সামরিক নৌবহর নির্মাণের আগ্রহকে বিচার করে ও দেশের প্রতিরক্ষাকে সুদৃঢ় করার বিষয়কে সমর্থন করে, যাতে সমুদ্রে ভারতীয় উপস্থিতি সম মর্যাদায় হতে পারে, অংশতঃ ভারত মহাসাগরে. এখানে অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই যে, আমাদের দেশ অনেক সময়েই ভারতকে স্ট্র্যাটেজিক ভাবে মিত্র দেশ হিসাবে সর্বাধুনিক প্রযুক্তি দিয়ে থাকে, যে ধরনের প্রযুক্তি এমনকি আমাদের দেশের সামরিক বাহিনীতেও এখনও যুক্ত হয় নি”, এই কথা বলেছেন সের্গেই অজনোবিশ্যেভ.

       তেগ যুদ্ধজাহাজ সম্পর্কে যা বলা যেতে পারে, তা হল এটা সম্পূর্ণ রকমের আধুনিক করা জাহাজ, যা রাশিয়ার নৌবহরে সমাদৃত হয়েছে- এই কথা উল্লেখ করে ভূ রাজনৈতিক সমস্যা একাডেমীর বিশ্লেষক ও প্রথম উপ সভাপতি কনস্তান্তিন সিভকভ বলেছেন:

       “তার উপরে এত গভীর ধরনের এখানে আধুনিকীকরণ করা হয়েছে যে, এই জাহাজের প্রাথমিক প্রকল্প থেকে এখানে শুধু জাহাজের খোল ও গ্যাস টারবাইন ইঞ্জিন রয়েছে. এই জাহাজ খুবই শক্তিশালী রেডিও ইলেকট্রনিক অস্ত্র ব্যবস্থা যুক্ত. তার হাইড্রো অ্যাকাউস্টিক যন্ত্র খুবই কম আওয়াজ করে এমন ডুবোজাহাজকেও সনাক্ত করতে পারে. আকাশ প্রতিরোধ ব্যবস্থা মাঝারি পাল্লার রকেট যুক্ত. জাহাজে জোড়া “কোর্তিক” ধরনের বিমান বিরোধী ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ডানাওয়ালা রকেট খুবই কম ও একেবারে নীচু দিয়ে ওড়ার অবস্থায় ধ্বংস করতে সক্ষম. এই যুদ্ধ জাহাজের হেলিকপ্টার গুলি ডুবোজাহাজে আঘাত হানতে পারে ও খুবই গভীরে তা সনাক্ত করতে পারে. “তেগ” “ব্রামোস” রকেট দিয়ে সজ্জিত করা হয়েছে, যা রুশ- ভারত যৌথ প্রকল্পে তৈরী করা হচ্ছে”.

       এই ধরনের রকেট এই যুদ্ধজাহাজের উপর থেকে ছোঁড়ার পরীক্ষা সফল হয়েছে ২০১১ সালে সেপ্টেম্বর মাসে বাল্টিক সমুদ্রে এই জাহাজের প্রথম অভিযানের সময়েই. বর্তমানে রাশিয়ার সামুদ্রিক বিশেষজ্ঞরা এই জাহাজের উপরে ভারতীয় নাবিকদের প্রশিক্ষণ ও নির্দেশ দেওয়ার কাজ শেষ করছেন. এই বছরের এপ্রিল মাসে “তেগ” জাহাজ ক্রেতাকে দেওয়া হবে.

0       কালিনিনগ্রাদের জাহাজ নির্মাণ ডক থেকে এর মধ্যেই ভারতের জন্য তৈরী আরও দুটি যুদ্ধজাহাজ “তরকাশ” ও “ত্রিখণ্ড” জলে নামানো হয়েছে. উত্পাদক কোম্পানী তিনটি জাহাজের জন্য এই চুক্তির সর্বমোট মূল্য উল্লেখ করেছেন ১৬০ কোটি ডলার. বিশেষজ্ঞদের মূল্যায়ণ অনুযায়ী ভারতের পক্ষ থেকে বায়না করা এই ধরনের যুদ্ধজাহাজ তার গুণ মান অনুযায়ী পশ্চিমে তৈরী জাহাজের চেয়ে অনেক বেশী উন্নত