রাশিয়াতে বিশ্ব কাপ ফুটবল, যা ২০১৮ সালে অনুষ্ঠিত হতে চলেছে, তা প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফিফা ও উয়েফার দুই প্রধান ইওজেফ জেপ ব্ল্যাটার ও মিশেল প্লাতিনির বৈঠকের কেন্দ্র বিন্দু হয়েছে, তাতে অংশ নিয়েছেন রাশিয়ার ফুটবল- আমোদী লোকেরাও. ফুটবলের উচ্চ পদস্থ কর্মচারীরাও এই বিষয়ে কোন সন্দেহ প্রকাশ করেন নি যে, রাশিয়া বিশ্বকাপের জন্য সেরা আয়োজন করবে.

আগামী বিশ্বকাপের জন্য আয়োজন নিয়ে বৈঠকের জায়গা বাছা হয়েছিল সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরকে. রুশ বিপ্লবের আঁতুড়ঘর – আর রাশিয়ার প্রথম সরকারি ফুটবল সংস্থার জন্মস্থানকে. এই দিন গুলিতে, রাশিয়াতে এই ঘটনার শতবার্ষিকী পালন করা হচ্ছে. প্রসঙ্গতঃ, এখানে স্মরণীয় দিন নিয়ে কম কথাই হয়েছে, মনোযোগ ছিল বর্তমান ও ভবিষ্যতকে নিয়েই বেশী, ২০১৮ সালের চ্যাম্পিয়নশীপ নিয়ে. আমরা আমাদের সেরা গুণ গুলিকেই তুলে ধরবো, বলে ঘোষণা করে রুশ প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন:

“আমরা চারটি ভৌগোলিক অঞ্চল ও ১৩টি শহরে বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চাইছি. যখন আমি প্লাতিনি ও ব্ল্যাটারকে বলেছিলাম যে, আমি ফুটবল অনুরাগীদের সঙ্গে দেখা করবো, তখন তাঁরা এই পদক্ষেপকে খুবই আশাব্যঞ্জক বলে সমর্থন করেছিলেন, কারণ তাঁরা মনে করেন এঁদেরকে বিশ্বকাপের আয়োজনে অংশ নেওয়াতে টেনে আনা অবশ্য প্রয়োজনীয় শর্ত. এই অংশগ্রহণ বেশ কয়েকটি দিকে হওয়া দরকার. এর একটা দিক হল – স্বেচ্ছাসেবী আন্দোলন, যারা সাংবাদিক অন্য দেশ থেকে আসা পর্যটক, ফুটবল অনুরাগীদের সঙ্গে কাজ করবেন. ফুটবল অনুরাগীদের একই সঙ্গে উচিত্ হবে খেলার জন্য স্টেডিয়াম তৈরীর সময়ে যোগ দেওয়া. আমাদের এখানে সেই রকমের স্টেডিয়াম কম তৈরী হবে না, সুতরাং তাঁদের পরামর্শ ও উপদেশ প্রয়োজন হবে”.

ফিফা ও উয়েফার প্রধানদের ফুটবল অনুরাগীদের সঙ্গে কাজকর্ম বলা যায় না যে অবাক করেছে. ইউরোপে বহুদিন ধরেই ফুটবল অনুরাগীদের সমাজকে এই ধরনের কাজে ডাকা হচ্ছে. এটা স্বাভাবিক অভ্যাস, আর কিছু আয়োজনের বিষয়ে সিদ্ধান্তকে যদি নো হাউ বলা নাও যায়, তাহলেও সেগুলি অসাধারন ও দরকারী. এই সম্বন্ধে বলেছেন ইওজেফ জেপ ব্ল্যাটার:

“রাশিয়াতে সরকার, ফুটবল নিয়ামক সংস্থার কর্মী ও অনুরাগীদের মধ্যে সম্পূর্ণ রকমের যোগাযোগ রয়েছে. আর সেই সব সমস্যা, যা আজ বলা যাক, ব্রাজিলের রয়েছে, যেখানে ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ হতে চলেছে, রাশিয়াতে তা নেই. এখানে কম গুরুত্বপূর্ণ নয় যে, বিশ্বকাপের টিকিট হবে ফুটবল অনুরাগীদের জন্য দেশে ঢোকার ভিসা. রাশিয়া এই ধরনের গুরুতর পদক্ষেপ নিয়েছে. এটা দারুণ সিদ্ধান্ত”.

প্রসঙ্গতঃ, ভিসা সমস্যার সমাধান- এটাই একমাত্র পদক্ষেপ নয়, যা রাশিয়া বিশ্বকাপ সেরা ভাবে আয়োজনের জন্য নিতে চলেছে, এই কথা উল্লেখ করে ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন:

“আমরা এখন বিচার করে দেখছি যাতে ফুটবলের দর্শকেরা এই টিকিট ব্যবহার করে রাশিয়ার শহর গুলির মধ্যে বিনামূল্যে যাতায়াত করতে পারে. আর আমরা আমাদের পোল্যাণ্ডের বন্ধুদের কাছেও খুবই কৃতজ্ঞ হবো, যদি তাঁরা এই বছরে তাঁদের দেশে ইউরোপীয়ান কাপ প্রতিয়োগিতার সময়ে এই ধরনের সুযোগ আমাদের দেশের ফুটবল অনুরাগীদের দেন”.

এখানে বলা উচিত্ হবে যে রাশিয়ার পক্ষ থেকে বিশ্বমানের প্রতিযোগিতায় বিনা ভিসায় প্রবেশ করতে দেওয়ার অভিজ্ঞতা এর মধ্যেই হয়েছে. চ্যাম্পিয়নস্ লীগের খেলায় ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও চেলসি দলের খেলার সময়ে. ২০০৮ সালে মস্কো শহরে এই দল গুলির ফুটবল অনুরাগীরা বিনা ভিসায় রাশিয়ার রাজধানীতে অতিথি হতে পেরেছিলেন ২৪ ঘন্টার জন্য.