রাশিয়ায় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আর মাত্র দেড় মাস বাকি আছে।প্রতিদিনই দেশের রাজনৈতিক অঙ্গন আরও বেশি সক্রিয় হয়ে উঠছে।নির্বাচনে অংশ নেয়া প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী ওয়াদা সামাজিক আদালতের কাছে পাঠাচ্ছেন,টেলিভিশনের বিতর্ক প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছেন এবং সংবাদপত্রে প্রকাশিত খবরের যুক্তি খন্ডন করছেন।তবে জনগনের জনপ্রিয়তা অর্জনের জন্য বিরোধী দলগুলো নতুন নতুন প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

চলতি সপ্তাহে দুমার আসন না পাওয়া আপেল দলের জন্য এক ধরনের বাঁধাই তৈরি হয়েছিল।শুরুতে এই দলটির পক্ষ থেকে দেওয়া ঘোষণায় বলা হয় তাঁরা রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের যাবতীয় কার্যক্রম নিয়ন্ত্রনের জন্য  একটি তহবিল গঠন করবে।এই তহবিল হবে একটি সামাজিক কার্যক্রমের ধারায় এবং জনগনের অনুদান দ্বারা এটি পরিচালিত হবে।

কিন্তু দেশের সচেতন নাগরিকরা কোন একটি রাজনৈতিক দলের অধীন হয়ে সামাজিক কার্যক্রমের সাথে যুক্ত হতে চাইবেন না।অন্য দিকে এর পরিবর্তে তাঁরা ভোটার লীগ সংশোধনী করার বিষয়ে ঐক্যমতে পৌঁছায়।প্রচলিত আইন মেনে নিয়ে ভোট প্রকিয়াকে সুষ্ঠভাবে আয়োজন কারই এর প্রধান লক্ষ্য।এমনটি বলছিলেন চলচিত্র প্রযোজক ও  ভোটার লীগ প্রতিষ্ঠাতাদের একজন গিওর্গি ভাসিলেভ।তিনি বলেন,’আসন্ন নির্বাচনে অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ একটি দিক হচ্ছে ভোটদান সুষ্ঠাভাবে হচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করা।পর্যবেক্ষক,নির্বাচন কমিশনের সদস্য,আইনজীবিসহ যে কেউ নিজ থেকেই সুষ্ঠ নির্বাচন পরিচালনায় সাহায্য করতে এগিয়ে আসবে,তাদেরকে বিনীতভাবে আমরা অনুরোধ করব’।

প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমীর পুতিন নির্বাচনী দৌড়ে সবার শীর্ষে রয়েছেন।তাঁর জন্য এটি ৩য় প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারনা।তবে পূর্বের নির্বাচনের মত এবারের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন পুতিনের জন্য খুব একটা সহজ বলে মনে হচ্ছে না।এমনটি বলছিলেন জাতীয় কৌশল ইনস্টিটিউটের সভাপতি মিখাইল রেমিজব।তিনি বলেন,’১৯৯৯ এবং ২০০৪ সালের নির্বাচনে যিনি ছিলেন প্রচারনায় সবচেয়ে জনপ্রিয় তিনিই পরবর্তিতে বিজয়ী হয়েছেন।কিন্তু কেন?।কারণ হচ্ছে,তখন গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত নেয়ার প্রয়োজন ছিল।এর মধ্যে অন্যতম ছিল,১৯৯৯ সালে চেচনিয়ায় সামরিক অভিযান শুরু করা।তবে ২০১১ সালে পুতিন এমন কোন কাজ করেন নি যা তাকে বিতর্কিত করেছে।তাই আসন্ন নির্বাচনে পুতিনের বিজয়ী হওয়ার সম্ভাবনা যথেষ্ট উজ্জ্বল।কিন্তু সেই বিজয় অর্জনে কিছুটা হলেও বেগ পেতে হবে’।

রাশিয়ার সামাজিক গবেষণা সংস্থা ভিছেইঅএম-এর দেয়া সর্বশেষ রেটিংয়ে পুতিনের জনপ্রিয়তা ৪৮ ভাগ থেকে বৃদ্ধি পেয়ে ৫২ শতাংশে পৌঁছেছে।

এই জনপ্রিয়তা অর্জনে বিশেষ ভূমিকা রেখেছে সম্প্রতি রুশি পত্রিকা ইজভেস্তিয়া প্রকাশিত পুতিনের একটি নিজস্ব প্রবন্ধ ।পুতিন তাঁর নির্বাচনী ওয়াদা সম্পর্কে বিশদ বর্ননা করেন।পুতিন মনে করেন,রাশিয়া এখন একটি শক্ত ভিত্তিতে পৌঁছেছে এবং এখান থেকেই দেশের  স্থিতিশীল উন্নয়নের কাজকে এগিয়ে নিতে হবে।এক্ষেত্রে রুশ প্রধানমন্ত্রী রাশিয়ায় সৃষ্টি হওয়া মধ্যম শ্রেনীর জনসাধারণের কথা উল্লেখ করেন।পুতিনের জনপ্রিয়তা নির্বাচনকে প্রথম রাউন্ডেই পরিসমাপ্তি ঘটাবে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক সংকট কেন্দ্রের সহকারি পরিচালক আলেকসান্দার সাতিলোভ।তিনি বলেন,’পুতিনের জন্য প্রথম রাউন্ডেই জয়ী হওয়া খুবই স্বাভাবিক।কারণ হিসেবে বলা যেতে পারে, যদি নির্বাচন ২য় রাউন্ডে গড়ায় তাহলে বিভিন্ন পর্যায়ের দলের সাথে ঐক্যমতে যেতে হবে এবং তা পুতিনের রাজনৈতিক মতাদর্শের সাথে অনেকটাই মিলবে না’ ।

নির্বাচনে পুতিন প্রথম বা ২য় যে রাউন্ডেই জয়ী হোক না কেন সব কিছুই নির্ভর করছে জনগনের ওপর এবং নির্বাচনের ফলাফলে কারচুপি হবেই।ভোটকেন্দ্রে কোন প্রকার ভিডিও ক্যামেরা,ইন্টারনেট প্রচার বা একসারি পর্যবেক্ষক এসব কিছুই নির্বাচনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে পারবে না।এমনটি বলছিলেন আন্তর্জাতিক রাজনৈতিক ইনস্টিটিউটের পরিচালক ইভগেনী মিনচেনকা।তিনি বলেন,‘মস্কো বা সেন্ট-পিটার্সবুর্গ শহরের মত বড় বড় শহরগুলোতে ভোটকেন্দ্রে স্বচ্ছতা বজায় রাখতে তা কতটুকো সাহায্য করবে সে বিষয়ে সন্দেহ রয়েছে।এখানে চারিপাশের পরিবেশ অনেক প্রভাবিত করে।লোকজন তাঁর আশেপাশে কি ঘটছে তা সম্পর্কে সচেতন থাকে’।

এ সব সত্বেও বিরোধী দলগুলো ধারাবাহিকক্রম বিভিন্ন মিছিল-সমাবেশ করছেন।গতবছর ডিসেম্বর মাসে ‘সুষ্ঠ নির্বাচনের পক্ষে’শীর্ষক আন্দোলনেরই চলমান কার্যক্রমের অংশ হিসেবে এ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে।এদিকে আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি রাশিয়ার বিভিন্ন শহরে বিরোধী দলের সমাবেশ অনুষ্ঠিত হবে।আশাকরা হচ্ছে,শুধুমাত্র মস্কোতেই অন্তত ৫০ হাজার সমর্থক উপস্থিত থাকবে।