মৃত উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম চেন ইরের বড় ছেলে কিম চেন নাম উত্তরাধিকার সূত্রে দেশে ক্ষমতা হস্তান্তরকে বলেছেন “সারা বিশ্বের জন্যই হাস্যস্কর বা ব্যঙ্গের বিষয়”. জাপানের সংবাদপত্র “টোকিও সিনবুনের” সাংবাদিক ইওঝি গোমির বই বার করা হচ্ছে কিম চেন নামের সঙ্গে সাক্ষাত্কার ও ইমেইলের উপর ভিত্তি করে. কিম চেন ইরের বড় ছেলে সন্দেহ প্রকাশ করেছেন যে, কিম চেন ঈন, যাকে তাঁদের পিতা দেশের নেতৃত্বের পদের জন্য নির্বাচন করেছেন, সে উত্তর কোরিয়ার জনগনের প্রয়োজন মেটাতে সক্ষম হবে, আর তাকে স্রেফ মনে করেছে নামমাত্র চরিত্র বলে.

“কিম চেন ঈনের প্রশাসন বেশী দিন চলতে পারবে না. সংশোধন না করা হলে উত্তর কোরিয়া ভেঙে পড়বে, আর এমনকি যদি এই রকম হয়ও, এই প্রশাসন বেশী দিন টিকবে না”, - ঘোষণা করছেন কিম চেন নাম ও উত্তর কোরিয়াতে ক্ষমতার জন্য লড়াই চলবে বলে ভবিষ্যদ্বাণী করেছেন.

উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতার শীর্ষপদের জন্য বিশেষ কোন লড়াই হচ্ছে না ও তা হবেও না বলে মনে করেছেন রুশ বিজ্ঞান একাডেমীর সুদূর প্রাচ্য ইনস্টিটিউটের কোরিয়া গবেষণা কেন্দ্রের প্রধান আলেকজান্ডার ঝেবিন, তিনি বলেছেন:

“দেশের কর্তৃপক্ষ ও দলের মুখপাত্রেরা, যা কিম চেন ইর তৈরী করেছেন- এঁরা বৃদ্ধ ও প্রৌঢ় মানুষ, যাঁরা রাজনৈতিক খাঁচাতে আটকে পড়েছেন সেই কিম ইর সেনের সময় থেকেই. তাঁদের মধ্যে, আমার মতে সেই রকমের লোকই নেই, যাঁরা নিজেদের উপরে দেশ পরিচালনার গুরুভার নিতে সক্ষম, আর তাঁদের জন্যই কিম চেন ঈন, হতে পারে, সবচেয়ে সহজ ও আইন সঙ্গত চরিত্র, যাতে তার উপরে সমস্ত দায়িত্ব চাপিয়ে দেওয়া যেতে পারে, আর নিজেরা পরামর্শদাতার ভূমিকায় থেকে যাওয়া যেতে পারে. তার উপরে বিভিন্ন দেশেই, দেশের নেতৃত্বে থাকার পদ বিগত কিছু কালের মধ্যে খুবই বিপজ্জনক হয়েছে.  যথেষ্ট হবে শুধু সাদ্দাম হুসেইন ও মুহাম্মর গাদ্দাফির কথা মনে করলেই. আমি মনে করি, যদি উত্তর কোরিয়াতে ক্ষমতা নিয়ে কোন লড়াই হয়, তবে তা দেশের প্রথম স্থানের জন্য নয়, বরং নতুন নেতা যাতে বেশী করে শুনতে পান, তার জন্য হবে.

আর কিম চেন ঈন- একেবারেই অন্য প্রজন্মের মানুষ, যার দৃষ্টিকোণ, অভ্যাস, গত শতকের শুরুর জাপান বিরোধী অর্ধ শিক্ষিত গেরিলা যোদ্ধাদের মতো নয়. তিনি দেশের বাইরে বড় হয়েছেন, অন্য মূল্যবোধ নিয়ে গড়া সমাজ দেখেছেন, আর তিনি, অবশ্যই সংশোধন করতে চাইবেন, যা উত্তর কোরিয়াকে আন্তর্জাতিক সমাজের এক সম্পূর্ণ মূল্যের সদস্য দেশে পরিনত হতে সাহায্য করবে”.

তাহলে কিম চেন নাম ও তার উত্তর কোরিয়ার ভাগ্য ও নিজের একই রক্তের ভাইয়ের সম্বন্ধে করা তীক্ষ্ণ মন্তব্যের অর্থ কি? কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেছেন যে, তার পিছনে রয়েছে উচ্চাকাঙ্খা ও দেশের বিরোধী পক্ষের নেতৃত্বে থাকার লক্ষ্য. কিন্তু সকলেই এর সঙ্গে সহমত নন.

কিম চেন নাম বহুদিন আগেই সেই ধরনের জনগনের বোধে ফুর্তিবাজ লোক বলে পরিচিত হয়ে গিয়েছেন. ২০০১ সালে জাপানে নকল পাসপোর্ট সমেত ধরা পড়ার পর থেকেই তার সম্পর্ক তার পিতার সঙ্গে খারাপ হয়ে যায়. কিম চেন ইরের বড় ছেলে চিনের মাকাও রাজ্যে থাকা শুরু করেন. তিনি এইখানের বিভিন্ন ফুর্তির জায়গা আর ক্যাসিনোর নিয়মিত খদ্দের ও তথাকথিত চিনের “উড়নচণ্ডী ধনী যুবসম্প্রদায়ের” মধ্যেই ঘোরা ফেরা করে থাকেন আর মনে তো হয় না যে, নিজেকে ক্ষমতার শীর্ষে বা বিরোধী পক্ষের নেতৃত্বে দেখার আশা করেন. খবর আছে যে, এই মদাসক্ত ও ব্যবসায়ী প্রবৃত্তির লোকটি উত্তর কোরিয়ার ক্ষমতায় থাকার পরিবারের বিদেশী মুদ্রার তহবিলের দেখাশোনা করে. আলেকজান্ডার ঝেবিন মনে করেছেন:

“হতে পারে যে, এই ধরনের ঘোষণা তাকে ব্যক্তিগত ভাবে উত্তর কোরিয়াতে সম্ভাব্য কোন রকমের অনির্দিষ্টপূর্ব ঘটনার থেকে আড়াল করে রাখার জন্যই করা হচ্ছে. আর এমনও হতে পারে যে, দলের সোনা, যা তিনি দেশের বাইরে রেখে সামলাচ্ছেন, তা বাঁচানোর জন্যও করা হয়ে থাকতে পারে”.

       প্রাচ্য বিশারদ মনে করেছেন যে, কিম চেন নাম নিজেকে স্বাধীন চরিত্র হিসাবেই দেখাতে চাইছেন, আর সেই দিয়েই নিজের ব্যক্তিগত উদ্দেশ্য সাধন করতে চাইছেন, আবার একই সঙ্গে পরিবারের স্বার্থ এবং নিজেদের উত্তর কোরিয়াতে থাকা পরিবারের লোকেদের স্বার্থ বজায় রাখতে চাইছেন, তাদের মধ্যে আবার দেশের ক্ষমতার শীর্ষে থাকা লোকেরাও আছেন.